ঢাকাবুধবার , ২২ মে ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

লালমাটির এই ক্যাম্পাস যেন জীববৈচিত্র‍্যের প্রানকেন্দ্র:

মৃধা প্রকাশনী
মে ২২, ২০২৪ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

লালমাই পাহাড়ের কোলে গড়ে উঠা বিস্তর এলাকা জুড়ে অবস্থিত কুমিল্লার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের কাছে ক্যাম্পাসটি লাল মাটির ক্যাম্পাস নামে পরিচিত।  এই ক্যাম্পাস জীববৈচিত্র‍্যের সকল বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জল। এই ক্যাম্পাসে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা সকল শিক্ষার্থীদের ঘুম ভাঙে পাখিদের কলকাকলিতে। অতিথি পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে যেন প্রকৃতি তার আপন সুরে মেতে উঠে। তাইতো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে গড়ে তুলেছেন পাখিদের জন্য একটি অভয়ারণ্য। সন্ধ্যা হলে শেয়ালের ডাকের রোমাঞ্চতা উপভোগ করা যায় এই ক্যাম্পাসে। গাছে গাছে দৃষ্টিগোছর হয়  রঙ-বেরঙের ফুল। নানান ফুলের সুবাসে সুবাসিত হয় পুরো ক্যাম্পাস। বিভিন্ন ফুলের পানে দৃষ্টিপাত করলেই মৌমাছির মধু সংগ্রহের অপরূপ দৃশ্য দৃষ্টিগোছর হয়, প্রজাতি আপন মনে ফুলের সৌরভে বিমোহিত হয়ে ডানা মেলছে মুক্ত আকাশে, বিভিন্ন কীটপতঙ্গ উড়ে গিয়ে ফুলে ফুলে পরাগায়ন ঘটাচ্ছে ইত্যাদি। প্রায়শই বিভিন্ন বন্যপ্রানী ক্যাম্পাসে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে একাডেমিক ভবন গুলো পর্যন্ত সারিবদ্ধ বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতি, প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে বাহারি জাতের ফুলের বাগান,  মুক্তমঞ্চ থেকে কাঠালতলা, বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গনে ফার্মেসী বিভাগের ঔষধী বাগান এবং ক্যাফেটেরিয়া থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত বাহারি জাতের বৃক্ষ দিয়ে সমাদ্রিত এই ক্যাম্পাস। বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের আশ্রয়স্থল যেন এই বৃক্ষরাজি গুলো।

ক্যাম্পাসের টিলাগুলোর সুউচ্চ দালান থেকে এক নজরে বিভিন্ন জীব, উদ্ভিদ ও কীটপতঙ্গের মধ্যে কি অসাধারন পারস্পরিক সহাবস্থান লক্ষ করা যায়। একই যায়গাতে প্রানী ও কীটপতঙ্গ গুলো তাদের খাদ্যের জোগান পায়। এই ক্যাম্পাসে উদ্ভিদ, প্রানী, অনুজীব ও কীটপতঙ্গদের মধ্যে যে আন্তঃসম্পর্ক দেখা যায় তা জীববৈচিত্র‍্যকে অন্যতম মাত্রায় নিয়ে যায়। পাখিরা বাসা বাধার জন্য উপযুক্ত যায়গা নির্বাচনে আসে, কুকুর-বিড়াল ক্যাফেটেরিয়ার বর্জ্য থেকে খাদ্য জোগার করে, বন্য শেয়ালগুলো পাহাড়ি বিভিন্ন প্রানী, কীটপতঙ্গ থেকে খাবার সংগ্রহ করে। মাঝে মাঝে কাঁঠালতলায় কাঠবিড়ালীদের দৌড়ঝাপ দেখা যায়। কোনো সময় নানান জাতের সাপের অস্তিত্ব ও টের পাওয়া যায় অনায়াসে।  কুকুরগুলো যেন ক্যাম্পাসে এক একটা নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কাজ করে।

এছাড়াও বিকেল বেলা দর্শানার্থীদের লোকারণ্যে মুখরিত থাকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। জীববৈচিত্র‍্যের অসাধারণ মেলবন্ধনের জন্য অরণ্যে ঘেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি পর্যটন কেন্দ্রের মত লোকমনে জনপ্রিয়। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য্যের সাক্ষী হতে শ্রান্ত শরীর প্রানবন্তে করে এই ক্যাম্পাসে গা ভাসায় অনেক পর্যটক। প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেন সারাদিনের ক্লান্তি নিমিষেই দূরীভূত হয়। সারাদিনের ক্লাস, পরীক্ষা, এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ইত্যাদি শেষ করে বন্ধুরা আড্ডা জমায় নিবিড় প্রকৃতির এই ক্যাম্পাসে। এমন মনমুগ্ধকর ক্যাম্পাসের অংশ হতে পেরে শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা গর্বিত। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এই প্রাঙ্গন গড়ে উঠায় এটি জীববৈচিত্র‍্যের প্রানকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। এ যেন জীববৈচিত্র‍্যের অসাধারণ এক আঁতুড়ঘর।

ওমর ফারুক ইমন
শিক্ষার্থী, গনিত বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
ছবি সংগ্রহ: প্রভালোচন
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial