ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ মে ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

টকিংটম

মৃধা প্রকাশনী
মে ১৬, ২০২৪ ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

পরিবেশ থম থমে। কে যে কখন চলে আসে, তাই আতঙ্ক কাজ করছে। এই বুঝি কেউ এসেই গেলে। কান পেতে দেখি না কেউ আসেনি। এতো অস্থির থাকতে দেখে সে জিজ্ঞেস করলো, কিরে এতো অস্থির দেখাচ্ছে কেন??
আরে কিছু না তুমি যাও তো। এতো কি জিজ্ঞেসা কিসের, দেখছো না বসে আছি। আচ্ছা যা ইচ্ছা করো।
সে চলে যেতে আরো অস্থির অস্থির লাগছে। মনে মনে ভাবলাম ডাক দিব নাকি। আরে না থাক ডাক দেবার দরকার নাই। বাইরে কালো মেঘ করেছে, মনে হচ্ছে দিন শেষে চারোদিকে গোধূলি নেমে আসলো। তবুও এখন যে দুপুর তা মনে রাখতেই হবে। খনকাল দেরি হলো না বৃষ্টি শুরু হলো, একটা ভালো লাগা শুরু হলো। আবার চিন্তা, অস্থিরতা বেরে গেলে। তাই একটা বই নিলাম, সময়টা যাতে ভালো কাটে। বই পড়তে পড়তে সেই দিন গুলোর কথা মনে পরলো, যখন তারুণ্য ভর করেছিল, কত ঘোরা-ঘুরি, হই-হুল্লোর, আড্ডা, গান আরো কত কিছু। ভার্সিটি লাইফ যেন বাঁচার এক অন্য মাত্রা যুক্ত করে দিলো, যখন আমি তার সান্নিধ্য পাই। সে আর এক রোমাঞ্চ।
দেখা তেমন সিনেমাটিক ছিল না কিন্তু মানিয়ে নিতে নিতে দুজনেই দুজনার সাথে মিশে গেছি। তার সাথে বসে গল্প করা রুটিন হয়ে গেছিল, মনে হতো তার সাথে আমি সব সময় আছি, ফোনের যোগাযোগ তো ছিলই, সাথে চিঠির মাধ্যমটা আরো গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছিল। আমরা বিশেষ দিনকে সামনে রেখে চিঠিতে যোগাযোগ করতাম খাম, পেপার সব মিলিয়ে দারুন স্মৃতি। সব এখনও গচ্ছিত আছে, মাঝে মাঝে স্মৃতিচরণ করি, একান্তে।
বৃষ্টিতে ভেজার রোমাঞ্চ পাইনি, তাও বৃষ্টিতে এক ছাতার নিচে বৃষ্টি ছুতাম। গল্প হতো।
রাগ করা ছিল প্রত্যাশিত সভাব। তাই এ নিয়ে সমস্যা হওয়ার আগেই মানিয়ে নিতাম। বৃষ্টির মাঝে চা খাওয়া, রিক্সায় শহর ঘোরা, আহ! কি সময়টাই না পার করেছি।
হঠাৎ আওয়াজ আসলো, কি হয়েছে তোমার? কি চিন্তা করছো এতো? কিছু এমনি, আর তোমারে না বলছি কিছু না, এখন আবার…
থাক থাক আর আসবো না তুমি থাকো তোমার মতো।
আবার বই হাতে পড়া শুরু করলাম। একটা লাইন ছিল,” তুমি ছিলে বলেই আমি ছিলাম, তুমি থাকবে বলেই আমি থাকব, তবুও তোমাকে পাওয়ার স্বাধ আমার এ জীবনে হলো না”। আবার স্মৃতিতে চলে গেলাম। সেও ছিল সেই সুন্দর দিন গুলোতে, সুন্দর ছিল তোমার স্পর্শ গুলো। তুমি এখনও আছো আমার স্মৃতিতে, তবু বস্তবে নেই, আপশোস। তোমায় পাবার স্বাদ মনে হয় আমার কপালে ছিল না, ছিলনা দুজনের সংসার করার কপাল। আমি আছি, বেশ আছি, তোমায় না পাবার কষ্ট আজও আমায় কুরে কুরে খায়। কোন এক কাল বৈশাখ এসে তোমায় নিয়ে গেল। পারলাম না আমি তোমায় রাখতে। তুমি তার ডাকে সারা দিয়ে চলে গেলে, আমার ভালোবাসাও তোমায় আটকে রাখতে পারলো না। তোমায় শেষ দেখা দিতে পারলাম না, হাসপাতালের ১৫ বেডে তোমার দেহ রেখে মন নিয়ে চলে গেছো।
কলিং বেল বেজে উঠলো, হঠাৎ করেই কেপে উঠলাম। আবার বাজলো, তাড়াতাড়ি দরজা খুলতেই ডেলিভারি ব্যক্তি উপহার নিয়ে দাড়িয়ে আছে। বললাম সব ঠিক আছে তো? হ্যাঁ, স্যার সব ঠিক আছে, নিজে দাড়িয়ে থেকে প্যাকিং করে নিয়ে এসেছি। ভালো ভালো। তুমি বরং আরেক দিন এতো বাসা থেকে চা খেয়ে যেও। না না থাক এসবের দরকার নাই। আরে না তুমি এক বাক্যে সব ম্যানেজ করে দিলে তাই বললে কি হয়, আচ্ছা দাড়াও ঠান্ডা শরবত খেয়ে যাও।
তার সাথে আমার পরিচয় এক ডেলিভারি দিতে এসে। টাকা দিয়ে বললাম এগুলো যদি এনে দিতে পারেন তাহলে খুব উপকৃত হতাম। সেও রাজি হলো। আজ নিয়ে আসার কথা ছিল। সময় মতোই নিয়ে আসছে। যাক মনের অস্থিরতা কমলো। এবার তাকে ডাকলাম, কোই গো আসো এদিক। আসতেই উপহার তার সামনে। আরে কি আছে এর মধ্যে? খুলেই দেখো না।
তোমার কি আমাকে বাচ্চা মনে হয়?
না বাচ্চা মনে হয় না। তবে আমি জানি তুমি বাসায় একাকিত্ব অনুভব করো, তাই তোমার জন্য এই টকিংটম। সে নির্বাক হয়ে চেয়ে রইলো কিছু বললো না।

 

সৌরভ বৈদ্য
ঢাকা কলেজ

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial