ঢাকারবিবার , ১২ মে ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

জীবন গন্তব্যের অবিচল অনুপ্রেরণার নাম

মৃধা প্রকাশনী
মে ১২, ২০২৪ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মা নামটি শুধু একটি শব্দই নয়, এর মাঝে জড়িয়ে আছে অন্তহীন আদর, স্নেহ ও ভালোবাসা। ছোট্ট এই মধুর নামটি আমাদের জাত, পরিচয় ও শেকড়ের রূপরেখা দান করে। ছেলেবেলা থেকে আদর-যত্নে বড় করা এই মহান মানুষটি আমাদের জীবনে অসামান্য তাৎপর্য বহন করে। চলার পথে ক্রমান্বয়ে হোচট খাওয়ার সাথে সাথেই হাজির হয় আমাদের এই মমতাময়ী মা। সন্তানের জন্মলগ্ন থেকেই মা সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করার স্বপ্ন বুনে। সন্তানদের স্বপ্ন পূরনে সকল বাধা-বিপত্তি শক্ত হাতে মোকাবিলা করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলে মা। এ যেন জীবন যাত্রায় সহস্র সংগ্রাম পাড়ি দেওয়া অপ্রতিরোধ্য এক সাহসী সৈনিক। এই মা নামক সৈনিকের সমস্ত পরিশ্রম আমাদের ঘিরে। দশমাস দশদিনের লালিত স্বপ্ন একদিন বাস্তবায়ন হবে এই আশা নিয়েই মায়েরা বাচে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় এই, আমরা মায়েদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করছি না। প্রতিটি ধর্মই মায়ের প্রতি সম্মান ও অধিকার পালনের তাগিদ দেয়। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মায়ের সেবায় নিয়োজিত থাকো, কেননা তাঁর পায়ের নিচেই জান্নাত।’ কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, বর্তমান যুগে প্রায়ই দেখা যায় বৃদ্ধ হলেই মা কে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে তার সন্তান। মুহুর্তেই যেন মায়ের সকল স্বপ্ন, প্রেরণা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। বুকে পাথর ও অশ্রুসিক্ত নয়নে মা পাড়ি জমায় বৃদ্ধাশ্রম নামক অগ্নিকুণ্ডে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস মা অপেক্ষা করে একদিন ছেলে আসবে, আমায় নিয়ে যাবে।  কিন্তু হৃদয়ের এই আর্তনাদ কেউ শুনেনা। অন্যদিকে কেউ কেউ  মা কে  বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠালেও পারিবারিক যেকোনো সিদ্ধান্তে মায়ের মতামতের গুরুত্ব দিতে চায়না। মা বঞ্চিত হয় তার প্রাপ্য সম্মান থেকে।  যেই মা নিজের সারাজীবনের সবটুকু সুখ জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেকে সন্তানের জন্য বিলিয়ে দিয়েছে সেই মায়ের প্রতি কতই না হেয়ালিপনা! মায়ের ঔষধের ঝুড়ি প্রায় খালি হয়ে যায়, বার্ধক্যের বোঝায় মা বহুমাত্রিক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরনোর পর ও সন্তানদেরই বোধোদয় হয়না।

কিন্তু হওয়ার কথা ছিলো ঠিক বিপরীত৷ বটবৃক্ষের মত ছেলেবেলা থেকে আজ পর্যন্ত যে স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেছে তা স্মরণে রেখে মায়েদের প্রতি সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য গুলো পালন করা উচিত। জীবন গন্তব্যে মায়েদের মুখে ছোট একটি প্রাপ্তির হাসি ফুটাতে পারলেই আমরা জীবনে খুজে পাবো সার্থকতা। মায়ের কন্ঠে “খোকা খেতে আয়” ডাকার কি সুমধুর সুর আমাদের জীবনের প্রিয় সুর গুলোর মধ্যে একটি।  মনের গহীন কোনায় সেই সুর গেথে রাখার যে তৃপ্তি সেটা পৃথিবীর কোথাও খুজে পাওয়া অসম্ভব। মায়ের বুনা বর্ণীল স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের এগিয়ে চলাই হবে আমাদের সাফল্যের চাবিকাঠি। মায়ের অনুপ্রেরণা বুকে ধারন করে করা যায় সকল অসাধ্য সাধন। তাই আজ এই মা দিবসে অফুরন্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই পৃথিবীর সকল মা কে যারা আমাদের জীবনের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র।

ওমর ফারুক ইমন 
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial