ঢাকারবিবার , ২৮ এপ্রিল ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

বৃক্ষহত্যার কর্মফল

মৃধা প্রকাশনী
এপ্রিল ২৮, ২০২৪ ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সেঁজুতি মুমু

রৌদ্রের তীব্র  তেজে জনজীবন অতিষ্ট, ক্লান্ত!
মৃদু সমীরেরও মেলে না দেখা, অল্প পরিশ্রমেই মানুষ বড় শ্রান্ত!
জলাশয় যাচ্ছে শুকিয়ে, নদীতে নেই পরিমিত পানি।
শ্রাবণীর পাত্তা নেই, জনজীবনে বড় গ্লানি।
ছত্র মাথায় উপরে ধরে  দাঁড়িয়ে রাস্তায় বিদ্রুপ করে বললাম, “শোনো হে মামা মার্তন্ড।
আপন অর্ধাঙ্গিনীর সঙ্গে করেছ কলহ, তার ক্রোধ আমাদের উপর ঝেরে কেন দিচ্ছ এই দন্ড!”
অট্টহেসে বললেন দিবাকর, “ওরে মূর্খ মানবজাতি, এ নয় ক্রোধ আমার।
এ তোদের অর্জিত কর্মফল,তোদের কর্মের ফলেই আজ তোরা সহ্য করছিস এ বিষাদ।”
আশ্চর্যিত হয়ে বললাম,”আমরা স্রষ্টার সৃষ্টি, মানবজাতি, আমরা ধরনীর সন্তান, তাকে দিন কে দিন করছি আরও সুন্দর, এই কি মোদের অপরাধ?”
আবারও হাসিতে গড়াগড়ি দিয়ে বললেন আদিত্য, “সুন্দর করছিস তোরা পৃথিবীকে এও আজ হলো শুনতে?”
ক্রোধে বললাম, “করো না অপমান, গড়েছি অট্টালিকা, বানিয়েছি দালান, বানিয়েছি মোবাইল আরও কতকি! তোমার জীবন শেষ হবে তার সংখ্যা গুনতে গুনতে!”
এবার মৃদু হেসে বললেন ভাস্কর, “তা অবশ্য বলিস নি ভুল, তোরা বৃক্ষ কেটে, বন ধ্বংস করে গড়েছিস অট্টালিকা, কলকারখানায় গড়েছিস গাড়ি,
ধরনীকে উপহার দিয়েছিস বিষাক্ত পবন।
শুধু কি তাই, তোরা যে বড় সাধু অকালে কেটে আমার বৃক্ষ ভাই বোনদের, তাদের অস্থি দিয়ে তৈরি করে কাগজ লিখেছিস তাতে, বাঁচাতে জীবন করো বৃক্ষ রোপন!
এ যেন ঠিক, নিজেই হত্যা করে, সাধু সাজতে মৃতের আত্মার শান্তি কামনা করা!
আসলেই তোদের হাতে ধরনী সুন্দর হয়েছে, তোদের জন্যই আজ এই রুপ ধারণ করেছে ধরা!”
কুন্ঠিত হয়েছি তবে হার না মেনেছি, সৃষ্টির সেরা জীব যে আমরা!
তাই দিলাম উত্তর,”শোনো হে মামা দিবাকর দিও না মিছে অপবাদ।
যা করছি তা এই ব্রহ্মান্ডের কল্যাণ সাধনে, অতিক্রম করছি  কত যে বিপদ!
আচ্ছা তুমি কেন করছ ওই বৃক্ষদের তোষামোদ?
তুমি কি তাদের হয়ে আমাদের কাছে  নিতে এসেছ প্রতিশোধ?”
গম্ভীর স্বরে বলল মামা,” ওরে মূর্খ আমি মানব নই যে করব ঈর্ষা।
আমরা শুধু জানি বিধাতার ন্যায়, তিনিই বিধান করেন কবে কোথায় হবে কর্মফলের বর্ষা।”
এভাবে চলছিল আমাদের বিতর্ক।
স্রষ্টার দূত হয়ে এসেছেন স্বয়ং অর্ক।
বললেন তিনি, “শোন এবার কি বলেছে খুন হওয়া সেই বৃক্ষদের আত্মা।
শোন তারা কি চেয়েছে, আর কি বলেছেন পরমাত্মা। “
হঠাৎ তীব্র আলোয় আমার নয়ন যুগল হলো বন্ধ, খানিক পরে চোখ মেলে দেখি সামনে এক উজ্জ্বল স্নিগ্ধ পবিত্র আলো আর তাঁর সামনে রয়েছে ক্রন্ধনরত সেসব বৃক্ষদের আত্মা।
এবার বুঝলাম সে আলোর আড়ালে রয়েছেন স্বয়ং বিধাতা!
ক্রোন্ধনরত তরুরা বলছিল বিধাতাকে, ” ওহে প্রভু, তুমি তো আমাদের আয়ু দিয়েছিলে শতবর্ষ ।
কিন্তু ওই মানবজাতি আমাদের দেখতে দিল না এক অধিবর্ষ!
কি দোষ ছিল প্রভু আমাদের।
আমরা তো ওদের ছায়া দিয়েছি, কাঠ দিয়েছি, আহার দিয়েছি।
তবু কেন এই বিশ্বাসঘাতকতা করল ওরা? উচিত শাস্তি দাও ওদের।”
স্নিগ্ধস্বরে বললেন বিধাতা, “করো না তোমরা ক্রোন্দন,
আমার গড়া রীতিতে যে যারে অকারণে বেদনা দিবে  তাকেও করতে হবে রোদন।
কর্মফলের বাইরে কেউ না।
তাই তোমরা করো না রোদন, চেয়ে দেখ ধরনীর দিকে তীব্র তাপে কেমন অতিষ্ট হয়েছে মানবজীবন!”
হঠাৎ সব মিলিয়ে গেল
কোথাও নেই আর সেই আলো।
আত্মগ্লানিতে হাউমাউ করে কেঁদে আমি চাইলাম ক্ষমা।
“হে প্রভু, হে মোর স্রষ্টা, দয়া করে দাও আরেকটি সুযোগ, এই পাপের করব প্রায়শ্চিত্ত, করব বৃক্ষ রোপণ, হে বিধাতা শেষ বারের মতো আমারে করো মার্জনা।”
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial