ঢাকাবুধবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

নগরী হোক শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামো

হাছিব আহমদ
এপ্রিল ২৪, ২০২৪ ১:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

হাছিব আহমদ

 

বর্তমানে নগরের অবস্থা খুব একটা সুবিধার নয়। আমাদের নগরগুলো নারী ও শিক্ষাবান্ধব নয়। এ নগর সবার জন্য নয়। এ নগর সবলের জন্য। আমাদের নগর বৈষম্যমূলক ও বিভক্ত। নগরে যে শ্রেণিবৈষম্য ও বিভক্তি আছে, তা বহুতল ভবনের ছাদে উঠলেই বোঝা যায়।

প্রথমে আমি শিক্ষাবান্ধব শহর নিয়ে বলতে চাই। এখানে শিক্ষা বান্ধব বলতে একটি শহরে শিশুর অধিকার,তারুণ্যের অধিকার,সকল শ্রেনী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা প্রভৃতি নিশ্চিত হচ্ছে কি না সেটা বোঝায়।

 

আমরা দেখতে পাই, পাবলিক পলিসি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব নগরের অধিকার বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকে না। শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। তারা কারও সম্পত্তি না। আমরা হয়তো মনে করতে পারি, তারা মা-বাবার সম্পত্তি৷ এটাও ঠিক না। তারা মূলত রাষ্ট্রেরই অংশ।

 

জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো আজকের শিক্ষার্থীরা এবং তারা দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার। তারা একদিন বড় ও সফল হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। জন্ম দেবে এক গৌরবময় ও ঐতিহ্যপূর্ণ অধ্যায়। তাই আগামী প্রজন্মের আলোকিত শিক্ষার্থীদের নিজেদের বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ। যেখানে একজন শিক্ষার্থী নিজেকে নিজের মতো করে তৈরি করার সুযোগ পায়। সুশিক্ষার মাধ্যমে তরুনদের জন্য আদর্শ পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে একজন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। তবে অনেকের জন্য আদর্শ কিংবা শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই। অনেক মনোবিজ্ঞানীর মতে, শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ বলতে শিক্ষার্থীদের চলাফেরা,পড়াশোনা ও কাজকর্মের প্রতিটি স্থানকে তারুণ্যের  উপযোগী হওয়াকে বোঝায়। যেমন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত বাসগৃহ ও পড়াশোনার জায়গা  যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও সবকিছু সুসজ্জিত থাকা। বিশ্বায়নের এ যুগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

 

বর্তমান যুগে অর্থনৈতিক অবকাঠামো পরিবর্তনের ফলে শহরের পিতামাতাদের  অধিকাংশই কর্মজীবী বা চাকরি করতে হচ্ছে এর ফলস্বরূপ তারা সন্তানদের লেখাপড়া ও বেড়ে ওঠায় সময় দিতে পারছে না। ফলে তারা সুষ্ঠভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। যদিও অধিকাংশ পিতামাতাই শিক্ষিত কিন্তু শিশুর মেধা ও মনন বিকাশে যে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের প্রয়োজন আছে তা সম্পর্কে তারা অবগত নন।

 

অন্যদিকে গ্রামের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক শহরের শিক্ষার্থীদের তুলনায় সম্পূর্ণ অন্যরকম শৈশব পার করে থাকে। তারা গ্রামীণ পরিবেশে পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়ির মস্তবড় আঙিনায় বা বাড়ির আশপাশের বিশাল মাঠে খেলাধুলা করে, গাছে চড়ে, নদীতে ও পুকুরে মাছ ধরে এবং সাঁতার কেটে দুরন্ত শৈশব পার করে থাকে, যা তাদের সুষ্ঠ মন-মানসিকতা বিকাশে ও সুন্দর শৈশব গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা শহরের চোখ ধাঁধানো অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা পায় না ঠিকই কিন্তু সেখানে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের অভাব নেই বললেই চলে। তাই তারা শহরের শিক্ষার্থিদের চেয়ে মানসিকভাবে সুস্থ, সুন্দর ও সমৃদ্ধির অধিকারী হয়ে থাকে। শিক্ষা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো শৈশবকাল। শিক্ষার্থীদের বেড়ে ওঠার জন্য এ সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় পারিবারিক পরিবেশ যেন নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব হয়, তার প্রতি যেমন অভিভাবকদের যত্নশীল থাকা প্রয়োজন। একইভাবে বিদ্যালয়ের পরিবেশ শিক্ষাবান্ধব রাখার প্রতি শিক্ষকদের ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সব গুণাবলি, বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার যাবতীয় ব্যবস্থা পরিবারে ও বিদ্যালয়ে সুনিশ্চিত থাকা প্রয়োজন। বিদ্যালয় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের সামাজিক বিকাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম।

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হলো শিক্ষার্থী।পরিবার থেকে ছোট্ট শিক্ষার্থীদের বাইরের পৃথিবীতে পদার্পণ করে মূলত বিদ্যালয়ে আগমনের মাধ্যমে। যদিও বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কিছুটা পরিচয় তাদের আগেই ঘটে থাকে। কিন্তু অজানা জগতকে জানতে-বুঝতে  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আগমন হলো পরিবারের বাইরে শিক্ষার্থীদের প্রথম পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের কেন্দ্রবিন্দু হলেও তাদের গড়তে শিক্ষকদের ভূমিকাই আসল। পরিবারের সদস্যদের বাইরে শিশুর প্রধান ভরসাস্থল শিক্ষক। তাই শিশুবান্ধব বিদ্যালয়ের পরিবেশ তৈরি শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল। শহরের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে অবকাঠামো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শিশুর জন্য উন্মুক্ত খোলামেলা পাঠদানের ব্যবস্থা করা শিক্ষার্থীদের  পড়ালেখা ও প্রতিভা বিকাশে এবং শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ গঠনে সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামাজিক পরিবেশ দ্বারা একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। সুস্থ-সুন্দর সামাজিক পরিবেশ শিক্ষার্থীর মেধা ও মননশীলতা বিকাশে অত্যাবশ্যকীয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। তাই সমাজ হতে হবে শিক্ষা বান্ধব ও তারুণ্যর শিক্ষা উপযোগী। সমাজে সমবয়সী ও বড়দের কাছ থেকে একজন ছোট্ট শিক্ষার্থীরও অনেক কিছু শেখার আছে। শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াতসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমাজেরই দায়িত্ব। সামাজিক সচেতনতাই শিক্ষার্থীর জন্য সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলার মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে।

 

এজন্য নিম্নোক্ত কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপযোগী পরিবেশ গঠন করা যেতে পারে । যেমন, ১. সমাজকে শিক্ষার্থী চিত্তবিনোদনের জন্য খেলার মাঠ, ক্লাব, পাঠাগার প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নিতে হবে। ২. সমাজকে সব শিক্ষার্থীর জন্য নিশ্চিত করতে হবে তার মৌলিক চাহিদাগুলো। ৩. বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থীর যেন ঝরে না পড়ে সেদিকে সমাজের লোকজনের সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে। ৪. প্রতিটি শিক্ষার্থীর  নিরাপত্তা, স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, ভালো আচরণ ও আনন্দমূলক শিক্ষাসহ সব বিষয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। ৫. দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন সেমিনার ও উৎসাহমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে শিক্ষার্থীর বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে অতিসম্প্রতি কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সাফ সিএসএসপি প্রকল্প শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী বান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বলে জানা যায়।শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এখন শুধু সময়ের দাবি নয়, বরং সকল শিক্ষার্থী ও আলোকিত মানুষের অন্যতম অধিকার। কাজেই ঢাকা শহরকে শিক্ষা বান্ধবদের সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে এই তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের  বাসোপযোগী শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ গড়ায় আমাদের মনে এ বিশ্বাস নিয়েই কাজ করতে হবে,  ‘আজ যে তারুণ্য পৃথিবীর আলোয় এসেছে আমরা তার তরে একটি সাজানো বাগান চাই’ আজকের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের শিক্ষার্থীদের সুন্দর ও উজ্জ্বল আগাম উপহার দিতে পারে। যা হতে পারে এই পৃথিবী পরিবর্তনের একমাত্র হাতিয়ার যার বিনিময়ে আমরা পাব একটি আদর্শ জাতি,উন্নত,আলোকিত জাতি ও উজ্জীবিত তারুণ্য শিক্ষাবান্ধব সমাজ।

 

লেখক: শিক্ষার্থী,মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial