ঢাকারবিবার , ২১ এপ্রিল ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

দরজায় দাড়িয়ে

মৃধা প্রকাশনী
এপ্রিল ২১, ২০২৪ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দরজায় দাড়িয়ে
_______________
আমি চিন্তা মগ্ন

তোমাতে…….

বাইরে পাসলা বৃষ্টি, মৃদু বাতাসও বইছে। এতেই চৈত্রের গরম সরে শীত অনুভুত হচ্ছে।

বাহির থেকে কে যেন ডাকে। শুনেই নিজের হুস ফিরলো। “কিরে সারাদিন বাইরে বের হোলি না, এখন চল ঘুরে আসি” রাতুলের গলায়। কেন বাইরে বৃষ্টি..!

শেষ হবার আগেই, সে তো কখন থেমে গেল। কি বলোস? ঘরের চৌকাঠ পের হলে তো দেখবি- রাতুলের গলায়। আচ্ছা চল সারাদিন শেষে শরীরটাকে একটু নাড়িয়ে আসি।

রাতুল, ফুটবল খেলবি? নিয়ে আসবো? ওর আবার ফুটবলে অনেক নেসা। নাহ্ থাক। আজ আর ভালো লাগছে না। অন্যদিন হবে। তুই শুধু অন্যদিন অন্যদিন করোস। আরো এখন আর এসব ভালো লাগে না, তখন একটা উত্তেজনা কাজ করতো, এখন….

কি এখন কি?? বল, আজ বলতেই হবে। প্রতিদিন এমন আধো আধো কাহিনি শুনতে শুনতে ভালো লাগে না, বিরক্ত হয়ে গেছি। আজ না বললে আমি তোর সাথে ওই বাড়ির দিকে যাব না।

আরে আরে এমন করোস কেন? তুই জানিস আমি ওখানেই একটু শান্তি পাই। আর তাতেই তুই….

হইছে আর আবেগ দিয়ে আঘাত করা লাগবে না। চল তবে যাই। কিন্তু আজ বলতেই হবে।

সে বলবনে, চলতো আগে। হুম চল।

কথায় কথায় খাল পাড় চলে এসেছি। বৃষ্টি না থাকলেও মৃদু শীতল বাতাস বইছে। একটু ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে। খালে ছোট ছোট ঢেউ উঠেছে। এই ছোট ছোট ঢেউ কেমন যেন ভালো লাগে, ছোট বেলার কথা মনে পরে যায়। মনে পরে যায় সেই নৌকায় ভ্রমণের কাহিনি। মাঝেই পরে একটা ইটের প্রাচীন ঘাডলা। একটু বসার কথা বললো রাতুল। একটু ধমকের সুরেই না বললাম। কারণ মেঘে দিনের আলো আর কিছু সময় থাকবে, তাই তাড়াতাড়ি যেতে হবে।

বাড়ির গেটে চলে এসেছি। বাড়িটা একদম রাজপ্রাসাদ। কি নেই সেখানে! দোতলা বাড়ি, যা বাড়ির তিন দিক দিয়ে ঘেরা, পূর্ব পাশে মন্দির আর দুই পাশে বসত ঘর। দক্ষিণে পুকুর, চার পাশে সারি সারি নারিকেল গাছ, এক কোনে বৈঠক খানা। আহ্! দেখলেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। কত কত সময় পার করেছি এখানে। কত আড্ডা দিয়েছি। কত দিন নির্জন রাতে চাঁদের আলোয় চাঁদকে দেখতে এসেছি তার হিসেব নেই। পুকুরে পাড়েই আরেকটা ঘাটলা যদিও এটা খাল পাড়ের ঘটলার থেকে অনেক নকশা করা কিন্তু কালের বিবর্তনে সবই মুছে গেছে প্রায়। ছোট সময় পাঠশালা শেষ করেই চৈত্রের দুপুরে স্নানে নামতাম, যতক্ষণ বাড়ি থেকে কেউ পিটিয়ে না নিয়ে যেত। আহ্! কি সময়।

এখন শহরে বসে সেই স্মৃতি চারণ করি।

এই বাড়িটায় কত মায়া। বাড়ি ছিল পরিপূর্ণ।

কত পার্বণ, কত মানুষ কিন্তু এখন মানুষ বিহীন। সবাই যে সেই যুদ্ধে চলে গেলো আর দেখা পেলাম না। তার আমার এই অশ্বথ গাছটার নিচেই শেষ দেখা হলো। তাকে আর পাওয়া হলো না।

তখন ছিলাম বছর বিশের ছোকরা এখন…

এখন ৭৪…

কত পরিবর্তন হলো, কিন্তু তাকে পাওয়ার ইচ্ছাটা আর পরিবর্তন হলো না। সব চাওয়া পাওয়া পূরণ হতে নেই। তাহলে পূর্ণতার মূল্য থাকবে না।

৫৪ বছর পরে সেই দরজায় দাঁড়িয়ে…

 

 

সৌরভ বৈদ্য
ঢাকা কলেজ

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial