ঢাকারবিবার , ১৪ এপ্রিল ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

বাংলা নববর্ষের সূচনা ও বাঙালী জাতির ঐতিহ্য

মৃধা প্রকাশনী
এপ্রিল ১৪, ২০২৪ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সুমাইয়া নূর

বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ হলো বাঙালি জাতির ঐতিহ্যের বাহক ও ধারক।এই বাংলা নববর্ষ কিভাবে চালু হলো অনেকেরই তা জানা নেই।আমরা অনেকেই মুলত পড়েছি বা জানি বাংৰা সনের প্রবর্তন করেন সম্রাট আকবর।এ নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্ক রয়েছে। জানা যায়, ষষ্ঠ শতকের শেষ দশকের গুপ্ত সম্রাজ্যের রাজা শশাঙ্ক নিজেকে বঙ্গের স্বাধীন
সার্বভৌম শাশক হিসেবে ঘোষণা করেন।স্বাধীন নৃপতি হিসেবে তার শাসনকালের সূচনাকে স্বরণীয় করে রাখতে তিনি বঙ্গাব্দ সাল চালু করেন।সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বঙ্গাব্দের উৎস কথা গ্রন্থে তিনি বলেন, “সৌর বিজ্ঞান ভিত্তিক গানিতিক হিসেবে ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ ই এপ্রিল, সোসবার, সূর্যদয় কালই বঙ্গাব্দের আদি বিন্দু। ” এছাড়াও ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে আকবর তারিখ ই-ইলাহী নামে একটি সৌর বর্ষপঞ্জী চালু করেন।যার ভিত্তি ছিল ১৫৫৬। আমরা যদি দেখি,১৫৫৬ খ্রি= ৯৬৩ হিজরী।১৫৫৬ কে ৯৬৩ বঙ্গাব্দ ধরে ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে তারিখ ই- ইলাহীর সাথেও বঙ্গাব্দ চালু করেন আকবর।চন্দ্রাবর্ষ হওয়ায় হিজরী ততদিনে একবছর এগিয়ে গেছে। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দ = ৯৯২ হিজরী।এ বছর থেকে যুক্ত হলো ২৯ তারিখ ই-ইলাহী ও ৯৯১ বঙ্গাব্দ।

আকবরের আইনি ই-ইলাহী গ্রন্থে ৩০ পৃষ্ঠা জুড়ে বিশ্বের ও ভারতের বিভিন্ন বর্ষপঞ্জির কালানুক্রমিক বিবরণ রয়েছে। সবশেষে রয়েছে তারিখ ই-ইলাহী।এছাড়াও ভাতের আমর্ত্য শেন তার গ্রন্থে নববর্ষের সুচনা নিয়ে বিষদ আলোচনা করেছেন,তিনি ২০০৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন আকবর নয় বরং রাজা শশাঙ্ক বাংলা সন প্রবর্তন করেন।বাংলা নববর্ষ চালু হয়েছে আজ থেকে বহু বছর আগে।এটি বাঙালি জাতির জীবনে এক আনন্দময় ঐতিহ্যবাহি উৎসব। পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা অর্জন করেছে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ রেকর্ডের তালিকায়। পহেলা বৈশাখের সকালে বাঙালি ছেলে মেয়ে, মহিলা,পুরুষ বৃদ্ধ, বাচ্চা সবাই বর্ণিল সাজে নিজেদের সাজিয়ে তোলে।ছেলেরা পাঞ্জাবি ও মেয়েরা সাদা শাড়ি লাল পার রে থাকে। হাতে নানা রকম চুরি সাথে ঐতিহ্যবাহি গহনা পরতে দেখা যায়। তবে পহেলা বৈশাখের পোশাক নির্ধারিত নয়।বর্ণিল সাজে সাজিয়ে তোলে বাঙালি নিজেদের,এই রঙের মতো যেন রঙিন হয় তাদের জীবন এটাই মুলত অঙ্গিকার।সকালে পান্তা ভাত,সাথে ইলিশ মাছ ভাজা, পাট শাক,শুটকি সহ নানা রকম ভর্তা খেয়ে থাকে।শোভাযাত্রার মাধ্যমে এই উৎসব আরো আনন্দময় হয়ে থাকে।যা বাঙালি জাতির জীবনের এক মিলনমেলার দিন।সবাই যেন বৈশাখের রঙের মতো রঙিন জীবন পার করে এটাই আমাদের কামনা।সবাইকে ১৪৩১ নববর্ষের শুভেচ্ছা।

শুভ নববর্ষ।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial