ঢাকাসোমবার , ৮ এপ্রিল ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

যাকাত; অর্থনৈতিক সাম্যতা এবং সমাজ সংগঠনের মাধ্যম

মৃধা প্রকাশনী
এপ্রিল ৮, ২০২৪ ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

 

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে যাকাত তৃতীয়। কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলে। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের ওপর যাকাত ফরজ। যাকাতের আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা এবং বৃদ্ধি। যাকাত দিলে সম্পদ পবিত্র এবং পরিশুদ্ধ হয়। অনেকে মনে করে যাকাত দিলে তাদের সম্পদ কমে যাবে। এই ধারনাটা সম্পূর্ণ ভুল। আসলে যাকাত দেওয়ার ফলে সম্পদ আরও বেড়ে যায় এবং ধনী- গরিবের মাঝে সমতা বিরাজ করে। ফলে ধনী-গরীবের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি হয়। এতে করে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হয়। মহানবী (স) বলেছেন,
             “যাকাত হলো ইসলামের সেতুবন্ধ” (বায়হাকি)
যাকাতের সামাজিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। যাকতের ফলে সমাজে শান্তি বিরাজ করে। ধনী ও গরিবের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি হয়। নিঃস্ব, দরিদ্র ও দুঃখীদের প্রতি সহানুভূতি তৈরি হয়। যাকাত সমাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। অর্থাভাবে মানুষ অন্যায় কাজ করে। যাকাত মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করে, অভাব দূর করে। অভাবী, বেকার লোকদের হারাম উপার্জন যেমন: চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের কবল থেকে সমাজকে নিরাপত্তা দেয়।

যাকাত মানুষের মনে আল্লাহর প্রতি ভয় সৃষ্টি করে। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি উন্নত, পবিত্র হয় এবং অপচয় রোধ করতে শেখায়। মানুষের সম্পদের প্রতি লোভ ও মোহ দূর হয়। যাকাতের দ্বারা মানুষের আত্মা পবিত্র হয়। যাকাত মানুষকে উদার ও দানশীল হওয়ার শিক্ষা দেয়। নিঃস্বার্থ ও বিনা উপকারে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ব্যক্তি নিয়মিত তার সম্পদের একটা বিপুল অংশ যাকাত হিসেবে আদায় করে। আল্লাহ বলেন,
” এবং তাদের(ধনীদের) ধন-সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতের অধিকার আছে।” (সুরা আয-যারিয়াত:১৯)
যাকাতলব্ধ অর্থ পরিকল্পিত উপায়ে সংগ্রহ ও ব্যয় করা হলে সমাজে অভাব-অনটন থাকবে না। কেননা, সমাজের ধনীদের কাছ থেকে যাকাত সংগ্রহ করে তা গরিবদের সচ্ছলতার জন্যই ব্যয় করা হবে। যাকাত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে বিপুল ও অপ্রয়োজনীয় অর্থের পাহাড় গড়ে অন্যদের বঞ্চিত ও নিঃস্ব রাখার পথ বন্ধ করে দেয়।

কোনো মুসলমান যাকাত না দিলে সে পরিপূর্ণ মুসলিম হতে পারে না। যাকাত অস্বীকার করা আল্লাহ ও তার রাসূলকে অস্বীকার করার শামিল। এটি আদায় করা মুমিনের কর্তব্য। ব্যক্তি পরকালে সফলতা লাভ করবে নাকি তার জীবন ব্যর্থতা ও গ্লানিতে ভরে উঠবে, তা নির্ভর করে তার যাকাত আদায় করা বা না করার ওপর। যাকাত ফরজ হওয়ার পর ব্যক্তি যদি তা যথাযথভাবে আদায় না করে তাহলে তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। যাকাতের পরিমাণটা হবে স্বর্ণ ৭.৫ ভরি এবং রৌপ্য ৫২.২ভরি। নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর ব্যক্তির কাছে থাকতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক ও ঋণমুক্ত হতে হবে। এবং খেয়াল রাখতে হবে যাকে যাকাত দেওয়া হচ্ছে সে যাকাত পাওয়ার যোগ্য কিনা। সর্বোপরি বলতে চাই সমাজকে সুন্দর, বিশৃঙ্খলাহীন এবং সহমর্মিতা ও সহযোগিতায় ভরপুর করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই যাকাত আদায় করতে হবে। কারণ যাকাতের মাধ্যমেই অর্থনীতির সাম্যতা গড়ে উঠে মুসলিম সমাজে।

উর্মি আকতার
শিক্ষার্থী,  কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial