ঢাকাশনিবার , ৬ এপ্রিল ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

কুবি ফার্মা ফ্যামিলির সুন্দরবন ভ্রমণ 

মৃধা প্রকাশনী
এপ্রিল ৬, ২০২৪ ১:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

মায়া জুড়ানো, স্নিগ্ধতার পরশ ছোঁয়ানো ছোটবড় লালমাটির পাহাড় ও গাছপালার ছায়ায় ঘেরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের(কুবি) ক্যাম্পাস। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মোট ১৯টি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। দক্ষ ফার্মাসিস্টের চাহিদা মেটাতে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে একযুগ পুর্বে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে(কুবি) বিজ্ঞান অনুষদের সর্বকনিষ্ঠ বিভাগ হিসেবে ২০১৩ সালে ফার্মেসী বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। ফার্মেসী বিভাগে সবসময়ই পাঠদানের পাশাপাশি পাঠ্যক্রমের বহির্ভূত নানা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। তন্মধ্যে ক্যারিয়ার বিষয়ক সেমিনার, শিক্ষা সফর, ফেস্ট ও ফার্মাসিস্ট ডে পালনসহ ইত্যাদি, তবে এর মধ্যে বাৎসরিক শিক্ষা সফর অন্যতম। এইসকল কার্যক্রম বিভাগের নিজস্ব ক্লাব কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ফার্মেসী সোসাইটি(কাপস) দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। পূর্বের ন্যায় সময় হয়ে যায় আবারো শিক্ষা সফরের, তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা সফরে কোথায় যাওয়া যায় তা নিয়ে শুরু হয় মতামত সংগ্রহ।

ফার্মেসী বিভাগে বর্তমানে অনার্স ও মাস্টার্স সহ বিভাগে মোট ছয়টি ব্যাচ সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাচ ও বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার মতামত আসছিলো যেমন কেউ কক্সবাজার, কেউবা সেন্ট-মার্টিন, সাজেক, রাংগামাটি অথবা সুন্দরবন। আর সেটাই স্বাভাবিক কেননা ব্যাক্তিভেদে পছন্দ ভিন্ন ভিন হয় কারণ কেউ ভালোবাসে পাহাড়, কেউ সমুদ্র ও কেউবা বনজঙ্গল। সবশেষে কাপস কমিটি সিদ্ধান্তে আসতে না পেরে ভোটের ব্যাবস্হা করেন আর একাধিক ভোটের ভিত্তিতে শিক্ষা সফরের স্হান নির্ধারিত হয় সুন্দরবন। তারই নিমিত্তে সফরের তারিখ ঠিক করা, বিভাগের শিক্ষকদের সম্মতি গ্রহণ, চাঁদা নির্ধারন, ট্যুর এজেন্সি ঠিক করা ও গাড়ি ঠিক করাসহ ইত্যাদি সকল কাজের মাধ্যমে বিভাগে ছোট-বড় সবার মাঝে ট্যুরের আমেজ সৃষ্টি হয়।

হাজার বছর পূর্বে হিমালয়ের মাটি ও খনিজ বাহিত হয়ে সৃষ্ট সুন্দরবন একটি প্রাকৃতিক বিস্ময়ের নাম। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বা লবণাক্ত বনাঞ্চল। সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার, যা যৌথভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রয়েছে। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৫৪৬৭ বর্গ কিলোমিটার। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলার অংশ নিয়েই বাংলাদেশের সুন্দরবন। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ সুন্দরবনকে জীব ও উদ্ভিদ জাদুঘর বললেও কম বলা হবে। সুন্দরবনের ১,৮৭৪ বর্গকিলোমিটার জুড়ে রয়েছে নদীনালা ও বিল মিলিয়ে জলাকীর্ণ অঞ্চল। রয়েল বেঙ্গল টাইগার সহ বিচিত্র নানান ধরণের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে সুন্দরবন পরিচিত। এখানে রয়েছে প্রায় ৩৫০ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১২০ প্রজাতির মাছ, ২৭০ প্রাজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ সরীসৃপ এবং ৮ টি উভচর প্রাণী। সুন্দরী বৃক্ষের প্রাচুর্যের কারণে এই বনের নাম সুন্দরবন রাখা হয়। এছাড়াও এর অপর নাম সমুন্দরবন যেটা কালক্রমে পরিবর্তিত হয়ে সুন্দরবনে পরিণত হয়েছে।সুন্দরবন সম্পর্কে বলতে গেলে আরো একটি জিনিস না বললেই নয় যা আমাকে সবচেয়ে বেশি আশ্চার্যিত করেছে তা হলো এখানে প্রচলিত অরণ্যের দেবী রূপে পূজিত বনবিবি,বিবি মা ওলাবিবি,শিশু সন্তান রক্ষাকারী পাঁচু ঠাকুর,কুৃমির দেবতা কালু ঠাকুর ইত্যাদি মিথ বা রুপকথার গল্প। তবে সুন্দরবন বা দক্ষিণবংগে মানুষের পদচারণার পেছনে যার নাম তিনি হলেন খান জাহান আলী রহ:।

যাইহোক এবার চোখ রাখা যাক শিক্ষা সফরের দিকে, আমাদের ট্যুরের প্রতিনিধিত্ব করেছেন কাপসের বর্তমান সহ-সভাপতি ফাহমিদা জামান আপু। প্রমোদভ্রমণের তারিখ নির্ধারিত হয় চৌঠা মার্চ সোমবার কিন্তু এদিকে সময় যেন কাটেনা সবার মনের মধ্যেই উত্তেজনা বিরাজমান সুন্দরবন ভ্রমণকে ঘিরে। শিক্ষা সফরে গিয়ে আমরা কি করবো আর কি করবো না, প্লানিং ও শিষ্টাচার সম্পর্কিত বিস্তারিত মিটিং হয় আগের দিন দুপুরবেলা ১২টায়। অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হাজির হলো কাংখিত সেই দিন।যেহেতু আমাদেরকে খুলনা গিয়ে সকাল বেলা জাহাজে উঠতে হবে তাই কুমিল্লা থেকে রাতে রওনার জন্য একে একে সকল ভ্রমণপিপাসুরা কুবি প্রাঙ্গনে উপস্থিত হয়। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন: ফাস্ট এইড বক্স, বাদ্যযন্ত্র, ব্যানার ইত্যাদি সকল কিছু নিয়ে উঠে যাই বাসে।

সুন্দরবন ভ্রমণের রুটপরিকল্পনা ছিলো প্রথমে বাসে করে কুমিল্লা থেকে খুলনা পৌছানো তারপর জাহাজের মাধ্যমে সুন্দরবনের উদ্দেশ্য রওনা করা। পরিকল্পনা মাফিক ৭৫জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে দুটি বাস নিয়ে চৌঠা মার্চ রোজ সোমবার রাত ১১টার দিকে খুলনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। প্রথম বাসে কামরুল হাসান শিখন স্যারসহ ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীগণ আর দ্বিতীয় বাসে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস ম্যাম, বিদ্যুৎ কুমার সরকার স্যারসহ, ৪থ,৭ম, ৮ম ও ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলো।কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা হয়ে পদ্মা ব্রিজের বুক চিরে পাড়ি দিয়ে প্রায় ২৯৫ কি.মি. দূরে অবস্হিত বিআইডব্লিউটিএ খুলনা নদী বন্দরে পরের দিন সকাল ৭টায় গিয়ে পৌঁছে যায়। এরপরই শুরু হয় জাহাজে নিজ নিজ ক্যাবিনে মালপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র তোলা।

আমাদের ভ্রমণের সঙ্গী হলো মোহাম্মদী ২ জাহাজ।জাহাজে সবার ব্যাগ লাগেজ ঠিকঠাক ভাবে তুলতে তুলতে এক ঘন্টা লেগে যায়। এরপর জাহাজের মালিক ও এজেন্সির কর্ণধার মুজিব আকুন্জি মিলন সাহেব আমাদের পরবর্তী ৩দিনের কার্যক্রম সম্পর্কে নির্দেশনা দেন এবং বেলা সাড়ে আটটা নাগাদ সুন্দরবনের প্রথম স্পট বাগেরহাট জেলার আন্দাররমানিকের উদ্দেশ্য যাত্রা শুরু করেন মোহাম্মদী ২ জাহাজের ক্যাপ্টেন। যাত্রা চলাকালেই আমাদের সবাইকে সকালের নাস্তা পরিবেশন করেন। রূপসা নদীর বুক বেয়ে ভেসে চললাম আমরা পথিমধ্যে খান জাহান আলী ব্রিজ, মংলা সমুদ্র বন্দর অদূরের গ্রাম, সবুজ মাঠ, ক্ষেত দেখতে দেখতে। দপুর বেলা প্রায় ২টা নাগাদ জাহাজ পৌঁছে যায় আন্দারমানিক কিন্তু এদিকে খাওয়ার দুপুরবেলার খাবারের সময় হলে একেবারে খেয়েদেয়ে তারপরই আমরা ছোটো ইঞ্জিনচালিত বোটে করে আন্দারমানিক গিয়ে পৌঁছাই। শেলানদী ও গুষনবাড়ীয়া খালের ত্রিমোহনা চারিদিকে গভীর আরণ্য ও বন্য প্রাণীর সমাহার ৮০০ মিটার ফুট ব্রেইল মিলিয়ে সুন্দর পরিবেশ।সুন্দরবনের মধ্যে আন্ধারমানিক একটি ইকোট্যুরিজম। এখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, পাখি এবং দাগযুক্ত হরিণ ইত্যাদি পাওয়া গেছে।এছাড়াও এখানে পশুর, ধুন্দল, গরান, বাইন, কাঁকড়া, কেওড়া ইত্যাদি গাছও প্রাকৃতিক ভাবে জন্মে।তবে এ বনের প্রধান বৃক্ষ প্রজাতি সুন্দরী এবং গেওয়া । সবাইকে আন্দারমানিক সম্পর্কে খুটিনাটি বিস্তারিত তথ্য দেন মামুন সাহেব আমাদের ট্যুর গাইড।আন্দারমানিক ঘোরা শেষ করে আবারো জাহাজে ফিরে এসে নতুন জায়গার উদ্দেশ্যে ভেসে পড়ি আমরা, এবারে মোটামুটি ৯ ঘন্টার দীর্ঘ যাত্রা শেষে রাত ১২ টার দিকে জাহাজ নোঙর করে কটকা খালে।এযাত্রা পথের গোধূলির সময়ে বন জঙলের গা ছমছম করা নিস্তব্ধতা আমার কাছে বেশি উপভোগ্য ছিলো।আর সন্ধার পরেই মানসুরা তালুকদার আপুর নেতৃত্বে শুরু হয়ে যায় প্রথম দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে রাতের খাওয়া করলেই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে বলেন এজেন্সির কর্ণধার মিলন সাহেব,কেননা পরের দিন খুব সকালে উঠতে হবে বলে।

দ্বিতীয় দিন খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে ইন্জিন চালিত বোটের সাহায্যে কটকা খালের দক্ষিণ দিকে জামতলা খাল দিয়ে পৌঁছে যাই জামতলা বোট টার্মিনালে। এরপর জামতলা ফুট ট্রেইল ধরে হাঁটা শুরু হয় জামতলা সী বিচের দিকে। এই ট্রেইল ধরে সামনে এগোলে চোখে পড়ে নতুন পুরাতন দুটি ওয়াচ টাওয়ার,পশুপাখির জন্য সুপেয় পানির পুকুর, ছনবনে হরিণের চারণ, বানর সহ ইত্যাদি জীবজন্তু । টাওয়ারে যাওয়ার সরু পথের মাঝে মাঝে হেতালের ঝোপ আর টাইগার ফার্ন। বাঘের লুকিয়ে থাকার আদর্শ জায়গা এগুলো।জামতলা ওয়াচ টাওয়ারকে পিছু ফেলে সোজা উত্তরে প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে গেলে জামতলা সমুদ্র সৈকত । পথে চলতে চলতে চোখে পড়ে প্রচুর পরিমানে বিভিন্ন আকারের জামগাছ,এখানেই সৈকতটির নামের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়।এছাড়াও ছাতার মতো দেখতে অনেক কুল গাছ রয়েছে, এগুলো হরিণদের সৃষ্ট ছাতা, ওরা যেটুকু নাগাল পায় খেয়ে পরিস্কার করে, তাই নীচের দিকে এগুলো আর আসতে পারে না। এ দীর্ঘ ফুট ট্রেইলে চলতে চলতে উষার আকাশে পূর্ব দিকে সুর্যকে উঠতে দেখি আমরা। তবে সমুদ্র সৈকত থেকে অবলোকনকৃত সূর্যদোয়ের নয়নাভিরাম দৃশ্য ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সৈকত সেখানে উপস্থিত সকলের মনকে চাঙা করে তোলে।এখানে বেলাভূমি জুড়ে আঁকা থাকে লাল কাঁকড়াদের শিল্পকর্ম।আর জোয়ারের ঢেউয়ে ধুয়ে যাওয়া গাছের শেকড়।আবারো বোট টার্মিনালে এসে কটকা খালের উত্তর দিকে অবস্থিত কটকা অভয়ারণ্যে পৌঁছে গেলাম। কটকা বন বিভাগ কার্যালয়ের পেছন দিক থেকে সোজা পশ্চিমমুখী ইটের তৈরি টেইলের উত্তর পাশের খালটির ভাটার সময় ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদের ঘন শ্বাসমূল দেখা যায়। এ ছাড়া একটু নিরিবিলি স্থানে যেতে পারলে দেখা যায় চিত্রা হরিণের দল।এখান থেকে খানিকটা পশ্চিমে এগুলেই দেখা মিলবে ইট বাঁধানো সংক্ষিপ্ত একটি পথের। এর পরে আরেকটু সামনে গেলে সমুদ্র সৈকত। অভয়ারণ্যে সুন্দরী গাছের চেয়ে কেওড়া গাছের উপস্থিতি নজর কাড়ে। এখানে ঘোরা শেষে আবারো ফিরে আসি মোহাম্মদী ২ তে এবং ভেসে পড়ি নতুন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। পাক্কা ৫ ঘন্টা পর জাহাজ কটকার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে গিয়ে পৌছায় রাসমেলা এবং শুটকি পল্লীর জন্য সুপরিচিত সুন্দরবনের দুবলার চর। আসলে কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝের দ্বীপ এই দুবলার চর। এটি অনেকের কাছে চর মনে হলেও আমার কাছে স্বকীয় এক সৈকত মনে হয়েছে। দুবলার চর মূলত জেলে গ্রাম। মাছ ধরার সঙ্গে চলে শুঁটকি শোকানোর কাজ। বর্ষা মৌসুমের ইলিশ শিকারের পর বহু জেলে চার মাসের জন্য ডেরা বেঁধে সাময়িক বসতি গড়ে সেখানে। এখানকার বাজারে ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে কখন কেউ টেরই পাইনি। যখন টের পেলাম তখন অলরেডি একদল জাহাজে চলে গেছে বাকিরাও তাড়হুড়ো করে ছোটো বোটের সাহায্যে উঠে যাই জাহাজে। সন্ধ্যার পর আবারো শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উভয়ের অংশগ্রহণে নাচ-গান, রম্য বিতর্ক, বিভিন্ন ইনডোর গেইমস ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়। বারবিকিউ পার্টি ও খাওয়া দাওয়া শেষে এবার জমে উঠে সিনিয়র জুনিয়র মিলে আড্ডা যা শেষ হয় প্রায় রাত ৩ টার দিকে।

শেষ দিনে ঘুম থেকে উঠে ছোটো বোটে করে চলে যায় সর্বশেষ স্থান করমজল পর্যটনকেন্দ্রে। পর্যটন কেন্দ্রের প্রথমেই রয়েছে সুন্দরবনের মানচিত্র, যা সুন্দরবন সম্পর্কে মানচিত্র প্রাথমিক ধারণা দেয়। সামনে আঁকাবাঁকা সিমেন্ট তৈরি মাঙ্কি ট্রেইল নামের হাঁটা পথ ধরে এগিয়ে গেলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্রের সমৃদ্ধতা সম্পর্কে অনুমান করা যায়। পুরো ট্রেইল জুড়েই দেখা মিলবে সুন্দরবনের অন্যতম বাসিন্দা রেসাস বানরের। প্রায় আধা কিলোমিটার দক্ষিণে পথের মাথায় একটি শেইড থেকে পশ্চিম দিকে গেলে আরো একটি কাঠের নির্মিত ট্রেইল দেখতে পাবেন। এই পথ আপনাকে নিয়ে যাবে কুমির এবং হরিণ প্রজনন কেন্দ্র এবং পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে। এই টাওয়ার থেকে আশেপাশের সৌন্দর্য্য দেখে আপনার মন নিশ্চিত প্রশান্তিতে ভরে যাবে।দেশে প্রাকৃতিকভাবে কুমির প্রজননের একমাত্র কেন্দ্র এখানে অবস্থিত। সামনেই ছোট ছোট অনেকগুলো চৌবাচ্চা। কোনটিতে ডিম ফুটে বের হওয়া কুমির ছানা, কোনটিতে মাঝারি আকৃতির আবার কোনটিতে আরও একটু বড় বয়সের লোনা জলের কুমিরের বাচ্চা। এসকল কিছু পর্যবেক্ষণ শেষে সবাই মিলে ছবি তুলে আবারো ইন্জিন চালিত বোটের মাধ্যম পশুর নদী থেকে সুন্দরবন দেখতে উঠে পড়ি আমরা। সবকিছু শেষে এবার মোহাম্মদী ২ এর বাড়ি ফেরার সময় হয়ে যায়। জাহাজের মধ্যে এবার শুরু হয় র‍্যাফেল ড্র, সবচেয়ে মজার ছিলো শিক্ষকদের নামের টিকেট নিলামে তোলা। তারপর দুপুরের ভূরিভোজ সেরে আমরা জাহাজ থেকে নেমে বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই, পথিমধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘোরা ও মাওয়াতে বিখ্যাত ইলিশ সাথে বেগুন ভাজা দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে পরের দিন সকাল ৯টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পৌছাই।

গানের আসর,হাসি, ঠাট্টা রঙ্গ তামাশা, নাচ, গান ও গল্প গুজবের মধ্য দিয়ে ফার্মা ফ্যামিলির সকলের তিনদিন কোনদিক দিয়ে শেষ হয়ে গেছে কেউ টেরই পাইনি। ট্যুর শেষে একটাই উপলব্ধি যে ডিপার্টমেন্টের এমন ট্যুর সবার জীবনেই আসুক।বাংলাদেশের ফুসফুস বলা হয় সুন্দরবনকে কিন্তু দিনে দিনে এই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের বাস্তুসংস্থান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আইলা, সিডর, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি সকলকিছু থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করে চলছে এই বন। আবার সাধারণ মানুষের কাছে এগুলো শুধুই গাছপালা কিন্তু আমাদের মতো ফার্মাসিস্টদের চোখে পুরো বনই বিভিন্ন রোগব্যাধির ঔষধের উৎস। তাই আমাদের দেশের সরকারসহ সকলের উচিৎ সুন্দরবনকে রক্ষায় একত্রে কাজ করা।

আল মাসুম হোসেন
শিক্ষার্থী, ফার্মেসী বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
01936725911
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial