ঢাকাসোমবার , ২৫ মার্চ ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

তার অপেক্ষায়

মৃধা প্রকাশনী
মার্চ ২৫, ২০২৪ ৮:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোফাজ্জল হোসেন (শান্ত)

 

রিফাত বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সে নিজের লেখা-পড়ার পাশাপাশি টিউশনি করায়। মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র রবিকে সে পড়ায়। রিফাত প্রতিদিন বিকালবেলা টিউশনিতে আসতো এবং টিউশনি শেষ করে সন্ধ্যার আগ মূহুর্তে সে তার হল রুমে ফিরে যেতো। তবে সে টিউশনিতে আসতে প্রায়ই পাথের ধারে সুন্দরী মাঝবয়সী এক মেয়েকে এলোমেলো চুলে পাগলী বেশে পথ চেয়ে বসে থাকতে দেখতো। এবং সে যখন টিউশনি শেষে একই পথ ধরে তার হলরুমে ফিরতো তখন দেখতো সূর্যমামা তার গন্তব্যে ঢলে পড়ার আগ মূহুর্তে বয়স্ক এক লোক এসে সেই মেয়েকে জোর করে বাড়িতে নিয়ে যেতো। যদিও সে যেতে চাইতো না। রিফাত নিজেকে প্রশ্ন করতো, সেই মেয়েটি কেন প্রায়ই পাগলী বেশে পথের ধারে বসে পথ চেয়ে থাকে? আর ঐ বয়স্ক লোকটাই বা কে যে প্রতিদিন সেই মেয়েকে জোর করে বাড়িতে নিয়ে যায়?

রিফাত তার প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আজ দ্রুত টিউশনি শেষ করে, সেই পাগলী মেয়েটি থেকে একটু দূরে, বয়স্ক লোকটির জন্য অপেক্ষা করছে। আঁধার নামার আগ মূহুর্তে সেই বয়স্ক লোকটির দেখা মিললো। রিফাত দৃঢ় পায়ে সেই লোকটির কাছে গিয়ে সালাম দিলো এবং জিজ্ঞেস করলো, চাচা মেয়েটি আপনার কে হয়? আর মেয়েটি প্রায়ই এখানে এসে পথ চেয়ে বসে থাকে কেন?

লোকটি রিফাতের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললো, আমি ওর বাবা। ওর নাম আদিবা। সিফাত নামের এক ছেলের সাথে ওর বিয়ে হয়েছিলো। সিফাত ছিল মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। আর আমি ছিলাম সেই বিদ্যালয়ের হেড মাস্টার। সিফাত এই গ্রামের-ই সন্তান। সে খুব ভালো ছাত্র এবং আমার প্রিয় ছাত্র ছিল। সে লেখা-পড়া শেষ করে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তার পেশা জীবন শুরু করে। আর আদিবা ছিল তখন দশম শ্রেণীর ছাত্রী। সে সিফাতকে পছন্দ করতো। প্রায়শ সে আমার কছে সিফাতের প্রশংসা করতো। আর ওদিকে সিফাতো আদিবাকে পছন্দ করতো। কিন্তু দুইজনের কেউ-ই তাদের পছন্দের কথা একে অপরকে জানাই নি। আমি বুঝতে পেরে সিদ্ধান্ত নিলাম, ওদের দুইজনের বিয়ে দিবো। তাই একদিন সিফাতকে আমার অফিস কক্ষে ডেকে আমার মেয়ে আদিবার সাথে তার বিয়ের সিদ্ধান্তের কথা জানালাম। সিফাত মুখে কিছু না বললেও মাথা নাড়িয়ে হ্যা সূচক সম্মতি দিল। বাড়িতে এসে আদিবাকেও জানালাম। আদিবা লজ্জায় ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে বললো, আব্বা আমি আপনার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। আপনি যা ভালো মনে করেন তাই হবে। অতঃপর ওদের দুই জনের বিয়ে হলো। ওদের সংসার জীবন বেশ সুখেই কাটছিলো। তবে এই সুখ বেশি দিন থাকেনি। হঠাৎ নেমে এলো কালো ছায়া।  ওদের বিয়ের ঠিক ৮ মাস পরেই শুরু হলো যুদ্ধ। এ যুদ্ধ আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ। এ যুদ্ধ আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশকে রক্ষার যুদ্ধ। আমি সিফাতকে বললাম, এই দেশ আমাদের, এই দেশ রক্ষার জন্য আমাদের যুদ্ধ করতে হবে, আমি যুদ্ধে যাবো। সিফাত বলল, না বাবা, যুদ্ধে আমি যাবো। আপনি গেলে আদিবাকে কে দেখে রাখবে? আপনি আদিবার সাথে থাকুন।

অতঃপর সেই দিন রাত্রেই আরো কিছু যুবকদের সাথে যুদ্ধের যাত্রা করে সিফাত। যুদ্ধে যাওয়ার আগে সিফাত এই পথের ধারেই আদিবাকে বলেছিলো, তুমি চিন্তা করো না, তুমি অপেক্ষা করিও, দেশকে মুক্ত করে আমি আবার আসবো ফিরে। আর আমাকে বললো,  বাবা দোয়া করবেন, আর ওরে দেইখা রাইখেন। এই বলে অশ্রুসিক্ত চোখে ছেলেটা সেই যে বিদায় নিলো, আর আসলো না সে ফিরে। যুদ্ধ শেষে স্বাধীন হলো এ দেশ, কেটে গেলো কত শত দিন, এখনও খোঁজ মেলেনি সিফাতের। ছেলেটা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে কিছুই জানি না। আজও মেয়েটা বসে থাকে পথ চেয়ে তার অপেক্ষায়।

 

লেখক: শিক্ষার্থী; ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial