ঢাকাসোমবার , ১৮ মার্চ ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ঈদ কেনাকাটায় ও ইফতারে বর্ণিল সমাজ

মৃধা প্রকাশনী
মার্চ ১৮, ২০২৪ ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সুমাইয়া নূর

প্রতিবছর ঘুরে মুসলিম জাতির জীবনে আনন্দ বয়ে আনে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযাহা। তবে বেশির ভাগ মানুষ ঈদুল ফিতরের কেনাকাটায় একটু বেশি জোর দিয়ে থাকে, কেউবা দুটোতেই।ঈদ আসলেই যেন ধুম পরে যায় নানা রকম কেনাকাটায়।সমাজের ধনী লোকেরা বড় বড় শপিংমল থেকে হাজার হাজার টাকার কেনাকাটা করতে ব্যস্ত,,একদিনে কেনাকাটা শেষ না হলে দুচারদিন করে।নতুন জামা,শাড়ি, পাঞ্জাবি, ব্রান্ডের জুতা,কোনাকিছুর যেন শেষ নেই। যেটা ভালো লাগছে সেটাই কিনে নিচ্ছে।  হরেক রকম পোশাকে নিজেদের সজ্জিত করে ঈদ উদযাপন করে। অথচ আমাদের সমাজে নানা শ্রেণির লোক বাস করে, ধনী মধ্যবিত্ত,গরিব। ঈদ একটা জাতির হলেও ঈদ উদযাপন টা তাদের যেন ভিন্ন।

 

শহরের বড় বড় শপিংমলে যখন মানুষ কেনাকাটা করতে ব্যস্ত তখন এক গরিব রিক্সাওয়ালা রোজা থেকে প্রচন্ড রোদে পুড়ে রিকশায় যাত্রী তুলে তার গন্তব্যে পৌঁছে দিতে ব্যস্ত,,,তার একটাই চিন্তা দিনশেষে উপার্জন টা নিয়ে কিছু চাল ডাল কিনে স্ত্রী সন্তানের সাতে দুবেলা দুমুঠো ভাত খাওয়া। রিকশাওয়ালা বাবার ইচ্ছে থাকা সত্বেও তার সাধ্য থাকেনা তার ছেলে বড় শপিংমল থেকে একটা শার্ট কিনে দেওয়ার, দিনশেষে বাড়িতে ফেরার পর ছেলের বায়না ধরা, নতুন জামা কাপড় চাই, সেই গরিব বাবা বুকে চাপা কষ্ট রেখে এক গাল হাসি দিয়ে তার সন্তানকে নতুন পোশাক কেনার কথা দেয়। কিন্তু সেই বাবা নিজেও জানেনা তার সন্তানকে আদও সে একটা নতুন পোশাক কিনে দিতে পারবে কিনা ঈদে।

 

সারাদিন রোদে পুড়ে খাটুনি খাঠে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে, যেখানে মানুষ নানা রকম পোশাক পড়ে ঈদ উদযাপন করে সেখানে সমাজে এই নিম্ন শ্রেণির লোকেরা নিজের সাধ্য মতো সাধারণ মার্কেট থেকে কেউ বা রাস্তার ফুটপাতের জামা পরেই মহা আনন্দে ঈদ উদযাপন করে। সারাদিন রোজা রেখে ইফতারে বাহারি রকমের ফল,মুখরোচক খাবার দিয়ে ইফতার করি। কিছু মানুষ পানি মুখে দিয়ে ঠান্ডা ভাত দিয়েও ইফতার সেরে নেয়,,, তাতে নেই তাদের কোন অভিযোগ হাসিমুখে কত সুন্দর ভাবে কাটিয়ে দিচ্ছে এসব খাবার খেয়ে,সমাজের উঁচু শ্রেণির লোকেরা এত এত টাকা খরচ করে পোশাক কিনছে নানা রকম খাবার দিয়ে ইফতার করছে, তারা কি পারে রাস্তার পাশে পরে থাকা বৃদ্ধটাকে একটা নতুন পোশাক কিনে দিতে, তারা কি পারেনা যে রিকশাওয়ালা মামা রোজা থেকে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিলো তাকে একটু ইফতার করাতে? অথচ সামান্য পাঁচ টাকা বেশি চাইলে আমরা তাদের গায়ে হাত দিয়ে বসি,এটাই কি আমাদের শিক্ষা? এই আমরা সমাজের উঁচু শ্রেণির লোক? কোথায় আমাদের মানবিকতা, কোথায় বিবেক,আমদের চিন্তাশক্তি কি লোপ পেয়েছে? হয়তো তাই। যদি তাই না হতো আজ আমাদের আসেপাশে এত লোক না খেয়ে পরে থাকতো না, একটা ভালো পোশাক পরার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বেঁচে থাকতো না।কত টাকাই আমরা অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করে থাকি, আমরা কি পারিনা নিজের সামর্থ মতো গরিব দুঃখীকে কিছু টা খাবার একটা ভালো পোশাক উপহার দিতে? আমরা সবাই একই রক্তে মাংসে গরা মানুষ অথচ আমাদের চিন্তা, আমাদের বিবেক,আমাদের জীবন কতটা ভিন্ন! আমরা সবাই যদি দুস্থ মানুষের পাশে থাকি, খুব বেশি না হলেও তাদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারবো।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial