ঢাকারবিবার , ১৭ মার্চ ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

৭ ই মার্চ, রেসকোর্স ময়দান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ একই সুতায় গাথা

মৃধা প্রকাশনী
মার্চ ১৭, ২০২৪ ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

 

আজ ” আমি বাংলাদেশের নাগরিক ” এ কথাটা বুক ফুলিয়ে বলতে পারার পেছনে ৭ই মার্চ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অসীম। আমরা বাঙালী আজ বাংলার মাটিতে যখন  ৭ই মার্চকে পাই সেই মূহুর্তে আমাদের অহংকার হয় যে  একাত্তরের ৭ ই মার্চ ও বঙ্গবন্ধুর মতো একজন নেতাকে বাঙালি জাতি পেয়েছিল আমরা পেয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোর একটি। এ ভাষণকে গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ (১৮৬৩) বক্তৃতা ও মার্টিন লুথার কিং (জুনিয়র) এর ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ (১৯৬৩) ভাষণের সঙ্গে তুলনা করা হয়। ১৮৬৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতিকে একতাবদ্ধ করার জন্য গেটিসবার্গে মাত্র ৩ মিনিটের এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়েছিলেন যা ইতিহাসে অত্যন্ত খ্যাতি লাভ করে। প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ গেটিসবার্গ ভাষণের মতোই ইতিহাসের এক অনন্য দলিল।

একজন মা যেমন সন্তান কান্না করলে বুঝতে পারেন যে তার ক্ষুধা লেগেছে,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও বাঙালিদের ক্ষুধা, প্রয়োজন বুঝতে পারতেন এবং সমাধানের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিতেন যা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়।আমরা দেখতে পাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন বাঙালিদের মাঝে জ্বালানির অভাব, চেতনার অভাব, বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্নকে লালন করার অভাব দেখেছিলেন সেই মুহুর্তে তিনি সেই একাত্তরের ৭ই মার্চে চেতনাময়ী ভাষণ ও গাইডলাইন প্রদান করেছিলেন। ৭ কোটি বাঙালিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যবোধ সৃষ্টিতে ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। বঙ্গবন্ধুর বাণী ছিল মন্ত্রমুগ্ধের মতো। তিনি যেমন তাঁর ভাষণে ভাইয়েরা আমার বলে সম্বোধন করেছিলেন তেমনি বাঙালিদেরকেও পরস্পর ভাই ভাই হিসেবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সেদিন বাঙালি জাতির মধ্যে সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্ত্ববোধের সৃষ্টি করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। অনন্য ভাষণটি অধিকারবঞ্চিত বাঙালির শত সহস্র বছরের সংগুপ্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের উচ্চারণে সমৃদ্ধ। দীর্ঘ ২৩ বছরে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাঙালি জনগণের মধ্যে যে তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভ জন্ম হয়েছিল মাত্র ১৮ মিনিটের (মতান্তরে ১৯ মিনিটের ভাষণে তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সাবলীল ভঙ্গিমায় অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হন। শুধু অভিযোগ ও বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি। ক্ষান্ত হননি, একই সঙ্গে আপামর বাঙালির মুক্তির পথও বাতলিয়েছেন তিনি তাঁর ভাষণে। এজন্য এ ভাষণ ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ। বঙ্গবন্ধু তাঁর পাণ্ডিত্য ও তেজোদীপ্তময় ঘোষণার মধ্য দিয়ে এদিন বাংলাদেশের

স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।একজন নেতার একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ একটি পুরো জাতিকে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ ও আমরণ সংগ্রামে উদবেলিত করতে পারে তার অনন্য নজির হয়ে আছে এই ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। সেদিন বঙ্গবন্ধুর জ্বালাময়ী বক্তৃতা লাখ লাখ মানুষকে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

এই ভাষনের শক্তিকে ধারণ করেই কিন্তু বাঙালিরা উজ্জীবিত হয়েছিল দেশকে স্বাধীন করার চেতনায়। যার ফলশ্রুতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে একবারের জন্যও পিছু তাকায়নি। আর তাদের ত্যাগের ফলাফল আজকের বাংলাদেশ, “আমি বাংলাদেশের নাগরিক “একথা বলার শক্তি।

ইতিহাস থেকে জানা যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  অবদানের অসীমতা। তিনি কখনও নিজেকে নিয়ে ভাবতেন না অন্যকে নিয়ে ভাবতেন এবং জনগণকে নিয়ে বাঙালিদেরকে ভাবাতে শিখাতেন। তিনি কখনও নিজের খাওয়া নিয়ে ভাবতেন না বরং অপরকে খাওয়ানোকে নিয়ে ভাবতেন। তিনি কখনো নিজের পোশাক পরা নিয়ে ভাবতেন না বরং অপরকে পোশাক পরানো নিয়ে ভাবতেন। তিনি কখনও নিজের কষ্টকে নিয়ে ভাবতেন না বরং অঅআমজনতার কষ্ট বুকে লালন করে সেসব কষ্টের সমাধানকে নিয়ে ভাবতেন। এমন একজন মহান নেতাকে পেয়ে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগন সারাজীবন অহংকার বোধ করেছিল, করছে এবং এই পৃথিবীতে যতদিন সূর্যোদয় হবে ততদিন এই অহংকার বহমান থাকবে সূর্যের কিরণের মতো,রাতের তারার মতো, পূর্ণিমা রাতের চাদের মতো।

সুতরাং শেষলাইনে বলতে চাই, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই বাংলার উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন,  আছেন এবং এই পৃথিবীতে যতদিন প্রকৃতির অস্তিত্ব থাকবে ততদিন তিনি কোটি কোটি বাঙালিদের অন্তরে উজ্জ্বল প্রদীপের মতোই থাকবেন।

 

লেখক, মো. আব্দুল ওহাব

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সদস্য, তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

Wohabbuipur@gmail.com

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial