ঢাকাশনিবার , ৯ মার্চ ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

দারিদ্রতা দূরীকরণে দানবীর-সম্পদশালীদের করণীয়

জুবায়ের আহমেদ
মার্চ ৯, ২০২৪ ৭:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জুবায়ের আহমেদ

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। গৃহস্থী এই দেশের অধিকাংশ নাগরিকের মূল পেশা। তবে স্বল্প সংখ্যক মানুষই বড় গৃহস্থ ছিলো। অন্যরা পরের জমিতে চাষাবাদ কিংবা দৈনিকভিত্তিতে কৃষি কাজের মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করতো। বৃটিশ আমল থেকেই এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে অস্বচ্ছল। ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা সম্পন্ন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে ধনী ব্যক্তি আরো ধনী হচ্ছে এবং দরিদ্র ব্যক্তি দরিদ্রই থাকছে। ফলে দিন দিন দেশের নাগরিকদের মাথা পিচু আয় বাড়লেও ঘুরছে না দরিদ্র মানুষের ভাগ্যের চাকা। অর্থনৈতিক এই বৈষম্যের কারনে দেশে নানা প্রকার সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অর্থনৈতিক ভাবে দেশ এগুতে থাকলেও অসংখ্য জনসাধারণ মানবেতর জীবন যাপন করছে।

সম্পদশালী ব্যক্তিদের উপর যাকাত আদায় করা ফরজ। প্রতি বছর যাকাত খাতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হলেও যাকাতের মূল উদ্দেশ্য দারিদ্রতা দূর করা সম্ভব হচ্ছে না যাকাতের সুষ্টু ব্যবস্থাপনা না থাকার কারনে। দেশের অধিকাংশ যাকাত আদায়কারী ব্যক্তিই শাড়ী লুঙ্গি অর্থাৎ বস্ত্রের মাধ্যমে যাকাত আদায় করে, যা আপাত দৃষ্টিতে যাকাত প্রদান মনে হলেও যাকাতের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। যাকাতের উদ্দেশ্য হলো এমন ভাবে যাকাত প্রদান করা, যেন যাকাত গ্রহণকারী ব্যক্তিটি পরবর্তী বছর থেকে অন্য ব্যক্তিকে যাকাত দিতে পারে। বাংলাদেশে যাকাতের এই মূল উদ্দেশ্য দারুণ ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অবশ্য দেশে বহু ফাউন্ডেশন বিদ্যমান আছে, যারা দারিদ্রতা দূরকরণের জন্য গৃহপালিত পশু অথবা রিক্সা-ভ্যান-সিএনজি প্রদান করছে।

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অথবা শহরে সুদভিত্তিক লেনদেনের রীতি দিন দিন মহামারি আকার ধারণ করছে। বড় বড় ব্যবসায়ীরা ব্যবসার জন্য ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করলেও সাধারণ মানুষজনের বিশেষ টাকার প্রয়োজনে কারো কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার বিপরীতে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করতে হয়। গ্রামাঞ্চলে কারো কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা নিয়ে বছর শেষে তাকে পরিশোধ করতে হয় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। এইক্ষেত্রে যিনি ৩০ হাজার এর পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা নেন, তিনি মানবিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন অর্থাৎ সুদভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা এতোটাই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে পৌঁছে গেছে যে, সুদের লেনদেনের মাঝেও মানবিক অমানবিক ব্যাপার ঢুকে গেছে, যেখানে সুদ ব্যবস্থা মানেই অমানবিক কাজ।

সম্পদশালী ব্যক্তিদের মধ্যে যারা দানবীর এবং নিয়মিত যাকাত আদায় করেন। তাদের মাধ্যমে সমাজ থেকে সুদের কারবার চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার সুযোগ থাকছে, প্রয়োজন সদইচ্ছার অর্থাৎ যিনি প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা যাকাত প্রদান করেন, তিনি খুচরো করে বহুজনকে যাকাত প্রদান না করে কোন এক বা সামর্থ্য অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তিকে যাকাত প্রদান করে ব্যবসা অথবা গৃহপালিত পশু পালনের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন, যার মাধ্যমে ব্যক্তিটির সাবলম্বী হওয়ার সুযোগ থাকে। এছাড়াও বছর জুড়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে সুদের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করার যে অমানবিক রীতি বিদ্যমান তার থেকে সমাজকে মুক্ত করার জন্য দানবীর-সম্পদশালী ব্যক্তিরা চাইলে কর্জে হাসানা অর্থাৎ যত টাকা হাওলাত প্রদান করা হচ্ছে, ঠিক তত টাকাই ফেরত গ্রহণ করা হবে নির্দিষ্ট সময়ের পরে। সম্পদশালী ব্যক্তিরা যদি এভাবে তাদের যাকাতের অর্থ ব্যয় করে এবং মানুষকে হাওলাত প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে সমাজ থেকে সুদের কারবার এবং দারিদ্রতা দূর হতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

এইক্ষেত্রে মানুষকে হাওলাত দিলে পরিশোধের বেলায় গড়িমসি করে, এমন কথা উঠতে পারে। তবে যেসকল সম্পদশালীরা সহযোগিতা করবে, তাদের যেহেতু হাওলাত বাবদ দেয়া অর্থ ফেরত নিয়ে কিছু করার তাড়না থাকবে না এবং সহযোগিতাই মূল উদ্দেশ্য, সেহেতু ঐ ব্যক্তিকে ব্যবসা অথবা পশু পালনের শর্তে এবং নির্দিষ্ট ফরমে স্বাক্ষর নিয়ে হাওলাত দেয়ার রীতি চালু করা জরুরী। যেন ভালো ভাবে ব্যবসা করে পরিশোধের তাড়না থাকে। যেহেতু সম্পদশালীদের অনেকেরই ফাউন্ডেশন থাকে, যেখান থেকে দরিদ্র মানুষদের সহায়তা করা হয়। শুধুমাত্র সহায়তার ক্ষেত্রে দারিদ্রতা ও সুদ দূর করার মানসিকতা দেখানো জরুরী। এইক্ষেত্রে অবশ্যই ধর্মপ্রাণ ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে, যাদের মূল উদ্দেশ্য থাকবে সমাজ থেকে সুদ ও দারিদ্রতা দূর করা। কেউ না কেউ এভাবে এগিয়ে আসলে অবশ্যই অন্যরাও এগিয়ে আসবে এবং দেশ থেকে দূর হবে দারিদ্রতা ও সুদ নামক মহামারি।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial