ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৭ মার্চ ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

উচ্চ শিক্ষায় মেয়েদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে

মৃধা প্রকাশনী
মার্চ ৭, ২০২৪ ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন যথার্থই বলেছিলেন, “আমরা পুরুষের ন্যায় সাম্যক সুবিধা না পাইয়া পশ্চাতে পড়িয়া আছি।” বাংলাদেশের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল যার বাস্তব উদাহরণ। ২০২৩ সালে এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় গড় পাশের হার ছিল ৭৮.৬৪ শতাংশ, যেখানে ছাত্রীদের পাশের হার ৮০.৫৭ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাশের হার ৭৬.৭৬ শতাংশ। একই চিত্র পরিলক্ষিত হয় ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষায়, যেখানে গড় পাশের হার ছিল ৮৭.৪৪ শতাংশ। ছেলেদের ৮৭. ১৬ শতাংশ এবং মেয়েদের ৮৭.৭১ শতাংশ। শুধু পাশের ক্ষেত্রেই নয় জিপিএ প্রাপ্তিতেও ২০২২ ও ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে মেয়েরা এগিয়ে। অভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হয় ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রেও। ২০২২ সালের মোট ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছেলে পরীক্ষার্থী ছিল ৯ লাখ ৯৮ হাজার ১৯৩ জন এবং মেয়ে শিক্ষার্থী ৯ লাক্ষ ৯৫ হাজার ৯৪৪ জন । পাশকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল, ছেলে ৮ লাখ ৭০ হাজার ৪৬ জন এবং মেয়ে শিক্ষার্থী ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৩ জন। অর্থাৎ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উভয় ক্ষেত্রেই মোট মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও তাদের পাশের হার, ছেলে শিক্ষার্থীদের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছেলে শিক্ষার্থীর তুলনায় বেশি থাকলেও উল্টো চিত্র পরিলক্ষিত হয় উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে । বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এর তথ্য মতে, উচ্চ শিক্ষায় মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৩৬.৩০ শতাংশ। অথচ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৫৪.৬৭ শতাংশ এবং ৫১.৮৯ শতাংশ । তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সংখ্যা কম থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশ ডিপার্টমেন্টে সিজিপিএ প্রাপ্তিতে ছেলে শিক্ষার্থীর তুলনায় মেয়ে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। উদাহরণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু বিভাগ যেমন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, নিত্যকলা বিভাগ, রসায়ন বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগগুলোতে সিজিপিএ প্রাপ্তিতে মেয়েরা এগিয়ে। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার দুই- তৃতীয়াংশ অংশ বাস করে গ্রামে। উচ্চ শিক্ষায় শহুরে মেয়েদের অবস্থা তুলনামূলক ভালো হলেও গ্রামে মেয়েদের অবস্থা অনেকটা নাজুক এখনো।

 

গ্রামে এখনো মেয়েদের কেবল পারিবারিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রবণতা অধিক মাত্রায় পরিলক্ষিত হয়। যার ফলে সুযোগের অভাবে গ্রামের মেয়েরা উচ্চ শিক্ষা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে । পরিবারের পিতা-মাতা ও অন্যান্য সদস্য ছেলেদের শিক্ষা গ্রহণের কথা চিন্তা করলেও মেয়েদের বেলায় কেবল বয়স ১৪-১৫ বছর হওয়ার অপেক্ষা করে এবং এই সময় পর্যন্ত স্কুলে পাঠায়। ১৪-১৫ বছরে প্রবেশ করলে অনেক পিতা-মাতা মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়। তবে বর্তমানে শিক্ষার প্রসার, বাল্যবিবাহ রোধে প্রশাসনের সতর্ক দৃষ্টির ফলে অনেক পিতা মাতা মেয়েদের এসএসসি এবং এইচএসসি পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহী করলেও মিলছে না উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ। গ্রামীণ মেয়েদের শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো পিতা-মাতা মেয়েদের শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিক খরচ মেটাতে না চাওয়ার প্রবণতা, সরকারের পক্ষ থেকে বৃত্তি বা আর্থিক ব্যবস্থা না থাক, পাশাপাশি অনেক পরিবারে পিতা-মাতা মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে সচেতন হলেও সমাজের লাঞ্ছনা-গঞ্জনার ভয়ে পিতা-মাতা মেয়েদেরকে আবাসিক হোস্টেলে রেখে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেয় না।

 

গ্রামীণ সমাজের মানুষেরা ধারণা করে মেয়েরা বাড়ি ছেড়ে আবাসিক হোস্টেলে থাকলে খারাপ হয়ে যাবে। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক পিতা-মাতা সমাজের ভয়ে এবং পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য মেয়েদের আবাসিক হোস্টেলে রেখে শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করে না। অর্থাৎ মেয়েরা সুযোগের অভাবে নিজেদের একনিষ্ঠ মনোযোগ দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও নিজেদের মেধার সঠিক ব্যবহার করতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে দেশের সরকারকে উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে পর্যাপ্ত বৃত্তি-ভাতা ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থার মাধ্যমে। গ্রামীণ সমাজে উচ্চ শিক্ষায় নারী গুরুত্ব বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। তাহলে দেখা যাবে শুধু এসএসসি বা এইচএসসির ফলাফল নয় সুযোগ পেলে বাংলাদেশের মেয়েরাও একদিন ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা কিংবা মাদাম কুরি এর মত উচ্চ শিখরে পৌঁছাবে। তার জন্য দেশ সমাজের এবং সমাজকে নিজ নিজ অবস্থা থেকে এগিয়ে আসতে হবে এবং সমাজে নারীরা যে সকল প্রতিবন্ধকতার শিকার হয় যেমন: সরকারের পক্ষ থেকে প্রর্যাপ্ত বৃত্তি-ভাতার ব্যবস্থা, আবাসন সংকট, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধতা, পিতা-মাতা মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে অসচেতনতা, সামাজিক লাঞ্ছনা-গঞ্জনা ইত্যাদি রোধ করে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

 

 মোছাঃ শাহনাজ পারভীন

শিক্ষার্থী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial