ঢাকাবুধবার , ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

স্মার্টনেসের যুগে বাংলায় কথা বলাও যেন পাপ!

মৃধা প্রকাশনী
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪ ৪:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

 

আইয়ুব খান যখন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করে তখন বাংলার মানুষ তাদের বাংলা ভাষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। হাজার বছরের পুরনো এই বাংলা ভাষা আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবেনা এমন আত্মবিশ্বাস বুকে ধারণ করে ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনের বিজ বপন করে। ১৮৮৬ সালে জন্ম গ্রহণ করা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রামরাইল গ্রামের ছেলে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্বপ্রথম পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার মানুষ আরো সাহসী হয়ে উঠে। তবুও গণপরিষদ কোনো কাজ করেননি বাংলা ভাষা নিয়ে। এইভাবে ৪৯,৫০,৫১ চলে যায়। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি আবার আন্দোলন এর সূত্রপাত হয়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রজনতা ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে আন্দোলনের রূপ দেয়। বৃষ্টির মতো ছোড়া হয় আমার ভাইদের উপর অনবরত বুলেট-গুলি। শুধু মুখের বুলিকে রক্ষা করার জন্য পথের মধ্যে প্রাণ দেয় সালাম, রফিক, জব্বার নামে আরো বহু অ আ ক খ প্রেমী।

 

তাঁদের প্রাণ বিসর্জন এর মাধ্যমে আজ যেই ভাষায় যুগ যুগ ধরে কথা বলে আসতেছি সেই ভাষায় কথা বলা-ই যেন এই জনমে মহা পাপ। যে ভাষায় শুধু কথা বলার জন্য-ই আমরা প্রাণ দিয়েছি , আজ সেই ভাষায় কথা বলা লোকদের তেমন একটা কেউ পছন্দ করে না।  যেই ভাষাকে পৃথিবীর বুকে স্থান দেওয়ার কথা সেই ভাষারই অস্তিত্ব যেন আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে শুরু করছে আজ।

 

বলছিলাম আমাদের বাংলা ভাষার কথা, যে ভাষার জন্ম না হলে হয়তো আজ আমাদের দেশ শব্দের ডান পাশে বাংলা শব্দের উল্লেখ থাকতো না।আমরাই পৃথিবীর প্রথম মানব যারা ভাষার জন্য অকাতরে নিজেদের প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছি। আমরা জান দিয়েছি, কোনো আফসোস নেই, বিনিময়ে  ভাষা তো পেয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে,__আমরা যেই ভাষা এতোদিন সন্তানের মতো লালন পালন করে আসতেছি, সেই ভাষায় এখন কেউ কথা বলতে পারে না, কথা বলতে লজ্জাবোধ করে।

 

একজন খাঁটি বাঙালিও কখনও শুদ্ধ বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারবে না। বৈদেশিক ভাষা বিশেষ করে ইংরেজি, আমাদের ভাষার সাথে যেভাবে মিশে গেছে পরবর্তী ২০-৩০ বছরের মধ্যে ঐ মিশ্রিত ভাষা গুলো ই আমাদের দেশের সন্তানদের কথার বুলি হবে। বাংলা হবে না আর আমার সোনার দেশের সন্তানদের মুখের বুলি। মায়ের কোলে শিখবে না তারা আর,__ “আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা”। বরংচ বলবে তারা,___Aye Aye Chand mama,  go away diye ekta tip.

প্রত্যেকটি বাংলা বাক্যে বিদেশি শব্দের ব্যবহার যা আমাদের জন্য বড় লজ্জার বিষয়। ইংরেজি ভাষার জন্য কেউ প্রাণ দেয় নি। কেবল আমরাই দিয়েছি।

 

তাই আমাদের বাংলা ভাষা থাকার কথা ইংরেজি বা বিভিন্ন বিদেশি ভাষা গুলোর মধ্যে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে,__আমরা এখন যে কথায় কথায় ইংরেজি প্রবেশ করাই আমাদের বাংলা ভাষার ভেতরে, তা কখনো ইংরেজি ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষা কখনো ভুলেও প্রবেশ করেনি। ইংরেজির মধ্যে কোনো বাংলা নেই, আরবির মধ্যে কোনো বাংলা নেই, ফার্সির মধ্যে কোনো বাংলা নেই, পৃথিবীর কোনো ভাষার মধ্যে আমাদের বাংলা শব্দের ব্যবহার নেই। কারণ তাঁরা নিজেদের ভাষাকে গভীরভাবে সম্মান করে। পৃথিবীর সকল জাতির মধ্যে আমরা বাঙালি জাতি-ই নিজের ভাষাকে তুচ্ছ মনে করি, আমার মনে হয়। নয়তো বাংলিশ শব্দের উৎপত্তি হতো না। কই আজ অবধি তো ইংরেবাংলা শব্দের জন্ম হয়নি। কিন্তু আমরা কথা বলার সময়,__ইংরেজি শব্দ বৈ একটা বাক্য ও বলতে পারিনা, বড় দুঃখের বিষয়।

 

কেন আমরা আমাদের সন্তানদের বাংলা ভাষা শিখাচ্ছি না? কেন আমরা সন্তানদের মায়ের কোল থেকেই ইংরেজি ভাষা শিখাতে আগ্রহী হয়ে উঠছি? আমাদের কি আমাদের মাতৃভাষা বাংলার প্রতি একটুও মায়া হয়না?কষ্ট কি লাগে না আমরা যে দিন দিন বাংলা ভাষার বারোটা বাজাচ্ছি?

 

তখনই মনে খুব ব্যথা লাগে যখন দেখি-আমার দেশে,আমার মাটিতে, জন্ম নেওয়া মানুষ আমার ভাষায় কথা বলতে পারে না। তখন সালাম, রফিক, বরকতের মতো আরো অনেকের কথা স্মরণ হয় যারা ৫২ এ নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। তাই কবিতার ছন্দে বলতে হয়,___

চলে যাচ্ছে ফেব্রুয়ারি, সালাম

রফিক ফিরবে না আর বাড়ি;

বায়ান্নে অ আ ক খ হয়েছে স্বাধীন

এই জনমে করছি তাঁদের অধীন।

 

এম.এ.হোসাইন

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial