ঢাকামঙ্গলবার , ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

স্মৃতিতে রেখেছি ধরে, দেবো না হারাতে!

জুবায়ের আহমেদ
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৪ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আমরা বিখ্যাতর রাজনীতিবিদ কিংবা যেকোন বিষয়ে বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি দেখতে পাই। সে ৫০ বা ৬০ দশক কিংবা তারও আগেই গত হওয়া ব্যক্তিই হোক। তখনকার সময়েও পৃথিবীতে ভিডিও/ক্যামেরা ছিলো। তবে দেশব্যাপী প্রতিটি এলাকার চিত্র ছিলো আবার ভিন্ন। সাধারণ মানুষদের জন্য ছবি সংরক্ষণের সুযোগ ছিলো শুধুমাত্র স্টুডিওতে গিয়ে ছবি তোলে অথবা সামর্থ্যবানদের অনেকের কাছে ক্যামেরা ছিলো। আমার বড় খালু/খালাম্মার কাছে ক্যামেরা থাকায় আমার জন্মের বছরের ছবিও আছে আমাদের পরিবারে। ৯০ দশকের সময়ের অনেক ছবি আছে আমাদের পরিবার/ নিকটাত্মীয়দের কাছে।

এতো কিছু থাকার মাঝেও আল্লাহর জিম্মায় চলে যাওয়া আমাদের অনেক নিকটাত্মীয়ের ছবি সংরক্ষণ নেই, যাদের কাছে ব্যক্তিগত ভাবে আমি শৈশবে অনেক আনন্দঘন সময় কাটিয়েছি। আমার দাদা-দাদির ছবিই সম্ভবত সংরক্ষণে নেই। নানার বাড়ীর চাচাতো নানা-নানিদের অনেকের ছবি সংরক্ষণে নেই। তেমনি ভাবে অনেক নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশীদের অনেকের ছবি সংরক্ষণে নেই, যারা ২০১০ সালের মধ্যে বিগত হয়েছে আমাদের জীবন থেকে।
আমরা যত শহরে বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমান, ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী অথবা বিভিন্ন অঙ্গনের পুরনো জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মনে করে ফেলতে পারি, ততটা সহজে মনে করতে পারি না আমাদের নিকটতম পূর্ববর্তীদের, কারন তাদের অনেকের ছবিই সংরক্ষণে নেই। এইক্ষেত্রে একটাই উপায় তা হলো স্মৃতিচারণ করা, কল্পনায় তাদের মুখাবয়ব সামনে আনা। এ ছাড়া আমরা আর কিইবা করতে পারি।

বর্তমানে কত সহজেই ক্যামেরায় স্মৃতি ধারণ করা যায়। অথচ আগে এই সুযোগ ছিলো না। দূরের বাজারে গিয়ে স্টুডিওতে ছবি তোলতে হতো। তারপর ধোলাই করে ছবি ডেলিভারী দিতে সময় নিতো ৩/৪ দিন। যাদের নিজস্ব ক্যামেরা থাকতো, তারা ছবি তোলতে গেলেও নেগিটিভের/রিলের দিকে খেয়াল রাখতে হতো। এখনকার মতো বেহিসেবী ক্লিক করার সুযোগ ছিলো না তখন। বাড়ীতে ছবি তোললেও ধোলাই করার জন্য দূরের বাজারে যেতে হতো। আমার নিজেরই এমন অসংখ্য অভিজ্ঞতা আছে।

আমাদের শৈশবে আমরা যাদের হারিয়েছি, তাদের কথা বিশেষভাবে মনে থাকে। মনে থাকার কারন শুধু তারা আমাদের নিকটাত্মীয় বা প্রতিবেশী ছিলো, এটিই নয়। অন্যতম বড় কারণ হলো আমরা ছোট হওয়ার বিপরীতে তারা ছিলেন বার্ধক্যে। নাতি-পতি হিসেবে আমাদের তারা অনেক আদর করতেন। ফলে তারা আমাদের শৈশবের হিরো হিসেবে তাদের আমরা মনে রাখি। আমি শৈশব স্মৃতিকাতর মানুষ। তাই আমার লেখার বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে শৈশব এবং শৈশবের সবকিছু।

আমাদের শৈশবের প্রিয় ব্যক্তিত্বরা হয়তো গত হয়েছে বহু আগে। তবে আমরা তাদের স্মৃতিতে মনে রাখি, মনে করি। তারা আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে গেলেও স্মৃতিতে তাদের ধরে রাখতে পারি আমৃত্যু। আমরা তাদের শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করতে পারি, দোয়ায় রাখতে পারি, যাতে তারা জান্নাতের অধিবাসী হয়। আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি কৃতজ্ঞ ও সন্তুষ্ট হওয়ার বদৌলতে আমাদের পরবর্তীরাও আমাদের উপর সন্তুষ্ট থাকতে এবং আমাদের মনে রাখবে, আমাদের মতো করেই।

জুবায়ের আহমেদ
২০-০৪-২০২৪
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial