ঢাকারবিবার , ২৮ জানুয়ারি ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

যাবজ্জীবন নরকযন্ত্রণার শাস্তি

মৃধা প্রকাশনী
জানুয়ারি ২৮, ২০২৪ ৪:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সেঁজুতি মুমু

জীবনে কিছু অর্জন করতে হলে কঠোর পরিশ্রম চাই।
ঠিক তেমনি মৃত্যুও কঠোর পরিশ্রমের ফল।
সহজে মৃত্যু আসে না, মৃত্যু পেতে হলেও পরিশ্রম করতে হয়।
মনে পড়ে ওই ডাক্তারের ছেলে রবিনকে, ছোটোবেলা থেকে স্বপ্ন দেখত ক্রিকেটার হবার।
দারুন খেলত ছেলেটা।
তারপর যখন ক্রিকেট খেলতে বড় জায়গায় সুযোগ  পেল, তখন তাচ্ছিল্য করে, মারতে মারতে ওর স্বপ্নগুলোকে মেরে ফেলেছিল ওর আত্মীয়রা।
“ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার হবে, না হলে মানসম্মান থাকবে না” সেইদিন এই কথা বলে আজ তাকে  ডাক্তারি পড়ানো হচ্ছে।
বাবা মায়ের মানসম্মান ঠিক বেঁচে গেল, কিন্তু তিলে তিলে মৃত্যু হলো রবিনের স্বপ্নের, তার ক্রিকেটার সত্ত্বার।
সহজে হয় নি এই মৃত্যু।
আত্মীয় স্বজনদের ধিক্কার, বাবা মায়ের জোরজবরদস্তি সবাই মিলে বিভৎসভাবে তড়পাতে তড়পাতে হত্যা করেছে রবিনের স্বপ্নকে।
আমার বান্ধবী শ্রেষ্ঠা পড়াশুনায় খুব ভালো ছিল।
ও বড় হয়ে শিক্ষক হতে চাইত।
মাধ্যমিক পরীক্ষায়, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ও খুব ভালো ফলাফল করেছিল, উচ্চতর শিক্ষা  নিয়ে ওর অনেক স্বপ্ন ছিল, কিন্তু তখনোই বাধা হয়ে দাঁড়ালো ওর পরিবার।
ওরা বলেছিল, “মেয়ে মানুষ করবে চাকরি, ঢং দেখে বাঁচি না! ”
এই বলে ওর হাত থেকে কলম কেড়ে নিয়ে হাতা খুন্তি ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
যে গলায় ও গ্রাজুয়েশন এর মেডেল পড়তে চেয়েছিল, সেই গলায় পড়ানো হয়েছিল ওর স্বপ্নের মৃত্যুর প্রতীক, ওর সত্ত্বাকে হত্যার চিহ্ন, ওর যাবজীব্বন পরনির্ভরশীল হয়ে থাকার প্রতীক “বরমালা”।
এই মৃত্যুও সহজ ছিল না। ওকেও হত্যা করা হয়েছে।
ঠিক যেমন মৃত্যু হয়েছিল আমার স্বপ্নগুলোর।
না ওটা মৃত্যু ছিল না, ওটা ছিল অপমৃত্যু।
বিভৎসভাবে হত্যা করা হয়েছিল আমার স্বপ্নগুলোকে।
এই হত্যার অপরাধী আর কেউ না, আমি নিজে।
আমি সেই হত্যাকারী।
আমি একটা আদর্শকে, একটা সত্ত্বাকে, একটা স্বপ্নকে হত্যা করেছি।
শুনেছি হত্যা করার পর, হত্যাকারী অনুশোচনায় জর্জরিত হয়ে জীবন্ত অবস্থাতেই নরক যন্ত্রনা সহ্য করে।
আমি এই কথাটির সত্যতার প্রমান পেয়েছি, পাচ্ছি প্রতি মুহুর্তে।
সেদিন যদি আমার মতিভ্রম না হতো তবে আজ বেঁচে থাকতো ওই স্বপ্নটা, ঐ সত্ত্বাটা।
কিন্তু তাদের আমি হত্যা করেছি, আমি আজ এক যাবজ্জীবন নরকযন্ত্রণার শাস্তি প্রাপ্ত অপরাধী!
কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এ কথা সত্যি না।
রবিন আর শ্রেষ্ঠার স্বপ্নের হত্যাকারীরা অনেক সুখে আছে, কোনো সাজা পায় নাই।
কিন্তু সেই অপরাধের শিকার শ্রেষ্ঠা, রবিন ও নাম না জানা আরও অনেকে বিনা অপরাধে যাবজ্জীবন নরকযন্ত্রণার শাস্তি ভোগ করছে!

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial