ঢাকাশনিবার , ২৭ জানুয়ারি ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

রেলস্টেশনে একদিন প্রভুর সান্নিধ্যে

মৃধা প্রকাশনী
জানুয়ারি ২৭, ২০২৪ ৭:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পাঠক! আমি নিশ্চিত আপনারা অবাক হয়েছেন, এ কেমন কথা বুজুর্গ নাকি কিভাবে প্রভুর সান্নিধ্য পেল আবার। না!  আমি কোন পীর সাহেব নই, তবে আমি একজন তালেবে ইলম মানে জ্ঞান অর্জনকারী। হাদীস শরীফে এসেছে ” যারা দ্বীনি ইলম তলবে বের হয় তাদের চলার পথে ফেরেশতারা ডানা বিছিয়ে দেয় ” অন্য আরেকটি হাদিসে এসেছে “যে ব্যক্তি দ্বীনি ইলম তলব করতে ঘর থেকে বের হয়, এবং সে ফিরে আসা পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকে ফেরেশতারা”।

বাড়ি চট্টগ্রাম পড়াশোনা ঢাকা হওয়াতে আসা যাওয়া হয়ে থাকে নিয়মিত রেলে হোক বা বাসে। বাড়ি থেকে ফিরছিলাম, গাড়িতে আসরের সময় পার হয়ে যাচ্ছিল খুব বেকুল হয়ে তলব করছিলাম নামাজের জন্য একটা জায়গা, আসরের নামাজকে আল্লাহ এক্সট্রা জোর দিয়েছেন।  এর মধ্যে একটা সত্য ঘটনা শুনায় ভারতীয় উপমহাদেশে সুলতান ইলতুৎমিশ এর কথা কে না জানে। শামসুদ্দীন ইলতুৎমিশ বার’শ দশ থেকে বার’শ ছয়ত্রিশ তার শাসনকাল, তিনি  দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচিত। শামসুদ্দীন ইলতুৎমিশ তুর্কিস্তানের ইলবারি গোত্রের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এরূপ জনশ্রুতি আছে যে, ইলতুৎমিশের বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা ও সুদর্শন চেহারা তাঁর ভাইদের মনে ঈর্ষার উদ্রেক করে এবং তারা তাঁকে বাল্যকালে ক্রীতদাসরূপে বিক্রি করে দেয়। অবশ্য দুর্ভাগ্য তার গুণাবলিকে বিনষ্ট করতে পারেনি। দিল্লীর শাসনকর্তা কুতুবউদ্দীন তার নৈপূণ্যে আকৃষ্ট হয়ে তাকে উচ্চমূল্যে ক্রয় করেন। ইলতুৎমিশের পদমর্যাদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। তিনি দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দীনের অধীনে বদায়ুনের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। তার সঙ্গে সুলতানের এক কন্যার বিবাহ দেওয়া হয়। ইলতুৎমিশ ১২১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।  তার সময়কার এক বুজুর্গ খাজা কুতুবউদ্দিন  বখতিয়ার কাকী তিনি যখন মৃত্যুর জন্য পাঞ্জা লড়তেছিলেন সে সময় তিনি বলে যান আমার জানাজা পড়াবে এমন এক ব্যক্তি যে কোনদিন আসরের সুন্নত কাজা করেনি। আর সেই ব্যক্তি ছিলেন শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ।

কি পাঠক অবাক হয়েছেন?  এই ছিল আমাদের মুসলিম শাসকদের আদর্শ। এবার আসি আমার কথায় এক পর্যায়ে একজন গার্ডকে জিজ্ঞেস করলাম নামাজ পড়ার জায়গা আছে কি না? এ সময় ঘটে গেল আরেকটি ঘটনা কারণ তাকে দুইবার জিজ্ঞেস করায় সে প্রচুর রাগ দেখাল আপনাকে বলছিনা এদিকে!  যাক  সমস্যা মনে করলাম না, যেখানে আমি প্রভুর সান্নিধ্য পাচ্ছি সেখানে তার কথা মাথায় নিলামনা। আসরের নামাজ শুরু করলাম ” সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য , যিনি বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক ” এরপর যে সূরাটি পড়লাম ” আপনি কি দেখেননি আল্লাহ হস্তি বাহিনীর সাথে কেমন আচরণ করলেন?সূরা ফিলের আয়াত ।

এই সূরা পাঠকরার সাথে সাথে সেই ঘটনা মনে পড়ে যা ঘটে ছিল  ৫৭০ সালে। রাসূল সঃ এর আগমনের মাত্র পঞ্চাশ কি একান্ন দিন বাকি, ইয়ামেনের বাদশা আবরাহা কাবা শরীফের পরিবর্তে তৈরী করলেন এক সুরম্য অট্টালিকা, সে মনে করেছে সামান্য মাটির ঘরের ইবাদত না করে মানুষ আমার এই রাজপ্রাসাদ দেখতে আসবে কিন্তু ঘটে গেল এক মহা ইতিহাস, কি পাঠক!  বললে মজা পাবেন তো?  আচ্ছা বলছি, তার এই সুরম্য প্রাসাদে কোন এক আদম ভালোবাসা দিয়ে মলত্যাগ করল! আবরাহা তো বেজায় রেগে গেলেন!  অ্য, আমার এই প্রাসাদে মল ত্যাগ করার এমন হিম্মত কার আছে। সুতরাং সে সিদ্ধান্ত নিল আরবের সেই ঘরকে ধূলিসাৎ করে দিতে হবে, যেই ভাবা সেই কাজ, বিশাল হস্তি বাহিনী নিয়ে সে রওনা করল লক্ষ্য তার আরবের সেই মাটির ঘরকে ভেঙ্গে দিতে হবে, কিন্তু প্রভু সেখানে তার সলীল সমাধি করলেন, সামান্য আবাবিল পাখি দিয়ে তার বিশাল বহরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলেন।

পাঠক!  আপনারা খেয়াল করবের রেল গাড়িতে ইঞ্জিন বগীর পাশে নামাজের ব্যবস্থা  আছে, তবে খুব সামান্যতম জায়গা, চার পাঁচজন মোটামুটি পড়তে পারে, সেই জায়গার মধ্যে মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম ছয়জন একসাথে কোন রকম কপালটা প্রভুর সান্নিধ্য পেলে এমন অবস্থা । ইমাম সেকেন্ড রাকাআতে তেলাওয়াত করলেন সূরা কুরাইশ ” এই কুরাইশ বংশের বনু হাশিম গোত্রে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সঃ এর আগমন। মক্কার খুব বিখ্যাত একটি গোত্র। যারা ছিলেন আরবের ব্যবসায়ী গোত্র। এই সূরায় তেলাওয়াত করলেন ” আতপর তোমরা এই ঘরের ইবাদত কর ” পনর’শ বছর আগের সেই ম্যাসেজ এখনো কানে বাজতে থাকে।

পাঠক!  এভাবে প্রভু তার সান্নিধ্য লাভে এক আদমকে  সুযোগ দিল, এই গল্পের ম্যাসেজ হলো আমাদের অনেকে সফরে বের হলে নামাজ কাজা, বা নামাজের কথা মনে থাকে না, আর নামাজের কথা মনে থাকলেও যথেষ্ট জায়গার অভাবে নামাজ পড়তে অনীহা দেখা যায়। একটু খোঁজলেই আপনি পেয়ে যাবেন প্রভুর সান্নিধ্য। আরো একটি তৎপর্য হলো আমাদের দেশে নামাজের জায়গা ছোট হলেও প্রায় স্থানে থাকে আর আল্লাহ তায়ালা নবী করিম সঃ এর উম্মতদের জন্য পুরো জমিনকে মসজিদ বানিয়ে দিয়েছেন। হাদীস শরীফে এসেছে ” কোন বান্দা যদি আমার দিকে ( আল্লাহর)  এক বিগত যায় আল্লাহ তার দিকে দুই বিগত এগিয়ে আসে, একহাত গেল দুই হাত এগিয়ে আসে। ” সো আমাদের কাজ হলো মাগফিরাতের দিকে দৌড়ে যাওয়া। মায়াস্সাম।

মো. রুকন উদ্দিন

শিক্ষার্থী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial