ঢাকাবুধবার , ২৪ জানুয়ারি ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

মসজিদভিত্তিক হিফজুল কোরআন পদ্ধতি

জুবায়ের আহমেদ
জানুয়ারি ২৪, ২০২৪ ১:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জুবায়ের আহমেদ

মহাবিশ্বের মহাবিস্ময় মানবতার অপূর্ব সমাধান পবিত্র আল কোরআন। মহান আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক নরনারীর জন্য কোরআনের জ্ঞান অর্জন করা ফরজ করেছেন। পবিত্র কোরআন সম্পূর্ণ মুখস্ত করা আবশ্যক না হলেও পবিত্র কোরআন নাজিল হওয়ার পর থেকে কোরআন মুখস্ত করা তথা কোরআনে হাফেজ হচ্ছেন মুসলিমরা। রাসুল (সাঃ) এর জমানা থেকে মহান আল্লাহ তায়ালার পবিত্র কালাম শুদ্ধ ও সঠিক উচ্চারণে পাঠ ও মুখস্ত করার ধারাবাহিকতায় এখনো স্বগৌরবে বজায় আছে। একেক দেশে হিফজুল কোরআনের পদ্ধতি একেক রকম হলেও বাংলাদেশে দিন-রাত মিলিয়ে অর্থাৎ আবাসিক পদ্ধতিতে কোরআন শিক্ষা করার পদ্ধতি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও একমাত্র পদ্ধতিও বলা যায়।

বিশ্বব্যাপী হিফজুল কোরআনের পদ্ধতির মধ্যে সম্পূর্ণ আবাসিক পদ্ধতি, মসজিদভিত্তিক পদ্ধতি ও স্কুল মাদরাসাভিত্তিক পদ্ধতি অন্যতম হয়। বাংলাদেশে আবাসিক পদ্ধতি বেশ প্রচলিত হওয়ার পাশাপাশি কিছু মাদরাসা এবং স্কুলেও অন্যান্য শিক্ষার পাশাপাশি হিফজুল কোরআন সম্পন্ন করানো হয়। তবে বহুল প্রচলিত আবাসিক পদ্ধতি বাংলাদেশে চলমান থাকায় আবাসিক পদ্ধতিতে কোরআন শিক্ষার দিকেই মনযোগী হন অভিভাবকরা। ফলে শিশুকাল থেকেই সন্তানকে মাদ্রাসায় দেন। এই পদ্ধতিতে বাংলাদেশে অসংখ্য হাফেজ তৈরী হলেও মাঝপথে ঝড়ে পড়া কিংবা বিভিন্ন কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়। সমস্যাগুলোকে যদি একেবারে সামান্যও মনে করা হয়, তার মধ্যে আবাসিক পদ্ধতিতে পড়াকালীন শিক্ষক কর্তৃক শারীরিক মানসিক নিগ্রহের শিকার হওয়া, অব্যবস্থাপনা অথবা চাপ সহ্য করতে না পারে আত্মহত্যা করে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটছে বাংলাদেশে।

হিফজুল কোরআন বিষয়ে বাংলাদেশে একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে যে, বড় হয়ে গেলে সন্তানদের আর কোরআন শেখানো যায় না, তাই শিশুকাল থেকেই তাদেরকে হিফজুল কোরআনে পাঠানো উত্তম সময়। এই ধারণার সুফল অনেক হলেও সুযোগসুবিধার ঘাটতি অথবা উত্তম শিক্ষকের অভাবে শিশুরা তাদের শৈশবেই কঠোর চাপ নিয়ে আনন্দঘন শৈশব হারিয়ে ফেলে। এছাড়াও ন্যুনতম ব্যতিক্রম ঘটনাগুলোর মাধ্যমে আবাসিক হিফজুল কোরআন পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে ব্যাপক।

আবাসিক পদ্ধতি কিংবা স্কুল-মাদরাসাভিত্তিক পদ্ধতির চেয়েও মসজিদভিত্তিক হিফজুল কোরআন পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরী বলে আমি মনে করছি। মধ্যপ্রাচ্য সহ অন্য আরব রাষ্ট্রে এই পদ্ধতির আধিক্য লক্ষ্য করা যায় অর্থাৎ জামে মসজিদে জোহর থেকে ঈশার নামাজের আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই পাঠদান পদ্ধতি বহু দেশে জনপ্রিয় পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে হিফজুল কোরআন চালু করতে গেলে মসজিদগুলোতে ইমাম ও মুয়াজ্জিন অথবা দুজনের একজনকে কোরআনে হাফেজ হতে হবে, যিনি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে এলাকার আগ্রহীদের কোরআনে হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলবেন। এই পদ্ধতি শুরুতে কঠিন মনে হলেও শিশুরা দূরদূরান্তে গিয়ে পরিবার ফেলে কোরআন শিক্ষা করতে গিয়ে যে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়ে, তা থেকে রক্ষা পাবে। পরিবারের সান্নিধ্যে থাকার মাধ্যমেই হাফেজ হবে। এছাড়াও দূরের মাদ্রাসায় গিয়ে আবাসিক পদ্ধতিতে কোরআন শিক্ষা গ্রহণে যে ছাত্র পারছে না বলে মনে হচ্ছে, সেও তখন নিজ এলাকায় মসজিদভিত্তিক কোরআন শিক্ষায় মনোনিবেশ করতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, ইসলামের জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক নরনারীর উপর ফরজ। সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্ত করা ফরজ নয়, ফলে কোন শিশু যদি না পারে, তাকে জোর করে হাফেজ বানাতে গিয়ে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করা অথবা তাদের সামর্থ্যরে সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে মানসিকতা অসুস্থতার দিকে ঠেলে দেওয়া কাম্য নয়। অপরদিকে যেহেতু হিফজুল কোরআন পদ্ধতির পরিবর্তনের সুযোগ আছে, সেহেতু মসজিদভিত্তিক অথবা মাদ্রাসার মধ্যেও শুধুমাত্র দিনে কোরআন শিক্ষার মাধ্যমে যদি সুফল পাওয়া যায়, সেদিকে মনোনিবেশ করা জরুরী। শিশুদের শৈশবের আনন্দটুকু বজায় রেখে এবং মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে যদি তাদেরকে কোরআনে হাফেজ বানানো যায়, তাহলে তার চেয়ে উত্তম আর কিছুই হতে পারে না। তাই অভিভাবক, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের হিফজুল কোরআন পদ্ধতি নিয়ে আরো গভীর ভাবে ভাবা জরুরী।

সাবেক শিক্ষার্থী
পীর কাশিমপুর দাখিল মাদ্রাসা
মুরাদনগর, কুমিল্লা।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial