ঢাকাবুধবার , ২৪ জানুয়ারি ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

খোদাতত্ব ; ধর্ম ও দর্শন

আতিক উল্লাহ আল মাসউদ
জানুয়ারি ২৪, ২০২৪ ১২:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দর্শনে যে কয়টি মৌলিক বিষয়কে চিন্তা,যুক্তিতর্ক, উদ্ভাবন, ভাঙ্গন ও গঠনের উপজীব্য করে তুলে তন্মধ্যে খোদাতত্ত্ব একটি উল্লেখযোগ্য খাবার। দার্শনিক আলোচনায় স্রষ্টার উপস্থিতি, সম্ভাব্যতা, ন্যায্যতা, আকার, উপদান, একাক, বহুত্ত্ব, জড়, প্রকৃত, কল্পিত, আদি চলক, মোনাড, অচলিত চলক, শক্তি প্রয়োগ ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রশস্ত জমি তৈরি করেছে। এযাবৎকালে এতে চাষ করেছে গ্রীক, ইউরোপীয়, সোফিস্ট, স্কলাস্টিক, আধুনিক, ভারতীয়(আস্তিক/নাস্তিক) ও মুসলিম দার্শনিকবৃন্দ। গড়ে উঠেছে নানা মতবাদ। আমরা যাকে বুঝি সত্ত্বাতাত্ত্বিক দর্শন।

স্রষ্টার অস্তিত্ত্বের দাবিতে কেউ অনিবার্য, কেউ সম্ভাব্য আবার কেউ অস্বীকার করেছে৷ নিম্নে একে একে তথ্য অনুসন্ধান করে তাত্ত্বিক আলোকে সবিস্তারে বর্ণনা করা হলো।

গ্রিক খোদা বিশ্বাস :

গ্রিকদের ছিলো স্বতন্ত্র ধর্ম। ধর্মে ছিলো পৌরাণিক গালগল্প ও ভৌতিক বিশ্বাস। তাদের ঈশ্বরের অবস্থানে ছিলো, বহু দেবতা। দেবতারা ছিলো জীবন ও জগত সম্পর্কে একেবারে খেয়ালি। দেবতারা মানুষের সাথে নৈকট্যের জায়গায় গড়ে তুলতো দুরত্ব। মানুষের সাথে তাদের সম্পর্ক হয়ে ওঠতো ঘৃণার। তারই একটি দলিলের নাম প্যান্ডোরার বাক্সের কাহিনী।

গ্রিক দেবতাদের প্রধান বা ঈশ্বরের নাম হলো জিউস। তাঁর স্ত্রী ছিলো হেরা। জিউসের ছিলো পবিত্র আগুন। পবিত্র আগুনটি আরেক দেবতা চুরি করেছিলো। তাঁর নাম প্রমিথিউস। আগুনটি চুরি করেছিলো মানুষের জন্য। ঈশ্বর বা জিউস এতে রেগে গেলেন। নিতে চাইলেন প্রতিশোধ৷ প্রতিশোধ নিবে প্রমিথিউস ও মানুষদের থেকে। তাই তিনি পাঠালেন প্যান্ডুরা নামক স্বর্গীয় মেয়ে। এবং তাঁকে বানানো হলো অগ্নি দেবতা হিফিস্টাস। তাঁকে আর্শীবাদ করলো বিভিন্ন দেবতা। যেমন, আফ্রোদিতি তাকে প্রদান করে আবেগ, দেবতা হারমিস প্রদান করে ভাষা, দেবী অ্যাথেনা প্রদান করে মন। ঈশ্বর প্রদান করে দু’টি উপহার। একটি হলো খুবই উৎসুক মানসিকতা, আরেকটি হলো সাজানো বাক্স। আদেশ করলেন তিনি যেন বাক্সটি না খুলে। বাক্সের ভিতরে এমন কিছু ছিলো, যা দিয়ে প্রমিথিউসের পাপের প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

দেবতা প্রমিথিউসের একজন ভাই ছিলো। নাম তাঁর এম্পিমিথিউস। প্রমিথিউসের অনুপস্থিতিতে এম্পিথিউসের সাথে স্বর্গীয় কন্যা প্যান্ডোরার বিয়ে হলো। এতে প্যান্ডোরা খুবই উদ্বেলিত হলো। বিভিন্ন দেবতা তাকে দিয়েছিলো আবেগ,আগ্রহ ও  অনুসন্ধান শক্তি। তাই তিনি হয়ে উঠলেন আবেগি। মন হয়ে উঠলো অনুসন্ধানী। ইচ্ছে হলো জিউসের বাক্সটি খোলার। জিউসের নিষেধ থাকা শর্তেও আবেগে আগ্রহ জমালো বাক্সের প্রতি। শেষ অবধি বাক্সটি খুললেন। বাক্স থেকে বের হয়ে আসলো ধূম্রজালের মতো অসংখ্য দৈত্য ও তাদের বিকট আওয়াজ। তাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লো যাবতীয় অশুভ৷ হত্যা, দস্যুতা, চুরি, মিথ্যা, শঠতা, লোভ, বিশ্বাসঘাতকতা ইত্যাদি। এ অশুভগুলো বাতায়ে মিশিয়ে ছড়িয়ে পড়লো পৃথিবীতে। আর এভাবেই ঈশ্বর মানুষের উপর প্রতিশোধ নিলেন।

এইযে, প্যান্ডোরার বাক্সের কাহিনী হতে আমরা বুঝতে পারি — স্রষ্টার সাথে বিভিন্ন দেবতাগুলোর শত্রুতার সম্পর্ক ছিলো। ঈশ্বর মানুষের ওপর প্রতিশোধপরায়ন ছিলো। ঈশ্বরের গ্রহণ করতো স্ত্রী। তাঁর ছিলো সন্তান। ফলত গ্রিকরা ঈশ্বরের নিখুঁত বিশ্বাস ও সন্ধান লাভে ব্যর্থ হয়েছিলো।

রোমানদের খোদা বিশ্বাস :

রোমানরা ঈশ্বরের জায়গায় বসিয়েছে দেবতার ধারণা। গ্রিকদের মতো রোমানরাও দেবতাকে শুভ ও অশুভের কর্তা, মালিক ও জমিদার বানিয়েছিলো। তাদেরকে খুশি করলে পাওয়া যেতো শুভ, ভাগ্য ও মঙ্গলের ভাগিদার। এক দেবতায় তাদের বিশ্বাস ছিলো না। উপাসনা করতে হতো বিভিন্ন দেব-দেবীর৷ তাদের প্রধান দেবতাগুলো হলো, জুপিটার,জুনো, মিনার্ভা,নেপচুন ও প্লুটো।

রোমানরা পেশায় ছিলো কৃষক। কৃষি কাজে লাভবান হওয়ার জন্য তাদের ছিলো স্বতন্ত্র দেবতা। নাম তার সেরেস। তাঁর উপাসনার কারণ হলো, তিনি শস্য বপন ও অঙ্কুরোদগম দেখভাল করতেন। কৃষি বিষয়ক তাদের আরো কিছু দেবতা ছিলো। যেমন, গমের পচন থেকে রক্ষা পেতে উপাসনা করা হতো দেবতা রোবিগাসের, শস্যে ফুল ফুটতে পুজা করা হতো দেবী ফ্লোরার, শস্যজাত খাবারকে নষ্টের কবল হতে বাঁচাতে প্রয়োজন হতো দেবতা কনসাসের। এছাড়াও কৃষির আরেক দেবতা ছিলো মার্স। যিনি ছিলেন জমির উর্বরতার প্রতীক।

রোমান খোদা বিশ্বাসে আরেক দেবতার নাম ছিলো স্যাটার্ন। যার কাজ সময়কে অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা করা।

রোমান বিশ্বাসে ভ্রমণের অনুষঙ্গ নিয়ে পুজিত হতো দেবতা জ্যানাস। তাঁকে ভ্রমণে বাহির হওয়ার পূর্বে ও ভ্রমণ হতে ফিরে এসে পুজা করা হতো।

রাস্তা মাঠ-ঘাট ও পবিত্র স্থানের নিরাপত্তার জন্য রোমানদের একদল দেবতার প্রয়োজন হতো। তাদেরকে বলা হতো লারস।

কৃষির সাথে সম্পর্কিত অনুষঙ্গ হলো পশুপালন। রোমানরা পশুপালনে এগিয়ে ছিলো। তাই পশুর নিরাপত্তার জন্য তাদের আরেকটি দেবতার প্রয়োজন হতো, তাঁর নাম ছিলো পেলস। এই দেবতা পালের পশুদের স্বাস্থ্য, ঘাস এবং পানির প্রাচুর্য ইত্যাদির দিকে নজর রাখতেন৷

প্রত্যেক দেবতাকে কেন্দ্র করে উৎসবের আয়োজন করা হতো।

রোমানদের খোদা বিশ্বাসে বহু দেব-দেবীর উপস্থিতি থেকে বুঝা যায়, জগতের নিয়ন্ত্রণ এক জনের হাতে ন্যস্ত হতে পারে না। তাই তাঁরা একেক দেবতাকে এক এক বিষয়ের নিয়ন্ত্রণক মনে করতেন। রোমানদের সাথে ঈশ্বরের সম্পর্কটি ছিলো সাময়িক। রোমানদের ঈশ্বরের শক্তি ছিলো সীমাবদ্ধ। রোমানদের কাছে ঈশ্বরের এই ধারণার কারণে পৃথিবী হয়ে উঠে সংকীর্ণ।

পারসিয়ান খোদা বিশ্বাস :

পারসিয়ান খোদা বিশ্বাসের ধারণা জরথুস্ত্রের মাধ্যমে অভিষেক ঘটে। তিনি জন্ম নিয়েছেন খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।

পারসিয়ানরা ঈশ্বরকে বিভাজিত করেছিলো। জরথুস্ত্র ঈশ্বর ভাবনায় একত্ববাদের অনুঘটক মনে করলেও আকর লাভ করে বহুত্ববাদের। সত্ত্বাকে বিভক্ত করেছেন দুই ভাগে। দুই সত্ত্বার মধ্যে সম্পর্ক তৈরী করেছিলো দ্বিধাদ্বন্দের। এদের এক সত্ত্বা হলো স্পেনটা মাইনু। যিনি সত্য ও শুভর প্রকাশক। আরেক সত্ত্বা হলো, আঙরা মাইনু। যিনি মিথ্যা ও অশুভর নির্দেশক। এক সত্ত্বা রাতের অবতার হলে অন্য সত্ত্বা হয় দিনের অবতার। এক সত্ত্বা বৃষ্টির সহযোগ হলে আরেক সত্ত্বা হয় রোদের প্রযোজক। এই দুই সত্ত্বার পরম একক সত্ত্বা হলো আহুরা মাজদা। আহুরা মাজদাই আকাশ-মাটি, আলো-অন্ধকার ও দিন-রাত সৃষ্টি করেছেন। সেই সাথে সৃষ্টি করেছেন ভালো ও মন্দ। তিনি একত্বের একচ্ছত্র ক্ষমতাকে ভাগ করেছেন বহুত্বের বাটখারায়। এজন্য পারসিকরা জরাথুস্ত্রের বিশ্বাসকে উপাসনা করেছিলো। ফলত সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সংঘাত ছিলো অনিবার্য। সত্ত্বার সাথে সত্ত্বার দ্বন্দ্ব হয়ে ওঠে কার্যকর। পারসিকরা মঙ্গলের জন্য স্পেনটা মাইনুর কাছে প্রার্থনা করতো আর মন্দের প্রয়োজনে আঙরা মাইনুর কাছে সোপর্দ হতো।

পারসিক খোদা বিশ্বাসে একত্ববাদ ও বহুত্ববাদের সমন্বয় তৈরি হয়। ফলত খোদা কি একক নাকি দ্বৈত তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। এছাড়া সত্ত্বাকে করা হয় শর্ত যুক্ত। তাঁর ক্ষমতা ব্যাপক নয় বরং সীমিত। উভয় সত্ত্বাকে করা মুখাপেক্ষী। উভয়ের উৎসে রয়েছে পরম এক সত্ত্বা। তাঁর প্রয়োজন হয়েছিল দুই সহযোগীর৷ এ থেকে বুঝা যায় পারসিক খোদা বিশ্বাস এক নৌকার দুই মাঝি। একজন ডানে ফিরলে অন্যজন বামে মোড় নেয়। ফলত সংঘর্ষ হয়ে ওঠে অনিবার্য।

খ্রিষ্ট খোদা বিশ্বাস :

খ্রিস্টবাদের খোদা বিশ্বাসের ধারণা হলো ত্রিত্ববাদ বা ট্রিনিটি। সেন্ট পল এর আধাত্মিক নেতা। সম্রাট কান্সটান্টি একে দান করে বৈধতা। এবং পদরি তারফুলিয়ান ত্রিত্ববাদ মুদ্রণে সহযোগী হোন। খোদার এই ধারণাটি খ্রিষ্ট বিশ্বাসের বুনিয়াদ হওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় একটি সম্মেলনের। সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় ৩২৫ খ্রিষ্টাব্দে  কনস্টান্টিনোপলে। ইতিহাসে সে সম্মেলনকে বলা হয়, ‘ কাউন্সিল অব নিসিয়া।’ এতে রোমান সাম্রাজ্যের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা ১৮শ বিশপের মধ্য হতে মাত্র ৩১৮ জন বিশপ উপস্থিত ছিলেন। তর্কবিতর্কের মধ্য দিয়ে ত্রিত্ববাদের ধারণা পাশ হয়।

ত্রিত্ববাদের পরিভাষা সম্পর্কে বলা হয়৷ (the unity of Father, Son, and Holy Spirit as three persons in one Godhead): এক ঈশ্বরত্বের মধ্যে পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা এই তিন ব্যক্তির মিলন। পিতা (God) ঈশ্বর, পুত্র (Jesus) যিশু এবং পবিত্র আত্মা (holy Ghost) ধর্মীয় দীক্ষাদাতা প্রভু।

খ্রিস্টান ধর্মগুরুদের ভাষ্য হলো, ঈশ্বর একজন তবে তাঁর মধ্যে নিহিত আছে তিনজন পৃথক ব্যক্তি। বিশপদের মতে,

Each of the Persons is God. The Father is God. The Son is God. The Holy Spirit is God. The Father is not the Son. The Son is not the Holy Spirit. The Father is not the Holy Spirit.

তিনজনের প্রত্যেক ব্যক্তিই ঈশ্বর: পিতা ঈশ্বর, পুত্র ঈশ্বর, পবিত্রআত্মা ঈশ্বর। পিতা পুত্র নন, পুত্র পবিত্র আত্মা নন, পিতা পবিত্র আত্মা নন।”

খ্রিষ্টান খোদা বিশ্বাসে নিরেট সত্ত্বার বর্ণনা পাওয়া যায় না।  পলের দর্শনকে স্রষ্টা বিশ্বাসের ফ্রেমওয়ার্ক বানানো হয়েছে। এই বিশ্বাস বিশপের রায়ের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। এর পিছনে ঐশ্বরিক কোনো প্রত্যাদেশ পাওয়া যায় না। ত্রিত্ববাদের কারণে খ্রিস্টানরা বিভিন্ন ফেরকায় বিভক্ত হয়েছে। ফলত অনুসারীদেরকে খোদা বিশ্বাসের এক সুতায় গাঁথা সম্ভব নয়৷

ইহুদিদের খোদা বিশ্বাস :

ইহুদিরা একেশ্বরে বিশ্বাসী নন। তাঁরা ঈশ্বরের ধারণায় গ্রহণ করেছিলো বহুঈশ্বরবাদ। আশ্রয় নিয়েছিলো বিভিন্ন দেব-দেবীর। এক পর্যায়ে পূজা প্রথার উৎসবে মেতে উঠেছিল। ঈশ্বরকে সংযুক্ত করেছিল পুত্রের সাথে। এবং প্রেরিত নবীদের আহ্বানকে নাকচ করেছিল।

বিশ্ব জগতের একজন অদ্বিতীয় অধিপতি হিসেবে ইহুদিরা স্রষ্টায় বিশ্বাসী ছিলেন। বাইবেল জানাচ্ছে তাদের স্রষ্টার নাম ছিলো যিহোবা। একেশ্বরের বিশ্বাসকে তাঁরা যথেষ্ট মনে করে নি। তাই প্রয়োজন হয়েছিল বহু ঈশ্বরের।  মুজেস তাদেরকে একেশ্বরের দিকে আহ্বান করলে তাঁরা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ঈশ্বরের পরিবর্তে ইহুদিরা মূর্তি পূজার প্রচলন ঘটিয়েছে। যাত্রাপুস্তকে বলা হচ্ছে মুজেসের অনুপস্থিততে  বাছুর পূজার কথা। রাজাবলির মতে ডেভিড ও সুলমন একসময় মূর্তি পূজা করেন৷ যদিও কুরআন একথাকে খারিজ করেছে। এছাড়া রাজাবলিতে আরো বলা হয়েছে বয়াদ নামক দেবতার কথা। এভাবে ঈশ্বর বিশ্বাসের জায়গায় ইহুদিরা বিভিন্ন দেবতাকে ইবাদতের উপলক্ষ বানিয়েছে।

ইহুদি ঈশ্বর বিশ্বাসের জায়গায় প্রোথিত ছিলো পুত্রের ধারণা। তাঁরা উযাইরকে ঈশ্বরের পুত্র দাবি করেছে। তাঁরা ঈশ্বরকে অতীন্দ্রিয় সত্ত্বা হিসেবে বিবেচনা না করে মানবীয় দৃষ্টিতে বিবেচনা করেছিল।

ইহুদি ঈশ্বর বিশ্বাসে সমস্ত কিছুর মালিকানা ও ক্ষমতার প্রশ্নে স্থান দিয়েছিলো বিভিন্ন দেবতার। এবং দরকার হয়েছিল ঈশ্বর পুত্রের। ফলত ইহুদিদের ঈশ্বর ধারণায় গ্রিক ও পারসিয়ান খোদা বিশ্বাস প্রভাবিত করেছে।

হিন্দু ধর্মে খোদা বিশ্বাস :

হিন্দু ধর্মের আদিতে ছিলো একেশ্বরবাদ। তাঁরা ছিলেন স্রষ্টায় বিশ্বাসী। স্রষ্টার দায়িত্বকে বন্টন করা হয়েছে বহু দেবতার মাঝে। দেবতাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন প্রধান। তাঁরা হলো, ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব। তাদের ছিলো সহধর্মিণী। যথাক্রমে তাঁরা হলো, সরস্বতী, লক্ষ্মী ও পার্বতি। এছাড়া রয়েছে অসংখ্য দেবী। প্রত্যেক দেবী একেক বিষয়ের প্রশমক। যেমন, ঊষা ভোরের দেবী, রাধা প্রেমের দেবী,স্বাহা বিবাহের দেবী ইত্যাদি। আরো আছে সম্পর্কিত দেবতা এবং অসংখ্য অবতার। বলা হয়ে থাকে সর্বমোট তেত্রিশ কোটি দেবতার কথা। দেবতাদের থেকে মঙ্গল কামনার্থে করতে হয় উপাসনা। উপাসনার রয়েছে বিভিন্ন মাত্রা। যেমন, যজ্ঞ, পূজা, উপবাস ও তীর্থযাত্রা। এসবের রয়েছে আরো নানা বৈচিত্র। যিনি প্রধান ঈশ্বর তথা ব তাঁর অঙ্গ হতে গঠিত হয়েছে চারটি শ্রেণীবিভাগ। পরবর্তীতে শ্রেণী গুলো বৈষম্যে পৌঁছেছে৷  বলা হয়, ব্রহ্মার মাথা হতে জন্মেছে ব্রাহ্মণ, ব্রহ্মার পা হতে শূদ্র এবং অন্যান্য অংশ হতে বৈষ্য ও ক্ষত্রিয় জন্মের কথা। হিন্দু ধর্মে ঈশ্বরের ভাবনাকে মানবাকৃতির মতো ধারণ করে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা হয়েছিল।

হিন্দুদের ঈশ্বর বিশ্বাসে আরো রয়েছে বিস্তৃত পরিসর। বেদের আলোকে ভাগ করা হয়েছে আস্তিক ও নাস্তিক। এক ঈশ্বরকে জগতের সকল কিছুর নিয়ন্ত্রক মানতে তাদেরকে আশ্রয় নিতে হয়েছে বিভিন্ন দেবতার। এককথায় হিন্দুদের ধর্মে খোদাতত্ত্ব দেবতা বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে।

ইসলাম ধর্মে খোদা বিশ্বাস :

ইসলাম ধর্মে খোদা বিশ্বাসের ধারণা হলো তাওহীদ বা একত্ববাদ।  যিনি একক তিনি হলেন অদৃশ্য। তাঁর ক্ষমতা দৃশ্য ও অদৃশ্য জগতের পরতে পরতে। তিনি শুধু  স্রষ্টা হিসেবে নয় প্রত্যেক ব্যক্তি,বস্তুর নিয়ন্ত্রক। শক্তির জোগানদাতা ও বিশ্বের পরিচালক। তাঁর রয়েছে নিরানব্বইটি গুণবাচক নাম। এবং প্রত্যেক নামের রয়েছে যথাযথ প্রতিপলন। তাঁর সাথে কেউ অংশীদার নেই,আরো নেই স্ত্রী, সন্তান। তিনি একক তিনি অদ্বিতীয়। তাঁর নৈকট্য অর্জনের জন্য করতে হয় ইবাদাত বা  উপাসনা। উপাসনায় রয়েছে সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলি। যেসব নিয়মাবলি শিখিয়েছে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।

খোদা বিশ্বাসের জায়গায় প্রত্যেক ধর্ম, দর্শন একজন অদৃশ্য সত্ত্বাকে অনুভব করেছে। তাঁর ক্ষমতা বুঝতে ধর্ম, দর্শনের মধ্যে গড়ে উঠেছে মত পার্থক্য। ফলত ঈশ্বরকে কখনো ভাগ করা হয়েছে আবার কখনো ঈশ্বরের সহযোগ খোঁজা হয়েছে। যার ফলে জন্ম নিয়েছে দ্বৈতবাদ বা বহুত্ববাদ। মতবাদের সাথে যুক্ত করা হয়েছে উপাসনার নানা পদ্ধতি। এতে আড়াল থেকেছে মহা বিশ্ব সৃষ্টির মুল কারিগর। সর্বোপরি খোদাতত্ত্ব ধর্মভেদে নানা বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে।

লেখক, আতিক উল্লাহ আল মাসউদ

শিক্ষার্থী, আইআইইউসি

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial