ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১১ জানুয়ারি ২০২৪
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

স্বপ্ন যদি সত্যি হতো

মৃধা প্রকাশনী
জানুয়ারি ১১, ২০২৪ ২:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

প্রচন্ড ঠান্ডায় জীবনের মায়া ত্যাগ করলো কতো মানুষ, গরমে তো পানিই আসে না স্বল্প গভীরের পানিকল থেকে।

এইতো অপরিকল্পিত পরিবার পরিকল্পনায় ৭ সন্তানের জন্ম হওয়ায় , সিদ্দিক এখন তাদের বসতবাড়ীর জন্য পুরনো গাছবাগানটা কেটে ফেললো। চাষাবাদের জমি বাড়ানোর জন্য পুর্বপুরুষদের জঙ্গলটাও কাটলো।
বড় ছেলে রহমান এখন ইট ভাটায় কাজ করে, আর এক ছেলে রিয়াজ পুরনো আমলের কালো আর দুর্গন্ধ ধোয়া বের হওয়া টেক্সিটা চালায়। এদিকে একদম ছোট ছেলেটা পলিথিন আর প্লাস্টিক পুড়িয়ে যেন মজা পায়।
সিদ্দিকের স্বল্পশিক্ষিত ছেলে হোসেন, গাছ লাগানো যেন তার নেশা। কি যেন পেয়েছে সে পুরনো প্লাস্টিকে!! বছরখানেক ধরে প্লাস্টিক আর পলিথিন সংগ্রহ করছে।। তবে তার সামাজিক কিছু কর্মকাণ্ড সত্যিই প্রশংসনীয়।
তার চিন্তা তার জন্মস্থান মোসলমারী গ্রামের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা। জনসংখ্যা বৃদ্ধি তার দৃষ্টিতে পরিবেশের জন্য সবথেকে বেশি হুমকির।বেশি বনজঙ্গল আর গাছপালা উজাড় হয় চাষাবাদ আর বসতবাড়ীর জন্য। তাই হোসেন নিয়মিত তার গ্রামে উঠান বৈঠক করে পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলে। বাড়ির পাশের ছোট গাছগুলার যত্ন করতে উৎসাহ দেয়। গাছের বিনিময়ে মানুষদের থেকে প্লাস্টিক নেয় আর সেগুলো কারুশিল্পে দক্ষ শিল্পীদের দিয়ে ফুলের টব সহ নানা ধরনের জিনিস বানিয়ে নেয়।

২০২৪, নতুন বছরের উৎসব মুখর দিনে গ্রামের বড় পুকুরটায় মাছচাষ শুরু করে গ্রামবাসীরা,উদ্দেশ্যে তথা স্বপ্ন তাদের মসজিদের উন্নয়ন। সপ্তাহখানেক পর সাকিব চৌধুরীর সদ্য চালু হওয়া কারখানাটার বর্জ সকলের অবচেতনে নিষ্কাশিত হয় এই পুকুরটায়। ফলস্বরুপ, গ্রামবাসীদের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়।
বিষয়টি হোসেনকে অনেক কষ্ট দেয়!!

হোসেনদের চাষাবাদের জমি গুলোতে অনেক বেশি ফসল ফলতো আধুনিক বিজ্ঞানের চমৎকার আবিষ্কার রসায়নিক সারের বদৌলতে। এখন যেন জমিগুলো তাদের যৌবন হারিয়ে ফেলছে। ফলিত ফসলেও কোন স্বাদ নেই। হোসেনের এই নিয়ে চিন্তারও শেষ নেই।

বায়ু,পানি,মাঠি সব কিছু নিয়ে ভাবতে ভাবতেই রাতে হোসেন সুখ পাখিটার খোজে বালিশে মাথা দেয়—

হোসেন তার কিছু সহপাঠীদের নিয়ে গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগাচ্ছে যাতে আছে পানি, মাটি,বায়ু সহ পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান সমুহের দূষণ রোধের করনীয়। তারা মাঠপর্যায়ের কৃষকদের রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান করে এবং ইউনিয়নের কৃষক সংগঠনের সহায়তা নেয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সমাজ সেবক ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় প্রায় ৩০০০ টি গাছ লাগায় সেই সাথে মাসিক বনায়ন কর্মসূচি চালু করে।অব্যবহিত প্লাস্টিক দিয়ে একটি গাছের ভাস্কর্য তৈরি করে। প্লাস্টিক দিয়ে ময়লা এবং আবর্জনা ফেলানোর ডাস্টবিন তৈরি করে।
স্থানীয় প্রশাসন দ্বারা পরিবেশ দূষণকারী গাড়ি ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করে।

ভাঙ্গা গাড়ির উচ্চ হর্ণে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় হোসেনের সে ভাবতেই থাকে যদি তার মাত্র দেখা স্বপ্নটি পূরণ হতো!!!

মো:সাহাবির হোসেন সাব্বির
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial