ঢাকাবুধবার , ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

প্রতিমা

মৃধা প্রকাশনী
ডিসেম্বর ২৭, ২০২৩ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

‘প্রতিমা’ বলতে মানুষের কাছে কোনো কিছুর অবিকল রূপ ফুটে ওঠে কিন্তু তা আসলে জীবন্ত নয়।যেমন – বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা,গাছপালার প্রতিমা,ব্যাক্তির প্রতিকৃতি প্রভৃতি।বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠী প্রতিমার পূজা করে।তাঁদের কাছে তারা প্রার্থনা করে। কিন্তু এই প্রতিমা গুলোর এমন চোখ যা দেখতে পারে না,এমন কান যা শুনতে পায় না,এমন ত্বক যাতে অনুভূতি নেই অর্থাৎ পঞ্চইন্দ্রিয়ই অচল। তবু্ও তারা প্রাণভরা আশা নিয়ে তাঁদের কাছে কাকুতি-মিনতি করে থাকে। তাদের বিশ্বাস হয়তো এঁরা শুনবে, হয়তো এঁরা দেখবে, হয়তো তাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে।আমি এরকম কোনো প্রতিমার কথা বলছিনা। আমি বলছি এমন প্রতিমার কথা যা আসলে প্রতিমা নয়।যা আসলেই জীবন্ত কিন্তু এই জীবন্ত সত্তা যখন দেখেও না দেখার ভান করেন,বুঝেও না বুঝার ভান করেন, শুনেও না শোনার ভান করেন তখন তাকে প্রতিমা না বলে উপায় নেই। মাটির তৈরী প্রতিমা হয়তো চোখের ভাষা বুঝতে পারেন না,কিন্তু এই জীবন্ত প্রতিমাও কি তা পারেন না? কেনো?
চোখ দিয়ে হৃদয়ের কথা বলা যায়, মনের আকুতি প্রকাশ করা যায় এমনকি নিজের ভালোবাসাও প্রকাশ করা যায়। তিনি কি সেই হৃদয়ের কথা, সেই মনের আকুতি, সেই ভালোবাসা গ্রহণ করতে পারেন না? প্রতিমার সামনে সংস্কৃত শ্লোক উচ্চস্বরে আবৃত্তি করা হয় কিন্তু প্রার্থনা মনের ভাষাতে অনুচ্চারিত ভাবে বলা হয়।জানি, প্রতিমা অন্তর্যামী নন।কিন্তু তিনি যদি অন্যের হৃদয়ের ডাক শুনতে পান তবে আমার ডাক শুনতে পান না কেনো?
ভক্তিভরে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান, যজ্ঞভাগ প্রদান যারা করতে পারেন শুধু কি তাদের পুজোই প্রতিমার কাছে গ্রহণযোগ্য?যারা পশু বলিদান দেয় তাদেরটাই কি গ্রহণযোগ্য আর যারা তৎপরিবর্তে কবুতর জাতীয় পাখি বলি দেয় তাদেরটা নয়? তার চেয়ে কি আত্মবলিদান শ্রেষ্ঠ নয়?
হে প্রতিমা, কেন তুমি স্পষ্ট করছনা আমার কাছে কি করলে তোমায় তুষ্ট রাখতে পারবো? তবে কি তুমি ধনীদের সহায়?রত্ন তোমার চিরপছন্দ? নাকি যারা খ্যাতিমান তাদের ডাকে তুমি সাড়া দাও?অথবা তুমি শক্তিধরদের সহায়? তুমি কি সুন্দরের সহায়? তাদেরই পূজো কি তোমার কাছে গ্রহণযোগ্য?
হে প্রতিমা, এ তোমার কেমন বিচার? তুমি যদি ধনীদের সহায় হও তবে দরিদ্ররা কার পূজো করবে? তুমি যদি খ্যাতিমানদের সহায় হও তবে যুগ যুগ ধরে কি সবাই খ্যাতির পিছনে ছুটবে? তুমি যদি শক্তিধরদের সহায় হও দুর্বলেরা কি তোমার ভক্ত নয়? যদি তুমি রাজাদের সহায় হও তবে কি প্রজারা তোমার পূজো করে না প্রতিমা? তুমি যদি শুধু সুন্দরের পূজা গ্রহণ করো তবে কি অসুন্দর চিরকাল দুঃখই করবে? যারা দুঃখী, যারা অসহায়, যারা গরীব, যারা সবখানেই হেয় প্রতিপন্ন তারা কি তোমার কাছেও হেয়? মেধা, মনন,যোগ্যতা, মূল্যবোধ এসবের কোনো মূল্য নেই তোমার কাছে?
জানিনা তোমার উত্তর। প্রতিমার কাছে কেউ উত্তর আশাও করেনা। তবু ভক্তের হৃদয় সব সময় প্রতিমার ভজন গায়। যদিও ভক্ত শ্রেণিবিন্যাসের দিক দিয়ে গরীব, অসুন্দর, কুৎসিত, কালো, শক্তিহীন তবুও সে চিরজীবন প্রতিমার জয়গান গেয়ে যায়। কিন্তু কিন্তু ভক্ত জয়ী হলো নাকি পরাজিত এতটুকু কি দেখতে পারেন না প্রতিমা? তবে আমি কার পূজো করি? নিশ্চয়ই আমি প্রতিমার পূজো করি। ভক্তের হৃদয় প্রতিমাকে ভালোবাসে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।মুখ ফুটে না বললেও সে ভালোবাসে। আর বাসবেও কোনো প্রতিদানের আশা ছাড়াই। তেমনি আমিও ভালোবাসি। অবশ্যই ভালোবাসি আমার মনের প্রতিমাকে।জয়তু প্রতিমা।

— অচেনা পাথর

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial