ঢাকাশুক্রবার , ২২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

পচনশীল সমাজ

মৃধা প্রকাশনী
ডিসেম্বর ২২, ২০২৩ ৩:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এম.এ.হোসাইন

 

যে জাতি যত বেশী শিক্ষিত,সে জাতি তত বেশী উন্নত। একই-ভাবে যে সমাজে যত বেশী শিক্ষিতের উদ্ভব-বসবাস, সে সমাজ তত বেশী মার্জিত ও গৌরবান্বিত।

পচনশীল বিশেষণ এই শব্দটি এমন কিছু বিশেষ্যের আগে বসে এমনভাবে ঐ বিশেষ্যকে নষ্ট করে দেয় যার ক্ষতির প্রভাব পরের পরের-ও প্রজন্মের উপর গিয়ে পড়ে,পড়তে পারে।

এমন একটি বিশেষ্যের নাম “সমাজ”। এই বিশেষ্যের আগে পচনশীল শব্দের প্রয়োগ একবার ঘটলেই সারাজীবন মেরুদন্ডহীন প্রাণীর মতো বেঁচে থাকা বৈ আর কোনো লেশমাত্র উপায় খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এই যে মহাশয়-এরা, আমি প্রথম ব্যক্তিকে তেমন-একটা দোষ দিবো না। কারণ প্রথম ব্যক্তির প্রথমে কোনো স্থিরকৃত মালমশলা দিয়ে একটা ঠিকঠাক বস্তু তৈরি করতে গেলে ভুল হতেই পারে, অস্বাভাবিক কিছু নয়। মজার বিষয় এই যে, সে কী কী ভুল করেছে তা-সব দেখতে পাবে দ্বিতীয় ব্যক্তি।

প্রথম ব্যক্তি কী এমন ভুল করেছে তা কখনো তৃতীয় ব্যক্তির দেখার সাধ্য নেই,সময় নেই, সুযোগ নেই। কেননা তৃতীয় ব্যক্তির আগেই দ্বিতীয় ব্যক্তির অবস্থান। এবং তৃতীয় ব্যক্তি বিশাল একটা পরিধির। এখানে প্রথম ব্যক্তি পরিবার, দ্বিতীয় ব্যক্তি সমাজ ও তৃতীয় ব্যক্তি দেশ। আর বস্তু মানে সন্তান। আপনার সন্তানকে যথার্থভাবে গড়ে তুলার দায়িত্ব আপনার এবং সমাজের, দেশের বা রাষ্ট্র-প্রধানের নয়। পরিবার এবং সমাজ বা পরিবেশ সেই-সন্তানকে কী শিক্ষা দিয়েছে তা সে দেশের সামনে উপস্থাপন করবে মাত্র। উপস্থাপনে বুঝা যাবে সে কোন সমাজের পরিবেশ-এ বড় হয়েছে, পচনশীল সমাজে নাকি উন্নয়নশীল সমাজে।

একটা প্রবাদো আছে,___ “Practice makes a man perfect.” মানে,করতে করতেই কাজি হয়।

এখন একজন সন্তান যদি খারাপ পরিবেশে বড় হতে থাকে তাহলে তার মস্তিষ্কে ভালো কিছু আবিষ্কার হওয়ার প্রশ্ন-ই আসে না। কারণ সে এই পরিবেশেই বেড়ে উঠেছে।

আপনারা এতক্ষণ-এ নিশ্চয়ই সমাজ ও দেশকে একত্রে মিশিয়ে ফেলছেন। কিন্তু সমাজ ও দেশ এক নয়। সমাজ এর আয়তন ছোট্ট পরিধির। দেশের আয়তন বিশাল। আপনাকে আপনার সমাজের-প্রধান ব্যক্তিগতভাবে চিনবে। কিন্তু দেশের -প্রধান আপনাকে কখনো চিনবে না। উল্টো আপনার পরিচয় পত্র চাইবে। রাষ্ট্র-প্রধান ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে কিছুই দিবে না। কারণ আপনাকে চিনেনা। এই যে “চিনেনা” শব্দ থেকে “ চিনে”তে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করবে কেবল আপনার পরিবার এবং সমাজ। এখানে থার্ড পারসন এর কোনো হাত নেই।

ছোট বেলায় শুনে আসছিলাম যে, একটা খারাপ পরিবেশে বা সমাজে বেড়ে উঠা সন্তান এবং সুস্থ -সুন্দর,শিক্ষিত পরিবেশে বেড়ে উঠা সন্তানের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে তেল ও পানি। তেল হচ্ছে শিক্ষিত সমাজে বেড়ে উঠা সন্তান আর পানি হচ্ছে অশিক্ষিত সমাজে বেড়ে উঠা সন্তান। পানি-ভর্তি একটা পেয়ালায় যে কোনো জায়গায় এক ফুটা তেল ফেললে পুরো পেয়ালায় তেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়।

এমনো অনেক দেখেছি,__ যারা গ্রাম ছেড়ে শহুরে পাড়ি জমিয়েছে, জমাচ্ছে,জমাবে সামনেও। কেন তারা গ্রাম ছেড়ে,নিজ পরিবার ছেড়ে, বৃদ্ধ মা-বাবাকে ফেলে শহুরে পাড়ি জমাচ্ছে? প্রশ্ন করেছেন বিবেক’কে কখনো?

তারা গ্রামের পরিবেশে তাদের সন্তানদের বড় হতে দিচ্ছে না। গ্রাম আর শহর এক নয়। দুয়ের মধ্যে পরিবেশ ও মানুষের অনেক তারতম্য রয়েছে।

সন্ধ্যা-বেলায় পড়ার সময়ে যে সমাজের অলিগলিতে যখন সন্তানেরা হৈ-চৈ করে,আড্ডা দেয়, গালাগালির আওয়াজ শুনা যায়, ফ্রি ফায়ার -পাবজি গেম নিয়ে মত্ত থাকে,দু দিন পর পড়ালেখা ছেড়ে যখন অর্থের নেশায় জুয়া খেলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায় যোগাযোগ স্থাপন করে, চাপাবাজি,নেতাগিরি নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সমাজের বড় পুকুর পাড় যখন রাতের বেলার বিভিন্ন খেলার জায়গা হয়, পুকুর ঘাটে মেয়েরা যখন পর্দাহীন ভাবে গোসল করে,  শারীরিক সম্পর্ক করার মতো যখন সমাজে পরিবেশ থাকে, এ-সব কর্মকাণ্ডের প্রতি যখন সমাজের উচ্চপদস্থ মানুষ, সমাজ সেবক, সামাজিক সংগঠন ইত্যাদি থেকে বাঁধা না আসে তখন ঐ-সমাজের আগে পচনশীল বিশেষণ শব্দটি ব্যবহার করতে হয়, করা প্রয়োজন।

যখন একটা সমাজের যুবক-এরা দু-চার-পাঁচ ক্লাশ পড়েই আর শিক্ষা গ্রহণ না করেই টাকার পেছনে ছুটে চলে, ঘরে ঘরে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর, এডভোকেট, মুহাদ্দিস, মুফাস্সির,মুফতি,হাফেজ-মাওলানা ও সরকারি উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তা হওয়ার পরিবর্তে ঘরে ঘরে যখন পাতি-নেতার উদ্ভব হয় তখন ঐ-সমাজের আগে পচনশীল শব্দটি ব্যবহার করতে হয়, করা প্রয়োজন।

একটা পরিবারে শিক্ষিত ব্যক্তি নাও থাকতে পারে, দোষের কিছু নয়। ঐ পরিবারের নাতি-পতিরা শিক্ষিত না-ও হলেও কোনো কিছু বলার নেই।কারণ তারা শিক্ষা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। কিন্তু একটা সমাজের প্রধান কখনো অশিক্ষিত ব্যক্তি হতে পারে না।আপনি সমাজ প্রধান এবং আপনি দ্বিতীয় ব্যক্তি। আপনার কাজ প্রথম ব্যক্তির ভুল শুধরে দিয়ে তৃতীয় ব্যক্তির কাছে যাতে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারে সেভাবে উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে সাহায্য করা। আর যে সমাজের প্রধান অশিক্ষিত হবে সে সমাজের প্রত্যেকটি পরিবার -এ পাতি-নেতার উদ্ভব হবে, দু-চার-পাঁচ ক্লাশ পড়েই  কাজে লেগে যাবে,(কাজের পাশাপাশিও পড়ালেখা করা যায়)পাঁচদিন পর বিদেশ গমন করবে(অবশ্য এই প্রফেশানসকে আমি অসম্মানিত করছি না)। ঠিক তখনই ঐ-সমাজের আগে পচনশীল শব্দের ব্যবহার করতে হয়, করা প্রয়োজন।

হার্বাট স্পেনসা বলেন “শিক্ষার কাজ হলো মানুষকে জীবন ও জীবিকার উপযোগী করে তোলা।“

বর্তমান -এ ঠিক উল্টো। শিক্ষা ছাড়াই জীবিকা খুঁজতে বেরিয়ে পড়ছে।

সমাজের যে পরিবারগুলোতে শিক্ষার অভাব আছে,যারা শিক্ষার মান-মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ, সমাজকে একটা বেস্টনিতে আবদ্ধ করে একটা সুশীল ও শিক্ষিত সমাজ গঠন করা সমাজ প্রধান, সামাজিক সংগঠন গুলোর দায়িত্ব। Education is the backbone of a nation.মানে হচ্ছে “ শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড”। এই মেরুদণ্ড গঠনে বাস্তব রূপ দিতে সাহায্য করবে পরিবার ও সমাজ। পরিবার অক্ষম হলে দায়িত্বটা সমাজের। প্রতিষ্ঠান কেবল শেখাবে।কী শেখাবে তা বলে দিবে দেশ।

এম.এ.হোসাইন

শিক্ষার্থী: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial