ঢাকাশুক্রবার , ২২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ভাইরাল “বিদায় গান ও গায়িকা আয়শা” প্রসঙ্গে

মৃধা প্রকাশনী
ডিসেম্বর ২২, ২০২৩ ১১:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সেঁজুতি মুমু

বেশ কয়েকদিন যাবৎ সোশাল মিডিয়ায় লায়লা -মামুন, সবুজ আর কে কে যেন ওহ হ্যাঁ বিদায় গান ইত্যাদি নিয়ে রোস্টিং আর সাপোর্ট ভিডিও দেখতে দেখতে ত্যাক্ত হয়ে গেছি। এই জন্য ফেসবুকে ভিডিও দেখাই বন্ধ করে দিয়েছি। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে মোটেও ভালো লাগে না। তবুও “বিদায় গান” বিষয়ে কথা না বলে পারছি না।

প্রথমত আমি আয়শা মেয়েটার অনুভূতিকে শ্রদ্ধা করি। পঞ্চম শ্রেনিতে পড়া একটা মেয়ের বয়সই বা কত হবে সর্বোচ্চ ১২ বছর। এর বেশি না। এই বয়সে স্কুল থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তার যে অনুভূতি প্রকাশ করেছে তা আসলেই অনেক সুন্দর। এতটুকু মেয়ের থেকে আর কি বা আশা করা যায়। বড় বড় সাহিত্যিকরাও এই বয়সে কবিতা লিখতে পারেন নি। সেখানে ছোট্ট একটা বাচ্চা মেয়ে তার অনুভুতি এত গুছিয়ে  প্রকাশ করেছে বা করার চেষ্টা করেছে , এটা সত্যি প্রশংসনীয়।

এরপর আসি সেসব মানুষদের কথায় যারা এটা নিয়ে মজা করছেন। ভাই বলতে চাই গানটা আমাদের কাছে ফানি হতেই পারে। কিন্তু এর পিছনে বাচ্চাটার অনুভুতিটা অন্তত রেস্পেক্ট করুন। আসলে দোষ আপনাদেরও না। দোষ হচ্ছে কতিপয় কিছু সোশালমিডিয়ার ফ্রিল্যান্সার হলুদ সাংবাদিকদের। আমি সাংবাদিকদের যথেষ্ট সম্মান করি কিন্তু কিছু মানুষ ভাবে মাইকে কথা বলে দুটা প্রশ্ন করে ভিডিও বানালেই বুঝি সাংবাদিক হওয়া যায়। হাসিও পায় আবার রাগও ওঠে। সে যাই হোক আসল কথায় আসি। আয়শা মেয়েটা ভাইরাল হয়েছে, তার গানের ভিডিও যিনি আপলোড করেছেন, তিনি হয়ত ভালো উদ্দেশ্যেই করেছেন। কিন্তু এখন যে প্রকার মাতামাতি চলছে এতে আর কারো না ঐ বাচ্চাটার ক্ষতি হচ্ছে। তথাকথিত কিছু মিউজিক ডিরেক্টর ভিউসের লোভে বাচ্চা মেয়েটাকে দিয়ে এমন ভাবে এমন সব গান গাওয়াচ্ছে যে বাচ্চাটা হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছে। ঐটুক বাচ্চা বোঝেই বা কি। এই ভাইরাল রোগে তাকেও ফাসিয়ে ছাড়লেন!!  আর বাচ্চাটার পরিবারের মানুষ কি এত অবুঝ?  যে মেয়েটার কথা ভাবছে না। এসব ভাইরাল হওয়ার দুইদিন পর সবাই ভুলে যাবে। কিন্তু হাসির পাত্র হয়ে থাকতে হবে ঐ বাচ্চা মেয়েটাকে। ঠিক এমনই একটা মেয়েকে ভাইরাল করেছিলেন আপনারা। কি যেন নাম ওহ হ্যাঁ ভাইরাল সুমাইয়া। তার বর্তমান পরিনতির কথা আর উল্লেখ করলাম না।

আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি দয়া করে এই শিশুদের ভবিষ্যৎ বাঁচান। তারাই কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের এমনভাবে পরিচালনা যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে স্টেপ নেওয়া খুব জরুরি। নয়তো দেশের অবস্থা তো নাজেহাল হবে সাথে সাথে বাচ্চাগুলোর শৈশব, কৈশোর তথা জীবনটাই রসাতলে যাবে। মানবাধিকার বা স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে যারা উলটা পালটা গান বানায়, তা নিয়ে আবার মাতামাতি করে এতে স্বাধীনতার অপমান ছাড়া আমার কাছে আর কিছু মনে হয় না। আপনাদের মতামত ভিন্ন হতেই পারে, আমি সেটাকে সম্মান করি। আমি আমার মতামত প্রকাশ করলাম মাত্র। ধন্যবাদ।
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial