ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২১ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

বিসিএলেও আলো ছড়ালেন নাঈম ইসলাম

জুবায়ের আহমেদ
ডিসেম্বর ২১, ২০২৩ ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জুবায়ের আহমেদ

দেশের একমাত্র ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক চারদিনের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগের ১১তম আসরে গতকাল নর্থ জোনকে ইনিংস ও ১১২ রানে হারানোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইরফান শুক্কুরের নেতৃত্বাধীন ইষ্ট জোন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হয়েছেন জাতীয় দলের তারকা পেসার খালেদ আহমেদ। সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট শিকার করে টুর্নামেন্ট সেরাও হয়েছেন তিনি। অপর ম্যাচে সাউথ জোনকে ১০ উইকেটে হারিয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে সেন্ট্রাল জোন। ৮৯ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন নাঈম ইসলাম। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ২৪৪ রানও করেছেন তিনি।

নাঈম ইসলামের নাম নিলেই আক্ষেপ শব্দটি চলে আসে অনায়াসে। ২০১৪ সালে জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ খেলা এই ক্রিকেটার ঘরোয়া লীগে নিয়মিত সেরা ক্রিকেট খেললেও জাতীয় দলে আর সুযোগ পাননি। অবহেলার শিকার হওয়ার পরও ধমে যাননি নাঈম। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে হয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ৩৩ সেঞ্চুরী ও ২য় সর্বোচ্চ ১০৬২৭ রানের মালিক। নাঈমের সামনে এখন শুধুই তুষার ইমরান আছেন। আর ১৩৪৫ রান করলেই তুষার ইমরানকে ছাড়িয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বোচ্চ শতকের পাশাপাশি সর্বোচ্চ রানের মালিক হবেন নাঈম। ফর্মের তুঙ্গে থাকা নাঈমের জন্য এটি কঠিন কাজ হবে না। বিসিএল এর আগে শেষ হওয়া জাতীয় লীগেও ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছিলেন নাঈম ইসলাম। ৩য় সর্বোচ্চ ৪৫৩ রান করেছিলেন ব্যাট হাতে। ফর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন বিসিএলেও।

বাংলাদেশ জাতীয় দল যেখানে ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা লাভের পরও এখনো নিয়মিত পারফর্ম করতে না পেরে টেস্ট ক্রিকেটে শেখার পর্যায়েই আছে, সেখানে নাঈম ইসলামের অভিজ্ঞতার প্রদর্শনী কেবল ঘরোয়া ক্রিকেটেই চলছে। জাতীয় দলকে অনেক কিছু দেবার থাকলেও কাঙ্খিত সুযোগ আসেনি ২০১৪ সালের পর। ঘরোয়া ক্রিকেটে মার্শাল আইয়ুবের ওভারে ৬টি ছয় হাঁকিয়ে ছক্কা নাঈম খ্যাতি পাওয়া এই অলরাউন্ডার জাতীয় দলের হয়ে ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৮টি টেস্ট, ৫৯টি ওয়ানডে ও ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ক্যারিয়ারের একমাত্র শতক পেয়েছেন টেস্ট ফরম্যাটে। ২০১২ সালে নিজের খেলা ৮ টেস্টের মধ্যে ৭ম টেস্টে উইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুরে ১০৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন, সেই সিরিজের ২য় ম্যাচ খেলার পরই আর সুযোগ হয়নি জাতীয় দলে। অবাক করা বিষয় ওয়ানডে ফরম্যাটে ২০১৩-১৪ সালে টানা ৮৪, ১৬, ৬৩, ৩২, ১৪, ৩৫ রানের ইনিংস খেলার পরই জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হয়ে যায় নাঈমের।

নাঈমের বর্তমান বয়স ৩৭ চলছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে এই বয়সটা ক্রিকেটারদের হয়ে কথা না বললেও টেস্ট ক্রিকেট অথবা নির্দিষ্ট কোন এক ফরম্যাটে চল্লিশ পর্যন্ত অনায়াসেই খেলতে পারে একজন ক্রিকেট। ক্রিকেট বিশ্বে অসংখ্য নজির আছে এমন। ঘরোয়া ক্রিকেটে যখন একের পর এক আলো ছড়ানো পারফর্ম করেন নাঈম, তখনই গুঞ্জন উঠে নাঈমকে ফেরানো হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটে, কিন্তু গুঞ্জন আর আলোর মুখে দেখেনি এ পর্যন্ত। টেস্ট ক্রিকেটে এখনো বাংলাদেশ দলে অভিজ্ঞ ও নিয়মিত পারফর্মারের সংখ্যা কম। অপরদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটে রান বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন নাঈম। নাঈমকে নিয়ে হয়তো এই পর্যায়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা সাজানোর সময় খুব কম। তবে বয়স যাই হোক, ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করলে জাতীয় দলের দরজা খোলে, বহু দেশের এমন স্বাভাবিক রীতির সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটেও নাঈমকে ফেরানোর মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্মারদের সামনে একটা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত নির্বাচকরা চাইলেই করতে পারে। তাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই লাভ। বিসিবি কি ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিজ্ঞ পারফর্মারদের মূল্যায়ণ করবে? এই প্রশ্নটা রাখাই যায়।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial