ঢাকামঙ্গলবার , ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ক্রিকেটে যুব দল এবং জাতীয় দলের সফলতা প্রসঙ্গে

জুবায়ের আহমেদ
ডিসেম্বর ১৯, ২০২৩ ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গত ১৭ই ডিসেম্বর আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৯ ওয়ানডে এশিয়া কাপের ফাইনালে স্বাগতিক আরব আমিরাতকে ১৯৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো যুব এশিয়া কাপ জিতেছে বাংলাদেশ। যুব দলের এই অভাবনীয় সফলতায় ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ২০২০ সালে যুব ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২৩ সালে এশিয়া কাপ জয়ই প্রমাণ করে সঠিক পথেই আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মূলভিত্তি যুব দল। শুধু যুব দলই নয়, বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলও এশিয়া কাপ জিতেছে। সেই সাথে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে সাউথ আফ্রিকার মতো দলকেও তাদের মাটিতে টি২০ ম্যাচে হারানোর পর ওয়ানডে ম্যাচেও হারানোর গৌরব অর্জন করেছে। যুব দলের পাশাপাশি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলও সঠিক পথেই আছে।

যুব দল কিংবা প্রমীলা দলের সফলতা নিয়ে উচ্ছসিত হওয়ার বিপরীতে বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দল অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল মঞ্চে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স এখনো আশানুরূপ হতে পারছে না। হোম সিরিজগুলোতে বাংলাদেশ প্রভাব বিস্তার করতে পারলেও এ্যাওয়ে সিরিজ এবং আইসিসির নিজস্ব ইভেন্টগুলোতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ভক্ত সমর্থকদের মনে হতাশার সৃষ্টি করেছে। যুবারা কিংবা নারীরা পারলেও বড়রা কেন পারছে না, যুবারা কেন জাতীয় দলে এসে পারফর্ম করতে পারছে না, এই ধরনের প্রশ্ন এখন সকলের মনে। বিশেষ যুব দল ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও সদ্য সমাপ্ত হওয়া এশিয়া কাপ জয়ের পর বড় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা বাড়ছেই দিনকে দিন।

সত্যিই কি জাতীয় দলের পারফরম্যান্স হতাশাজনক? নাকি বাস্তবতা ও সামগ্রিক চিত্র না দেখে ভক্ত সমর্থকরা বাড়াবাড়ি করছে, তা নিয়েই আলোচনার চেষ্টা করবো। যুব এশিয়া কাপের ইতিহাসে দেখা যায় সদ্য সমাপ্ত আসর সহ মোট ১০ বার অনুষ্ঠিত হয়েছে। তম্মধ্যে পাকিস্তানের সাথে ১বার যৌথভাবে সহ ৮ বার শিরোপা জিতেছে ভারত। আফগানিস্তান ১বার এবং বাংলাদেশ ১বার জিতেছে। এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি শ্রীলংকা একবারও এশিয়া কাপ জিতেনি। এককভাবে জিতেনি পাকিস্তানও। যুব ওয়ানডে বিশ্বকাপ ১৪ বার মাঠে গড়িয়েছে। তম্মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ বার জিতেছে ভারত, ৩ বার অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ২ বার, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ, সাউথ আফ্রিকা, উইন্ডিজ ১বার করে জিতেছে। বড় দলগুলোর মধ্যে যুব বিশ্বকাপ জিতেনি নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকা। যুব বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের শিরোপার সাথে জাতীয় দলকে মেলালে প্রতীয়মান হয় যে, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ব্যতীত অন্যান্য দলগুলোর যুব দলের শিরোপার প্রভাব জাতীয় দলের শিরোপা অর্জনের ক্ষেত্রে পড়েনি। কেননা শ্রীলংকা যুব এশিয়া কাপ না জিতেও ওয়ানডে ও টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছে, একাধিকবার ফাইনাল খেলেছে। পাকিস্তানও এককভাবে যুব এশিয়া কাপ জিতেনি, কিন্তু বড়দের ক্রিকেটে ঠিকই ২টি বিশ্বকাপ জয় সহ চ্যাম্পিয়ন ট্রফিও জিতেছে। নিউজিল্যান্ডও যুব বিশ্বকাপ জিতেনি, তবে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম সফল দল। তবে এটি অবশ্যই স্বীকার করতে হয় যে, যুব দলের ক্রিকেটারদের অধিকাংশই পরবর্তীতে জাতীয় দলের হয়ে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে এবং বর্তমানের দলগুলোতেও রাখছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাস নিয়ে কথা বলতে গেলেও যুব দলের চেয়ে জাতীয় দলভিত্তিক ক্রিকেটের জয়গানই গাইতে হবে সবার আগে। বাংলাদেশের যুব দল ক্রিকেট বিশ্বে আলোচিত পারফর্ম করার আগে থেকেই জাতীয় দল সফলতা পাওয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এগিয়ে যাওয়ার মূল প্রেরণা এসেছিল ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমে। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তান ও স্কটল্যান্ডকে হারানো এবং ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা লাভের মাধ্যমেই বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্ব ক্রিকেটে মাথা উচু করে দাঁড়ায়। ক্রিকেট বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শক্তিশালী দলগুলো নিয়ে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হয়, এই এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দল ২০১২, ২০১৬, ২০১৮ সালে ফাইনাল খেলে শিরোপা জিততে না পারলেও রানার্সআপ হয়েছে। এছাড়াও ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা এবং ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলা অবশ্যই জাতীয় দলের সক্ষমতার প্রমাণ। শিরোপার দৃষ্টিকোণ থেকে যুব দলের বিশ্বকাপ জয়, এশিয়া কাপ জয় ও নারী দলের এশিয়া কাপ জয় বড় সফলতা মনে হলেও ক্রিকেটের মূল মঞ্চ জাতীয় দলের খেলাতে তিনবার ফাইনাল খেলা, ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জেতা, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়, আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয় সহ আরো বহু সফলতার কারনে বাংলাদেশ দল বর্তমানে অন্যতম পরাশক্তি হিসেবেই বিবেচিত হয়।

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে সহজেই প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে সমস্যা কোথায়? বা আদৌ সমস্যা আছে কিনা? বা সমর্থকরা কি তাহলে ভুল বুঝছে?। এইসব প্রশ্নের উত্তরের মাঝেই জাতীয় দলের সফলতা ব্যর্থতার রহস্য লুকিয়ে আছে বলে আমি মনে করি। অ-১৯ দল কিংবা নারী দলের ক্রিকেটের চেয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেট সম্পূর্ণই আলাদা। মাঠের খেলাকে যদি একই ধরনের মেনেও নেই, বিপরীতে সমর্থক, স্পন্সরশীপ, চাহিদা। সবমিলিয়ে জাতীয় দল হলো ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন জায়গা। এই কঠিন জায়গাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তগত ভুল, দল গঠনে স্বচ্ছতা না থাকা, বাদ পড়া ক্রিকেটারদেরকে ভিন্ন চোখে দেখা, পিচ (উইকেট) নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা, নতুন ক্রিকেটারদের সুযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া অর্থাৎ কাঠামোগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভুল এবং আভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে বাংলাদেশ দল বড় মঞ্চে সর্বোচ্চ সফলতা পাচ্ছে না বলে আমি মনে করি। ক্রিকেটারদের সামর্থ্যরে প্রশ্নে, আমার কোন সন্দেহ নেই। প্রত্যেকটা ক্রিকেটারই সামর্থ্যবান, মাঠে তাদের সামর্থ্যরে প্রয়োগ করা নিয়েই যত সমস্যা। এই প্রয়োগের কাজটা ঠিকঠাক মতো হয় না মূলত সিস্টেমে গলদ এবং সিদ্ধান্তগত জটিলতার কারনে।

এই অবস্থায় জাতীয় দল থেকে সেরাটা বের করে আনার ক্ষেত্রে আমার দৃষ্টিতে করণীয় হলো কাঠামোগত পরিবর্তন আনা অর্থাৎ আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো ভারত কিংবা ইংল্যান্ডের মতো করে গড়ে তোলা। বাদ পড়া ক্রিকেটারদের মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো খেলা ক্রিকেটারদের দলে ফেরানো, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রোটেশন পদ্ধতিতে সিরিজ খেলিয়ে ক্রিকেটারদের গড়ে তোলা অর্থাৎ ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেললেই বড় মঞ্চে নামিয়ে না দিয়ে রোটেশন পদ্ধতিতে অপেক্ষাকৃত ছোটদলগুলোর বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলিয়ে তাদের সাহস বাড়ানো। পিচ তৈরীর ক্ষেত্রে বৈচিত্রতা আনা অর্থাৎ ব্যাটিং সহায়ক উইকেট, স্পোর্টিং উইকেট, স্পিন উইকেট, পেস উইকেট এভাবে উইকেট তৈরী করে ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠ বৃদ্ধি করা, অ-১৯ দলের হয়ে খেলা শেষ করা ক্রিকেটারদের জাতীয় দলে আসার আগ পর্যন্ত তাদেরকে আন্তর্জাতিক মানের সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া, জাতীয় দলে আসার পর তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়া, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ক্রিকেটারদের মধ্যে মনোমালিন্য কিংবা দ্বন্ধের দ্রæত সমাধান করা, কোচের সাথে ক্রিকেটারদের সুসম্পর্ক বজায় রাখা, ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বর দেয়ার মতো কাজগুলো করতে পারলে জাতীয় দলেও বড় সফলতা আসতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

জুবায়ের আহমেদ
ক্রীড়া লেখক

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial