ঢাকারবিবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ফিরে আসা

মৃধা প্রকাশনী
ডিসেম্বর ১৭, ২০২৩ ১১:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে হাটহাজারী উপজেলায় ছোট একটি গ্রাম রয়েছে যার নাম মধ্যপারা।এই গ্রামের উচ্চবিত্ত পরিবারের  একটি সুশ্রী মেয়ে ছিল যার নাম রিয়া।রিয়া  যখন কলেজে ভর্তি হয় তখন সে খুবই দামী ফোন ব্যবহার করত। রিয়া প্রায় প্রতিদিন কলেজে একই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করত।একদিন হঠাৎ  রাস্তার মধ্যে একটা ছেলে রিয়ার সামনে আসে মুখোশ পড়ে,যাতে রিয়া সেই ছেলেটাকে চিনতে না পারে। রিয়া  ফোন হাতে নিয়ে চাপতে চাপতে রাস্তায় চলছে। ছেলেটি সুযোগ বুঝে রিয়ার হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। রাস্তা ফাঁকা থাকায় রিয়ার চিৎকারে কোন কাজ হয়নি। ছেলেটি দুই মিনিটের মধ্যে পালিয়ে যায়। আর তাকে দেখতে পাওয়া যায় না। রিয়া কিছুক্ষণ  কান্না করল।কান্না করল এই জন্য যে ফোনের মধ্যে তার পারসোনাল কিছু ছিল। যদিও রিয়া উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে চাইলেই সহজে অনেক মূল্যবান ফোন কিনতে পারবে। কিন্তু এই ফোনে অনেক স্মৃতি লিপ্ত  আছে। তাই শখের ফোন টা ছিনতাই হওয়ার পর থেকে তার মন খারাপ।তিন দিন পর মেয়ে টি তার বাবার কাছ থেকে আবার ফোন কিনে নিল। এর মধ্যে কয়েক মাস গত হয়ে গেল। নতুন ফোন কিনে সাত মাস ধরে চালাচ্ছে রিয়া।  রিয়া তার কলেজের প্রথম বর্ষের পরিক্ষা দিতেছে। পরিক্ষা শেষ হওয়ার একমাস পর দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাস শুরু হল। আবারও কলেজ থেকে বাসায় আসার সময়, রিয়া ফোন চাপতে চাপতে বাসায় যাচ্ছে এমন সময় মুখোশ পরিহিত  একটি ছেলে তার হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নিয়ে খুব দ্রুত  পালিয়ে যায় । রিয়া আবারও কান্না করে এবং বলে প্রতিবার তার শখের ফোন ছিনতাই কেন হয়?এটা ভাবে আর কাদেঁ।রিয়া শূন্য হাতে বাসায় গিয়ে তার পরিবার কে বলে যে তার ফোন আবারও ছিনতাইকারী ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। রিয়ার বাবা মেয়েকে কনভিন্স করল যে ফোন গেছে গেছে সমস্যা নেই আমি আবার কিনে দিব আগামীকাল।রিয়া আবার ফোন কিনে নিল এবং তার পড়াশোনা চালিয়ে গেল।

এদিকে প্রথম ও দ্বিতীয় দুইটা ফোন একই ছেলে ছিনতাই করেছে। কিন্তু এই ফোন দুইটা ছিনতাই করেছে ছিনতাইকারী তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য।মূলত সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই ছিনতাই করেছে ।ছিনতাইকারী ছেলেটা আসলেই ছিনতাইকারী নয়। কেননা ছেলেটি নিম্নবিত্ত পরিবারের হওয়ায় তার পড়াশোনার খরচ পরিবার থেকে চালানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি।ছেলেটির নাম হলো রাশেদ এবং গ্রামের বাসা চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় । রাশেদ ছোট বেলা থেকে অত্যন্ত মেধাবী ছিল। সব জায়গায় রাশেদের রেজাল্ট অনেক ভালো। কলেজ পাশ করার পর সে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়ে। কলেজে পড়ার সময় থেকে সে টিউশন করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাত।এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়ার সময় রাশেদ টিউশন করে পাঁচ বছর অর্থাৎ মাস্টার্স পর্যন্ত খরচ চালায়। এবার তার মনের প্রবৃত্তি  পূরণ করার পালা। রাশেদ বাংলা ডিপার্টমেন্টের হওয়ায় বিবিএস পরিক্ষার প্রস্তুতি কিছুটা সহজ হয়ে যায় তার জন্য। তিন মাস পরে সে  প্রথম বিবিএস দিল। রাশেদ  টিউশনি করে কিছু টাকা সঞ্চয়  করে রেখেছিল সেটা দিয়ে সে প্রথম বিবিএস পরিক্ষা দেয়। শুধু বিবিএস এই নয় পাশাপাশি রাশেদ ব্যাংকের ও পরিক্ষা দেয়। দূর্ভাগ্যবশত প্রথম বিবিএস এবং প্রথম ব্যাংকের ভাইভা পর্যন্ত গিয়ে আর যেতে পারে নি। তার কাছে যা টাকা সঞ্চয় ছিল সব ব্যায় করে পরিক্ষার জন্য । এবার নতুন করে পুনরায় টিউশনি করিয়ে টাকা সঞ্চয় করা একটা কঠিন ব্যাপার হয়ে দাড়াল তার জন্য। এবার সে কি করবে এই নিয়ে তার মাথায় কয়েক দিন থেকে  চিন্তা গুলো ঘুরপাক খাচ্ছে ।এবার সে একটা প্ল্যান করল যে একটি অনৈতিক কাজ করবে। যাতে করে সে তার পরবর্তী পরিক্ষা গুলো দিতে পারে। সে তার যাতায়াতের সময় এক উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে রিয়া কে টার্গেট করেছিল। রিয়া ছেলে টাকে চিনত না কিন্তু রাশেদ সামান্য চিনত রিয়া কে। রাশেদ ভেবেছিল রিয়া যেহেতু অনেক বড় পরিবারের মেয়ে তাই ওর ফোন টাও অনেক মূল্যবান হবে। তাই সে রিয়ার ফোন ছিনতাই এর প্ল্যান করে। তবে সে এটাও ভেবে ছিল যে, যদি রিয়ার ফোন ছিনতাই না করে অন্য কারো ফোন ছিনতাই করে তাহলে রিয়ার থেকে অন্যদের ফোন কিনতে অনেক কষ্ট হবে এবং অন্য দের ফোনটাও কমদামি হবে। তাই সে সব দিক বিবেচনা করে রিয়ার ফোন টাই ছিনতাই করে। রিয়ার ফোন টা রাশেদ  পঞ্চাশ হাজার টাকা বিক্রি করে। যা দিয়ে সে দ্বিতীয় বার  বিসিএস এবং ব্যাংক পরিক্ষায় পুনরায় অংশ গ্রহণ করে।

দ্বিতীয় বার বিসিএস ও ব্যাংক পরিক্ষা দেয় পঞ্চাশ হাজার টাকা ব্যায় হয় তার । শুধু পরিক্ষার খরচই নয় তার তো নিজস্ব একটা খরচ ও এই টাকা থেকে। কারণ এই প্রস্তুতির সময়ে সে সময়কে গুরুত্ব দিয়ে নিজকে সাজিয়েছে যোদ্ধা হিসেবে। পরিক্ষা দেওয়ার  পর রাশেদের মনে হল যে দুইটা তো দিলাম আর একটা দিলে হয়তো বেশি নিশ্চয়তা থাকবে। কিন্তু আমার কাছে তো যা অবৈধ টাকা ছিল তাও শেষ এবার আমি কি করব। সে উপায় না খুঁজে আবারও রিয়ার দিকে টার্গেট করলএবং দ্বিতীয় বারের মতো সে রিয়ার ফোন ছিনতাই করল। দ্বিতীয় ফোন টা সে ষাট হাজার টাকা বিক্রি করে। বিক্রি করার কিছু দিন পর সে দ্বিতীয় বিসিএস পরিক্ষার রিটেন পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।রিটেন পরিক্ষা নিজের মন মতো হয়েছে রাশেদের। এদিকে ব্যাংকের পরিক্ষারও  রিটেন পরিক্ষা দেওয়ার সময় সামনে আসতেছে। কিছু দিন পর সে ব্যাংক এর রিটেন পরিক্ষা দেয়। এবার তৃতীয় বিসিএস পরিক্ষা দেওয়ার সময় সামনে আসতেছে সেই কারণে নিজেকে আরও সাজিয়ে নেয় রাশেদ।প্রতিবারের মত এবারও পরিক্ষার দিন সে বাসায় ফোন দিয়ে  সবার সাথে দোয়া চেয়েছে। এবার সে তৃতীয় বিসিএস পরিক্ষা খুব ভালো হওয়ায় ব্যাংক পরিক্ষা আর দিতে যায় নি। এদিকে কিছু দিন পর দ্বিতীয় বিসিএস  রিটেন পরিক্ষার ফল প্রকাশ করলে সে অনেক নম্বর নিয়ে সামনের সারিতে থাকে এবং ঐ দিকে ব্যাংক এর রিটেনেও সে ভালো মার্ক নিয়ে উত্তির্ণ হয়। এবার যেহেতু সে প্রথম পরিক্ষাতে ভাইভা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল তাই নিজেকে আরও ভালো করে সাজিয়েছে রাশেদ। এবার বিসিএস ভাইভা দ্বিতীয় বারের মতো দেয় তবে এটি প্রথম বারের থেকে অনেক ভালো হয়েছে। সেইসাথে রাশেদের  ব্যাংক ভাইভাও অনেক ভালো হয়েছে। এদিকে তৃতীয় বিসিএস পরিক্ষার রিটেন দেওয়ার সময় হয়েছে। তাই রাশেদ তৃতীয় বিসিএস পরিক্ষার রিটেন টাও ভালো ভাবে দেয়। এদিকে কিছু দিন যাওয়ার পর তার খুশির খবর বের হলে সেটা প্রথমে তার পিতা-মাতা কে জানায়। পিতা- মাতা সন্তানের সাফল্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। রাশেদের গ্রাম রাশেদ কে নিয়ে কতই না উল্লাসিত। রাশেদ পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়।এদিকে রাশেদের ব্যাংক পরিক্ষা ভালো হলেও ব্যাংকের প্রতি কোন ঝোঁক ছিল না।

কিছু দিন যাওয়ার পর তৃতীয় বিসিএস পরিক্ষার ভাইভা দেয় রাশেদ এই ভাইভা অন্য পরিক্ষা গুলোর থেকে অনেক ভালো হয়েছে। কয়েক মাস যাওয়ার পর প্রকাশিত হলো রেজাল্ট তৃতীয় বিসিএস পরিক্ষায় ও সে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়। এদিকে আগের পররাষ্ট্র ক্যাডারে রাশেদ  নিযুক্ত ছিল। এবার রাশেদের আগের স্মৃতি গুলো মনে পড়াতে সে একটু ভাবল কি করা যায়। অবশেষে রাশেদ সিদ্ধান্ত নেয় রিয়ার সাথে সরাসরি দেখা করবে। কিন্তু রিয়া যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়ে তা সে জানত।তাই একদিন খুব সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় এবং গেটের পাশে সে থাকে রিয়া আসার অপেক্ষায়। দশটার সময় সে ভাগ্যক্রমে রিয়া কে দেখতে পায়। সে রিয়ার সামনে গেল সাধারণ ড্রেসে। রিয়াকে অপরিচিত ছেলে ডাকছে তাই সে সাড়া দেয় নি।কিন্তু রাশেদ একটু লম্বা লম্বা পায়ে রিয়ার সামনে গিয়ে দাড়ায় এবং রিয়াকে বিনয়ের সাথে বলে তোমার সাথে একটু কথা ছিল যদি শুনতে চাও তাহলে বলতাম। রিয়া অনুমতি দিলে রাশেদ রিয়া কে নিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনের দিকে চলে এবং যেতে যেতে সব কথা খুলে বলে। তবে কথা বলার আগেই সে শর্ত নিয়েছে যেন তার সব কথা শোনা হয়। রাশেদ তার পুরো জীবন সম্পর্কে বলতে শুরু করেছে। তার ফোন যে রাশেদ নিয়েছে এ কথা শোনার পর রিয়া পুরোই অবাক। রিয়া তখন বলে তুমি ছিনতাইকারী আবার আমার সুযোগ নিতে আচ্ছো নাকি। এই কথা রাশেদ শোনার পর আবার রিয়াকে বলে আমি কিন্তু শুরুতেই শর্ত দিয়েছি  পুরো কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কথা শুনতে হবে। রিয়া বলল ঠিক আছে বল।যখন রাশেদের পুরো জীবনী শোনা শেষ হয়ে যায় তখন রিয়ার দুচোখ দিয়ে পানি ঝড়ে। এবং বলে আমি এমন ইতিহাসের সাথে পরিচয় হলাম এটা হয়ত আমার নিয়তির লেখা। মানুষ চেষ্টা করলে কি না হয়। রিয়া তখনই বলল অলসেরা হারার আগে হেরে যায় কিন্তু পরিশ্রমীরা হেরেও জিতে যায়। এখন রাশেদ নিজের পকেট থেকে দুই লক্ষ টাকা বের করে রিয়ার হাতে দেয় এবং রিয়াকে বলে যে, আমি অনেক অন্যায় করেছি তোমার সাথে  পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও। রিয়া টাকা নিতে চায় না কেননা রিয়া বুঝতে পারছে টাকাটা আসলেই সেই সময় কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।তবে রাশেদ রিয়া কে অবশেষে বলেই ফেলল আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তোমাকেই বিবাহ করব।এতে তুমি কি বল?  রিয়ার মুখ  লজ্জায় লাল হয়ে গেল। রিয়া আসতে করে বলল ঠিক আছে আমি আমার পরিবারকে জানিয়ে রাখবো। অবশেষে রিয়া এবং রাশেদের বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর রিয়া রাশেদ কে বলে আপনি আমার ক্ষতি করে আমারই কাছে ফিরে আসলেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
মোঃ নাহিদ মিয়া
বাংলা বিভাগ
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial