ঢাকারবিবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

“আমার দেখা তিন নারী সৈনিক”

মৃধা প্রকাশনী
ডিসেম্বর ১৭, ২০২৩ ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২কি.মি  উত্তরে জোবড়া নামে একটি গ্রাম আছে।জোবরা গ্রামের এক বিনয়ী মেয়ে  কেমেলিয়া কেয়া চামি এবং পাশের ঘরের আর একটি মেয়ে কেমেলিয়ার বান্ধবী আনজুম মাইশা।মাইশার দুঃসম্পর্কের  চাচাতো বোন হলো শিউলি এরা তিন জনই খুব ভালো বন্ধু। গ্রামে মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা এই তিন  মেয়ের। গ্রামে অন্য মেয়েদের থেকে তাদের দৃষ্টি ভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা । তাদের মধ্যে একটি দিক বিশেষ ভাবে মূর্ত হয়ে উঠছিল। তাদের দিকটি মূলত প্রকৃতির প্রতি সৌহৃদ্য। যেখানে প্রকৃতি তার সৌন্দর্যে বিস্তৃত, সেখানেই তারা ছুটে যায়।যেখানে আজকালকার দিনের মেয়েরা ঘরের বাহিরে  যেতে ভয় পায়, সেখানে এরা দূরদূরান্তে ভ্রমণ করে প্রকৃতির টানে।  যেখানে প্রাকৃতিক  সৌন্দর্যের সমারোহ সেখানেই এরা ছুটে চলে। এদের মধ্য প্রকৃতির টান টা আসলেই অদ্ভুত ভাবে দেখা যায়। যমুনা নদীর  চরে অনেক বেশি কাশফুল জন্মায় এটি কেমেলিয়া শুনেছিলো তার কলেজ শিক্ষকের থেকে। কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য কেমেলিয়া তার বান্ধবী দের নিয়ে রওনা দেয় যমুনার চরে। যদিও তারা জানতো যে যমুনার চরে অনেক ডাকাত বা ছিনতাইকারী থাকে  তবুও তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে গমন করে একমাত্র প্রকৃতির সৌহার্দ্যের জন্য। কাশফুলের সুরভিত ঘ্রাণে,  রঙে  তারা মুগ্ধ হয়ে যায়। প্রায় চার  ঘন্টার মতো যমুনার চরে  ছিল । এই চার ঘন্টা নিজেদের ছবি তোলে প্রকৃতির সাথে।  এবারের যাত্রায় তাদের কোন বিপদ হয় নি তারা নিরাপদে বাসায় ফিরেছে।

কলেজে পড়ার সময় এরা সবাই  বেশি আড্ডা জমাতো ভ্রমণ বিষয়ে নিয়ে। এক মাস যাওয়ার পর  তারা সিদ্ধান্ত নিলো   কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে যাবে।কিছু দিন পর তারা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশ্য রওনা দিলো। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এলাকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে তারা সৈকতের তীরে উপস্থিত হল।পানির কলকলানি শব্দ ও সৈকতের কত বড় বড় ঢেউ তারা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল। সৈকতের সুন্দর ঢেউ অনুভব করার জন্য তারা পানিতে নেমে পড়ল ।মাঝে মধ্যে ঢেউগুলো তাদের পুরো শরীর ভিজিয়ে দিচ্ছে এতে তারা কতই না উল্লাসিত।সাগর উত্তাল থাকার কারণে  কেমেলিয়ার মুখে একটু সাগরের  পানি ঢুকে যায় ।কেমেলিয়া  অজান্তেই লোনা পানি খেয়ে ফেলে কি এক নোনতা স্বাদ সেই পানির।পানির মধ্যে ঢেউ এর সাথে অনেক ক্ষণ খেলা করল কেমেলিয়া এবং শিউলি। পানিতে সাঁতরাতে পারে না আনজুম মাইশা যদিও পানিতে নেমেছিল। তবে বেশি পানিতে নামে নি কম পানি থেকে সবকিছু উপলব্ধি করেছে। এবার সাগর থেকে উঠে তারা আশপাশের দোকান গুলোতে গিয়ে সামুদ্রিক মাছ, শামুক আর বিভিন্ন জিনিস কিনল।এখানে তারা দুই দিন কাটার পর  বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিল। পথিমধ্যে কিছু ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে তারা।ছিনতাইকারী তাদের টাকা, ফোন নিয়ে নিল। এমতাবস্থায় তারা বাসায় ফিরে এল কিন্তু তারা যে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিল সেই বিষয় পরিবারের কাছে গোপন রাখল। পরিবার ছিনতাইয়ের ঘটনা জানতে পারলে মেয়েদের কখনো ঘুরতে যেতে দেবে না এটা তারা ভালো করেই জানতো তাই সবকিছু তারা গোপন করলো। তিন মাস যাওয়ার পর তারা আবার ফোন কিনল এবং সিলেটে যাওয়ার জন্য প্লান করল।অবশেষে নির্দিষ্ট দিনে তারা সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিল ।সিলেট শহর থেকে ৬২ কি.মি উত্তর-পূর্বে জাফলং নামক জায়গায় গিয়ে পৌঁছায় তারা। সেখানে জিরো পয়েন্ট গেলে তারা পাহাড়ে ঘেরা চতুর্দিকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে পায় এই রকম প্রকতির পরিবেশ দেখে তাদের মন উল্লাসিত হয়।নদীর পাড়ে  ছোট বড় অসংখ্য  পাথর  তাই আস্তে আস্তে হেঁটে তারা নৌকায় উঠে এবং নৌকা দিয়ে তারা দেখতে যায় মায়াবী ঝর্ণার সৌন্দর্য।

কতই না মনোহর সেই মায়াবী ঝর্ণা। অনেক উপর থেকে পানি গড়িয়ে গড়িয়ে  নিচের দিকে পড়ছে।  কত শোভন দৃশ্য ওখানে না গেলে সৌন্দর্য পিপাসুরা হয়তো মায়াবী ঝর্ণার এত সুন্দর  রুপ দেখতেই  পেত না। ঝর্ণার রুপ দেখে কেমেলিয়া ঝর্ণা পাশে একটু দূর থেকে অনেক ছবি ওঠায় নিল। এর পর তারা ঝুলন্ত ব্রিজে উঠলো, ব্রিজ থেকে আশেপাশে তাকাতেই তাদের চোখে পড়ল ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মধ্যে ডাউকি শহর এবংবড় বড় পাহাড়ের দৃশ্য। কত সুন্দর  সিলেটের জাফলং নামক জাগায়টা না গেলে হয়তো বোঝায় যাইতো  না। এবারও তারা নিরাপদে বাসায় ফেরে। তারা কিছু দিন পর আবার বাগেরহাট জেলায় সুন্দরবনে ঘুরতে যায়।সেখানে তারা কোন এক আত্মীয়ের বাসায় একদিন কাটায় যাতে করে সুন্দরবনের অনেক জায়গা ঘুরতে পারে। সুন্দরবন থেকে বাসায় আসার সময় তারা আবারও ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে এবং তাদের কাছে থাকা সমস্ত মূল্যবান জিনিস পত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারা আবার রিক্ত হস্তে  বাসায় পৌছায়। তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো আবার লুকিয়ে রাখে পরিবারের কাছে।  যাতে করে তারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। ওদের মধ্যে এত বাধা এত বিপদ থাকা সত্বেও দর্শনীয় স্থান গুলোতে ওরা  নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় সব জায়গায় গিয়েছিল। অনেক  ভ্রমণ করেছে তবুও  তাদের প্রবৃত্তি  মেটে নি বরং তাদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি সৌহার্দ্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে ছেলেরা ভ্রমনের কঠিন ধাপ গুলো পার হতে ভয় পায় সেখানে এরা মেয়ে হয়েও, বার বার বিপদে পড়েও তারা কখনো পিছু পা হয় নি। মনে ধৈর্য ও সাহস নিয়ে সব বিপদ কে মোকাবিলা করেছে।  অন্য মেয়েদের থেকে এরা আসলেই ভিন্ন এই ক্ষেত্রে। সময় ও সুযোগ হলেই  দেশের বাইরে অর্থাৎ ইন্ডিয়ার  কাশ্মীর চলে যাওয়ার প্রবৃত্তি তাদের মধ্যে বিরাজমান।  নিজ দেশের দর্শনীয় স্থান গুলো দেখা শেষ করে বাইরে যাওয়ার প্ল্যান তাদের। প্রকৃত পক্ষে,  প্রকৃতির প্রতি কতটা প্রীতি থাকলে মানুষ বিপদ কেও ডরায় না তা এই মেয়ে গুলোর  মধ্যে প্রকট হয়েছে ।

মোঃ নাহিদ মিয়া
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলা বিভাগ
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial