ঢাকাশুক্রবার , ৮ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

বাবার ব্যর্থ ছেলে

মৃধা প্রকাশনী
ডিসেম্বর ৮, ২০২৩ ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

“রাকান, তুই বুয়েটে চান্স পেলে আমি আর ডাবল শিফট করব না। তুই এতো চিন্তা করিস না তো এখন। ভালো মতো পড়।আমার ছেলে ইন্জিনিয়ার যখন হবে তখন আর এসব চাকরিই করব না। একটা সম্মানের ব্যাপার আছে না তোর। কোচিংয়ে টাকা পয়সা যা লাগবে বলিস। ” রাকান তার হাতের মোক টেস্টের রেজাল্ট শীটটা সপ্তপর্ণে পিঠের পেছনে লুকালো। না সে কিছুতেই বাবাকে, বাবার অভিলাষকে ভেঙে চুরমার করতে পারবে না। রুমে গিয়া রাকান ডেস্কের ভেতরের সব রেজাল্ট শীট গুলো বের করল। সবগুলোতে রাকান ৫ হাজারের নিচে রেঙ্ক করেছে। এ রেঙ্ক নিয়ে বুয়েটের আশা করাও কল্পনা।। আজকাল রাকানের মাথায় কিছু ঢুকছে না। পড়াশোনায় মন নেই।সে ইন্জিনিয়ার নামক কালো আধারে মিশে যাচ্ছে । তার আর এসব চাপ কুলোচ্ছে না। বাবার থপে দেওয়া স্বপ্ন তাকে তীলে তীলে শেষ করে দিচ্ছে। তার বাবা একটা ইন্জিনিয়ারিং ফার্মের গার্ড।সেখানে বড় বড় ইন্জিনিয়ারদের দেখে তার দুটো চোখ ভরে যায়। ছেলেকে ইন্জিনিয়ার বানানোর জন্য নাইট শিফটটাও করছে সে।। দিনরাত হারভাঙা খাটুনি খাটে। কিন্তু দিনশেষে যখন বাবাকে সামান্য একটা মোক টেস্টের সফলতা উপহার দিতে না পারে তাহলে কিসের এতো পরিশ্রম। রাকান আর পারছে না। সে কীভাবে বলবে বাবাকে যে তার অপদার্থ সন্তান ব্যর্থ। মাথা ঝিম ঝিম করছে রাকানের। বাবার মুখ চেয়ে হলেও সে পরীক্ষাটা দেবে।তবে ফলাফল আশাসরূপ হবে না রাকান ভালো করেই জানে।। পরিবারের ৪ টা মুখ তার দিকে চাতক পাখির মতো যে প্রত্যাশা লালন করছে সে তা কীভাবে মেটাবে??? এই চিন্তায় রাকানকে দিন দিন ধ্বংস করছে।। সেদিন বাবা ব্যাগ ভর্তি করে ডিম, দুধ,মাংশ এনেছিলো। ছেলের পরীক্ষা সামনে। এগুলো না খেলে বল হবে নাকি!! তারা শুধু শুক্রবার মাংশ খায়। রোজ খাওয়ার সামর্থ নেই সেখানে রাকানের জন্য প্রতিদিন আমিষ রান্না হচ্ছে ! এসব দেখে রাকান আরও দম বন্ধ করা চার দরজার কামরায় আটকা পড়ে। যেখানে বেরোবার সব দরজায় তালা। এখন আর রাকানে তৃষ্ণাও পায় না। মনে হয় গলায় কি যেনো ভারী আটকে আছে।

অবশেষে যেদিন রাকানের বুয়েটের পরীক্ষার দিন ঘনিয়ে এলো রাকানের মা সূরা পরে ফুঁ দিয়ে দিলেন।বাবা একটা ফাউন্টেনপেন শার্টের পকেটে গুজে দিলেন । রাস্তায় রিকশা করে দুজন যখন গন্তব্যে যাচ্ছিলেন তখন একজনের চোখে ছিলো আনন্দ, মমতা, স্বপ্ন। আরেকজনের ছিলো তিক্ততা, হতাশা।। হলের গেটে ঢোকার আগে বাবা বলল, ” আমার ইন্জিনিয়ার ছেলে।ভালো করে পরীক্ষা দিস। আমি জানি তুই পারবি “।
রাকান পরীক্ষায় কি লিখলো সে নিজেও জানে না। একটা ঝোঁকের বশে সে কলম চালিয়ে গেলো। হলের বাইরে এসে বাবাকে বলতে পারল না কেমন পরীক্ষা দিলো সে।। বাসায় গিয়ে সে বুঝলো না কি ঘটে গেলো তার সাথে। শুধু দড়িতে ঝুলে যাওয়ার আগে টেবিল পড়ার শব্দ আর দরজার কড়া নাড়ার শব্দ ছাড়া কিছু শুনতে পেলো না রাকান।চোখ বোজার আগে দেখলো দুটো মানুষের চোখে তার জন্য ব্যাকুল হাহাকার। রাকান বলতে চাইছিল, “বাবা,ক্ষমা করে দাও তোমার ছেলেকে।। কিন্তু গলার দিয়ে স্বরই বের হলো না। চোখ দুটো বুঝে গেলো চিরজীবনের মতো!!

খবরের কাগজের ফ্রন্টে রাকানের ছবি বেরিয়েছে। বুয়েটের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে রাকান।।তবে বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পেড়েছে রাকান সেটা কোনোদিন জানতে পারল না। শুধু জেনে গেলো সে একজন বাবার ব্যর্থ ছেলে।

আমরা বাচ্চাদের ওপর আমাদের অভিলাষ খুব সহজেই চাপিয়ে দেই এটা না বুঝেই যে আদেও তারা সক্ষম কি না তা সহ্য করার। সমাজে প্রতিনিয়ত রাকান তৈরি হচ্ছে আবার হয়ে শেষও হচ্ছে।। সবার প্রতি অনুরোধ যাতে আমাদের সন্তানদের পরিস্থিতি রাকানের মতো তৈরি না করি যাতে করে শত শত রাকানের জলাঞ্জলি হতে হয়।

 

ছোঁয়া আক্তার
একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial