ঢাকাশুক্রবার , ৮ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ছোট উপন্যাস

মৃধা প্রকাশনী
ডিসেম্বর ৮, ২০২৩ ৫:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ,

 

….ভালোবাসা তো এক তর্ফাই হয়…,
…. আর যেটা দুই তর্ফা হয় সেটা কে ,ভাগ্য‌,, বলে.

প্রায় কিছু বছর পরের কথা,

তার পর আর অনেক বছর হয়ে গেছে ওদের ওখানে যাই নি।ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি অনেক, কিন্তু ভুলে যেতে পারি নি।তাছারাও আমি ইচ্ছে করেই ওকে ভুলিনি, মনের মাঝে গেথে রেখেছি।আমি চেয়েছিলাম ওর সাথে যেন সব কিছু ঠিক ঠাক ভাবে হয়ে যায়।মনের মাঝে সব কিছু সাজিয়ে গুছিয়ে রেখেছিলাম।কিন্তু আমি এখনো হাল ছারিনি। অনেক বছর হয়ে গেলো অবনীর সাথে কোনো যোগাযোগ বা দেখা হয় না।যানি না অবনীর আমাকে মনে আছে কী না,মনে না থাকারি কথা।
অন্য দিকে আমি পড়া লেখা শেষ করে সবে উকিল হয়েছি।আমার মনটাও বেশ খুশি এই সময়। আমার এখন অনেক টাকা হয়েছে। এখন মনের মাঝে কিছু প্রশ্ন জাগছে, এখন যদি আমি অবনীকে গিয়ে আমার ভালো বাসার কথা জানাই অবনী রজি হয়ে যেতে পারে।আবার মনে মনে ভাবছি একবার তো ওকে বলেই ছিলাম, তখন তো সে রাজি হয়নি, এখন কেন হবে,আমার উকিল হওয়ার কারনে,,,,এটা হয়তো আমার ভুল ধারনা,তাই মন বলছে ওকে আর নাই বললাম ভালো বাসার কথা,। ওই রাবিন্দ্র নাথ ঠাকুর বলেছিলো না, বেধে রেখে লাভ নেই, উরতে দেও, দিন শেষে যদি ফেরে তখন না হয় কাছে টেনে রেখো।যে থাকার সে এমনিতেই থেকে যাবে,আর যে না থাকার সে হাজারো উছালা দেখিয়ে চলে যাবে না থাকার বাহানায়।তবুও মন বলছে আর একবার বলেই দেখি না।তাই মনস্থির করলা কাল বা পরসু যাবো অবনীদের ওখানে, ওকে ভালো বাসার কথা জানাতে। দীর্ঘ ৫ বছর অপেক্ষা করার পর আমি অবনীর সাথে দেখা করতে যাবো।জানিনা গিয়ে ওকে পাবো কি না। নাকি অন্য কারো জীবনে চলে গেছে সে।

পরের দিন,

আজ আমি যাচ্ছি অবনীর সাথে দেখা করতে। তাকে গিয়েই আমার ভালো বাসার কথা বলবো।

একটু পর,

আমি অবনীর স্কুলের সামনে গিয়ে পৌছোলাম। ওর স্কুল ছুটির অপেক্ষায় বসে রয়েছি।
কিছুক্ষন পর দেখতে পেলাম স্কুল ছুটি হলো।
আমি হা করে তাকিয়ে রয়েছি,,,কখন অবনী আসবে, সেই আশায়।অনেক কেই দেখতে পাচ্ছি কিন্তু অবনীকে দেখতে পাইনা,।আজ কী সে আসেনি? আমার মনে প্রশ্ন জাগতেছে।
কিছুক্ষন পর হঠাৎ দেখতে পাই অবনী আসছে,,কত বড় হয়ে গেছে অবনী,। সেদিন কার সেই ছোট্ট মেয়েটিকে আজ দেখে চেনাই যাচ্ছে না।
আমি ভেবে পাচ্ছিনা ওকে কি বলবো। আমার কেমন যেন ভয় ভয় লাগছে ওর সাথে কথা বলতে।তাও ভয়ে ভয়ে ওকে গিয়ে বললাম, অবনী কেমন আছো। সে বললো, ভালো আছে। অবনী বললো, আপনি কে, আপনাকে তো চিনতে পারছি না।আমি বললাম, কেন আমায় চিনতে পারোনি, আমি সেই শান্ত,মনে পরে।প্রায় ছয়,সাঁত বছর আগের কথা।তোমায় ভালো বাসতাম। অবনী তো অবাক হয়ে গেলো,ভালো বাসার কথা শুনে।তার চেয়ে বড় বিষয় হলো,অবনী আমাকে চিনতেই পারছে না,কিছুতেই।আমি বার বার ওকে আমার পরিচয় টা বলছি,,তাও সে চিনছে না আমায়।আমার মনে সংসয় হচ্ছে, এমন তো নয়, যে অবনী আমায় চিনেও না চেনার ভান করছে।
অনেকক্ষন ধরে বোঝানোর পর অবনী আমায় চিনতে পারলো।
তার পর সে বললো, এখন আমি কি করতে পারি। আমি বললাম, করতে পারি মানে ?, আমি তোমায় ভালো বাসি অবনী, প্রায় ১০ বছর ধরে।আমি তোমায় বিয়ে করতে চাই। সে অবাক হয়ে, আমার ওপর রেগে গেলো।সে বললো, তার নাকি বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। সামনে মাসেই নাকি ওর বিয়ে। এটা শুনে আমার মাথায় বাস পরলো। আমার তো কিছু বলার মত অবস্থা নেই।মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না।যাকে পাওয়ার জন্য এতো আশা,সেই বুঝলো না আমার ভালো বাসা। আমার চোখ দিয়ে জল বের হয়ে গেলো।আমি মনে মনে বুঝতে পেরে গেলাম যে, অবনীর সঙ্গে আমার বিয়ে কোনো দিনই হবে না।আমার তাহলে সারাটা জীবন অবিবাহিত থাকতে হবে।আমি যে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ,বিয়ে করলে শুধু অবনীকেই করবো, আর তাকে না পেলে সারা জীবন অবিবাহিত থাকবো।এ কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিকাম আমি। আমার জীবন টা ধ্বংশ হয়ে গেলো তাহলে।

আমি অবনীকে বললাম,, আমায় ভালো বাসলে না কেন অবনী,।জীবন টা তো অন্য রকম হতে পারতো,। আমি তোমায় অনেক ভালো বাসি অবনী।অবনী চুপ করে রয়েছে। সে বলে আমার কিছুই করার নেই।সে আমার ওপর রাগ হয়ে রয়েছে।আমাকে বলে রাস্তা ছারুন, আমি বাড়ি যাবো। চোখ গরম দেখিয়ে সে চলে যায়। আমিও বাড়িতে চলে আসি।

কয়েক দিন পর,

আমি আবার অবনীর সাথে কথা বলতে যাই।
আমি অবনীদের স্কুলের সামনে গিয়ে দারিয়ে আছি, , সময় তখন দুপুর ১ টা বাজে,,, অবনীর স্কুল টা ছুটি হলো।সবার সামনেই দেখি অবনী আসছে, তাও আবার একা একা হেটে। আমি মনে মনে ভাবলাম,, ভালোই হলো, অবনী একা,, আছে, ওর সাথে কথা বলতে সুবিধা হবে।
তার পর অবনী আসলো, আমি যেই অবনীর সাথে কথা বলতে গেলাম,, অবনী আমার ওপর প্রচন্ড রেগে গেলো। আর আমাকে বললো আপনি যদি আর কোনো দিন আমার সামনে আসে,, আপনাকে আমার ভাই এর কাছে বলে মার খাওয়াবো। আর আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে,, বুঝেছেন।

তার পর ওর কথা সুনে আমার মথা আর ঠিক নেই। আমি সোজা বাড়িতে চলে এলাম।

 

 

শান্তনু রায়,

চর চাঁদ পুর, সদরপুর, ফরিদপুর,।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial