ঢাকারবিবার , ৩ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যা বৃদ্ধি করা জরুরি

জুবায়ের আহমেদ
ডিসেম্বর ৩, ২০২৩ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জুবায়ের আহমেদ

বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের ধর্ম ইসলাম। ইসলামের অনুসারীরা ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে শিশুদের জন্য মক্তব প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তারপর আলিয়া, কওমী, হাফেজি মাদ্রাসা অন্যতম। এছাড়া স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যিক হিসেবে অন্যান্য সকল বিষয়ের পাশাপাশি ধর্ম বিষয়ে পড়ার সুযোগ পায়। তবে মুসলমানদের ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা মূলধারার শিক্ষা মাধ্যম হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। বাংলাদেশ সরকারের অধীনে ইবতেদায়ী, দাখিল-ফাজিল-কামিল মাদ্রাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে অন্যান্য সকল প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রদান করা হয়। কওমী মাদ্রাসাগুলোতে প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলা ইংরেজী সহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রদান করা হলেও দাওরা হাদিস পর্যন্ত শুধুই ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা হয়। হাফেজী মাদ্রাসায় কোরআনে হাফেজ তৈরী করা হয়। ধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয় শিক্ষা আলিয়া শিক্ষা ব্যবস্থার মাঝেই আছে যা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত ও পরিচালিত।

আলিয়া শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি নাগরিকদের আস্থা ও অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ার বিপরীতে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নেই। দাখিল, আলিম ও উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে যথেষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও ধর্মীয় শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায় অর্থাৎ ইবতেদায়ী মাদ্রাসা কম থাকায় বেসরকারী মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়ছে, যাতে করে প্রাথমিক পর্যায়েই সন্তানদের পড়াশোনা করাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষায় আগ্রহী অভিভাবকদের। আরেকটু সহজ করে বলতে গেলে, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গ্রামে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে, গ্রামের শিশুরা সহজেই সেখানে ভর্তি হতে পারে। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো প্রতি গ্রামে যেমন তেমন কয়েকটি গ্রামে মিলেও একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা না থাকায় বিপাকে পড়ছে অভিভাবকরা। চাইলেই শিশু সন্তানকে দূরদূরান্তে পাঠানো যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে সন্তানকে প্রাইভেট মাদ্রাসায় পড়াতে হচ্ছে অথবা প্রাইভেট মাদ্রাসার খরচ বহন করতে না পারলে বাধ্য হয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে হচ্ছে সন্তানকে। মক্তবভিত্তিক পড়ালেখা থাকলেও মক্তব্যে শুধুমাত্র কোরআন পাঠ শেখানো হয়, যেটিও মূলত বেসরকারী শিক্ষার প্রভাবে হারাতে বসেছে।

১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা যাত্রা শুরু করে। উইকিপিডিয়ার হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশব্যাপী ৪ হাজার ৩১২টি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা আছে। বিপরীতে ৬৫টি হাজার ৬২০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য মাত্র ৪ হাজার ৩১২টি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা একেবারেই নগণ্য। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ধর্মপ্রাণ হিসেবে ব্যাপক পরিচিত ও সমাদৃত। তিনি অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সহ দেশব্যাপী ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণ করেছেন। কিন্তু মুসলিম শিশুদের প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষার জন্য ইবতেদায়ী মাদ্রাসার অপ্রতুলতা খুবই উদ্বেগজনক বিষয়।

মাদ্রাসা শিক্ষায় সন্তান উচ্চ শিক্ষিত হবে কিনা, সেটি অভিভাবক অথবা শিক্ষার্থীর নিজের ইচ্ছা অনিচ্ছার ব্যাপার। কিন্তু নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় বিষয়ে প্রাথমিক (ইবতেদায়ী) শিক্ষা নিশ্চিত করা মুসলিম শিশুদের জন্য আবশ্যক। কেননা নৈতিক, দুনিয়া ও পরকালীন প্রয়োজনীয় শিক্ষা অর্জনের জন্য প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত কাজকর্ম বাড়ছে, মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উশৃঙ্খল জীবন যাপনে অভ্যস্থ হচ্ছে। এসব মূলত ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ না করার কুফল। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা পাওয়া একজন ব্যক্তির দ্বারা কখনোই দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর কোন কাজ সংঘটিত হয় না। একজন শিশু চাইলেই ধর্মীয় প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর স্কুলে পড়ালেখা করতে পারে। তাতে কোন বাধা নেই। কিন্তু ইবতেদায়ী মাদ্রাসা কম হওয়ার কারনে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট মাদ্রাসায় যেতে হচ্ছে, যেখানে খরচ বহন করা অভিভাবকদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে যায়। ইবতেদায়ী মাদ্রাসা কম হওয়ার সুযোগে শিক্ষা ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম বাড়ছে দিন দিন।

সন্তানকে মাদ্রাসায় উচ্চ শিক্ষিত করতে চান না কিন্তু ধর্মীয় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে চান, এমন অভিভাবকরা বর্তমানে বিপাকে পড়ছেন। কারন সরকারী ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সহজলভ্য না হওয়ায় প্রাইভেটমাদ্রাসায় বাধ্যতামূলক পড়াতে গিয়ে হিশমিশ খাচ্ছেন অভিভাবকরা। এই অবস্থায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত চেষ্টায় মুসলিম শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সকল বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ইবতেদায়ী মাদ্রাসা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবী।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial