ঢাকাশনিবার , ২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

হারানো স্মৃতি

মৃধা প্রকাশনী
ডিসেম্বর ২, ২০২৩ ১১:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মা, মা বলে ডাক দিতেই আব্দুর রহমানের মা’ রাবেয়া

সাড়া দেয় কি হয়েছে বাবা। মা আকাশে বিমান দেখতে পাচ্ছি এখনই বোম ফেলবে। তার মা বললেন,  নারে বোম ফেলবে না তুমি স্কুলে চলে যাও। তার মায়ের খেয়াল ছিলনা তাদের স্কুল যে কবে ধ্বংস হয়ে গেছে। কথা গুলো বলছিলাম ফিলিস্তিনের গাজার আল জাহরা এলাকার অভিজাত গাজান পাড়ার বাসিন্দা ছোট্ট গোলাপ আব্দুর রহমানের।

গাজার আল-জাহরা এলাকার অভিজাত গাজান পাড়ার বাসিন্দারা গত ২০ শে অক্টোবর শুক্রবার দুপুরের দিকে, ধুলা-ময়লা আর ধ্বংস্তূপের  সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই ধ্বংস প্রাপ্ত জায়গাটি এক সময় ছিল তাদের আবাসস্থল।

 শুক্রবার দিনটি তাদের জন্য বিশেষ হওয়ার কথা ছিল। কেননা ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে শুক্রবার হল বিশেষ দিন মুসলমানদের জন্য  এবং এই দিন থেকেই সাপ্তাহিক ছুটি শুরু হয়। আল-জাহরায় এই ছুটির দিনের অর্থ ছিল ফালাফেল এবং হম্মুস, সেইসাথে কফি এবং চা খাওয়ার দিন। ভূমধ্যসাগরের তীর জুড়ে বড় বড় অ্যাপার্টমেন্ট বা ভিলায় থাকা এই পরিবারগুলো বিশেষ এই দিনে খাবারগুলো পরিবেশন করতো।

এখানকার বাসিন্দারা জানতেন যে তারা গাজার অধিকাংশ বাসিন্দাদের চাইতে অনেক ভাগ্যবান।

কিন্তু এক রাতের মাথায়, ইসরায়েলি বোমা হামলা এখানকার ২৫টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়, যেখানে অন্তত শতাধিক মানুষ বসবাস করতেন। গত সাতই অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে গাজায় একটানা বোমা হামলা চালায় ইসরায়েল। কিন্তু ২০শে অক্টোবরের আগ পর্যন্ত আল-জাহরায় কোন হামলা চালানো হয়নি।

ধসে পড়া এই অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে যারা বাস করতেন, তাদের মধ্যে কেউ ডাক্তার, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, ফ্যাশন ডিজাইনার আবার অনেকে উদ্যোক্তা ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই তারা টিকে থাকা আর জীবনধারণের চেষ্টা করছেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় খুব সামান্য কিছু সাথে নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন এই মানুষগুলো। পরে তারা গাজা ভূখণ্ডের নানা জায়গায় আশ্রয় নেন।

 আহমাদ আব্দুর রহমানের বাবা  আল-জাহরায় বেড়ে উঠলেও গত দুই বছর ধরে তিনি  চাকরির কারণে তুরস্কে থাকছেন। কয়েকশ মাইল দূর থেকে অনেক আতঙ্কের সাথে গাজা উপত্যকায় হামলার নানা খবরে চোখ রাখছিলেন তিনি। ওইদিন তাড়াহুড়ো করে, তিনি তার পরিবারকে ফোন করে খোঁজ নিয়েছিলেন যে তারা নিরাপদে আছেন কিনা। তিনি তাদের বলেছিলেন যে তিনি তাদের ভালবাসেন। তারপর টেলিফোন লাইনটি কেটে যায়।

গাজা উপত্যকা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং দারিদ্র্যের হারও অনেক বেশি। এই উপত্যকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

কিন্তু আল-জাহরা ছিল অন্যরকম। এখানে ছিল উঁচু সব দালান এবং বাইরে ঝকঝকে খোলা আঙিনা, যেখানে বাদাম ও ডুমুর গাছের বাগান ছিল। খেলার মাঠ আর পার্ক ছিল। প্যালেস্টাইন অথরিটির (পিএ) প্রেসিডেন্ট প্রয়াত ইয়াসির আরাফাত ১৯৯০ এর দশকে আল-জাহরা এলাকাটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মূলত তার কর্মী ও সমর্থকদের জন্য এই জায়গাটি বরাদ্দ করেছিলেন। স্থানীয়দের  মতে, এই এলাকার সাথে পিএ-এর শক্তিশালী সংযোগ ছিল। পিএ-এর আধিপত্য মূলত অধিকৃত পশ্চিম তীর জুড়ে। যারা কিনা হামাসের তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। এই এলাকাটি ওয়াদি গাজা নদীর ঠিক উত্তরে অবস্থিত – এর অবস্থান এমন এক জায়গায়, যে জায়গা দিয়ে গত ১৩ই অক্টোবর বেসামরিকদের দক্ষিণে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েল। এরপর তারা গাজাকে লক্ষ্য করে একের পর এক বোমা হামলা চালাতে থাকে। সেই থেকে এই এলাকা মৃত্যুপুরি হিসেবে পরিচিত।

আহমাদ এখনো ফোন দিয়ে যায় কিন্তু কল রিসিভ হয়না। হবে কিভাবে?  তার স্ত্রী পরিবার সব শেষ।

আব্দুর রহমানের মা’ এখন আর তার স্কুলের কথা ভাবে না। সে তো অপেক্ষায় আছে কবে কিয়ামত হবে এবং ইহুদিদের নির্মমতার সাক্ষী হয়ে প্রভুর কাছে নালিশ দিবে,  প্রভু আমার, আমার ছোট্ট গোলাপ আব্দুর রহমানের কি দোষ ছিল? ইহুদিরা তাকে বিমান দিয়ে হত্যা করেছে। ধ্বংস করেছে আমাদের সমস্ত ঘর।

আহমদ কল দিয়ে যায় শুধু ‘ আমি তোমাদের ভালোবাসি” কথাটি বলতে পারে না।

মো. রুকন উদ্দিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial