ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৩০ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

যৌনতার নির্লজ্জ প্রচার, জাতি ধ্বংসের কারণ হবে না তো?

জুবায়ের আহমেদ
নভেম্বর ৩০, ২০২৩ ৪:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ ধর্মপ্রাণ মানুষের দেশ। মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও ধর্ম মানা এবং দৈনন্দিন জীবনে পালনের ক্ষেত্রে সকল ধর্মের মানুষই আন্তরিকতা। বাংলাদেশের সামাজ ব্যবস্থায়ও ধর্মের ব্যাপক প্রভাব আছে। হিন্দু কিংবা মুসলিমের ধর্মীয় রীতিনীতিতে তফাৎ থাকলেও জাতীয়তাবাদ, শালিনতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রশ্নে সকল ধর্মের মানুষই প্রায় একই মানসিকতার হওয়ায় বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সৃষ্টির পূর্ব থেকেই সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ লালন করে জীবনযাপন করার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়ে এসে আধুনিকতা, পশ্চিমা সংস্কৃতি, অবাধ মেলামেশা, ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত সকল কিছুর সহজলভ্যতায় ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ বিনষ্ট হতে চলেছে। এটি কোন নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীদের বেলায় নয়, সমগ্র বাঙ্গালীজাতির জন্যই অশনিসংকেত বলা চলে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহশিক্ষা কিংবা পাড়াপ্রতিবেশীদের সাথে মিলেমিশে চলার বাঙ্গালী সংস্কৃতির অন্যতম অংশ হলেও একটা সময় পর্যন্ত বাংলাদেশে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা হতো ব্যাপক। বড়দের সম্মান করা, সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের বাহিরে না থাকা, অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিক্ষার্থীরা পরিবারের কোন গার্ডিয়ানকে ছাড়া দূরদূরান্তে আনন্দ ভ্রমন কিংবা বেড়াতে না যাওয়ার সংস্কৃতি বাংলাদেশের স্বাভাবিক ঘটনা হলেও বিগত এক দশকের হিসেব করলে আধুনিকতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় রক্ষণশীলতা থেকে বেরিয়ে সমাজ ও দেশে আজ গভীর ক্ষত তৈরী হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে সবকিছু ঠিক আছে মনে হলেও এই ক্ষত একদিন পচনে রূপ নিয়ে সবকিছু নিঃশেষ করে দেবে।

মানসিকতা কিংবা প্রযুক্তির উন্নয়ন খারাপ কিছু নয়। তবে ধর্মীয় বিধান মানুষের জন্য কল্যাণকর এবং পরকালীন সুখ-দুঃখের সাথে জড়িত হওয়ায় যতই আধুনিকতা ও স্বাধীনতার কথা বলা হয় না কেন, তা যেন ধর্মীয়ভাবে সীমালঙ্ঘন না হয়, সেইদিকে খেয়াল রাখা জরুরী হলেও আজকাল ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ছেলে-মেয়েরা ভ্রমনের নামে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে গিয়ে সময় কাটাচ্ছে, সেইসব আবার নির্লজ্জের মতো প্রকাশ করছে। জরুরী নোট কিংবা বন্ধুদের পার্টিদের কথা বলে আরেক ছেলে বন্ধুর বাসায় গিয়ে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে কিংবা অবাধ মেলামেশায় লিপ্ত আছে, পোশাকের স্বাধীনতার নামে ধর্মীয় মানদন্ডের লঙ্ঘন করছে। আবাসিক হোটেলগুলোতে সময় কাটাচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার যে, বহু হোটেল মালিক ঘন্টা হিসেবে রুম ভাড়া দিচ্ছে ছেলে-মেয়েদের, তাদের ভাষায় অল্প সময়ে বেশি ইনকাম। মানুষ কি করে, সেটা তাদের দেখার দরকার নেই। ঢাকা-চট্টগ্রামে এসব এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এছাড়াও রোজগারের নেশায় বিগো, টিকটক, ফেইসবুক রিলস, লাইকি, ইউটিউব শটসে পরিচিত-অপরিচিত মুখের অশ্লীলতা প্রচার মহামারি আকার ধারণ করছে। অনলাইনে পোষাক বিক্রির নামে অশালীন পোষাক পরিধানের মাধ্যমে সৈৗন্দর্য্য প্রদর্শণ পূর্বক পণ্য বিক্রয়ের হিরিক চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পার্ক কিংবা যেকোন পাবলিক প্লেসে অশ্লীলতা, বেহায়াপনায় মেতে উঠে সেসব আবার অনলাইনে প্রচার করা হচ্ছে। ছেলে-মেয়েরা মন্দ কাজ করলে মা-বাবা কিংবা ভাই-বোনেরা যাতে না শুনে, একটা সময় এমন ভয় থাকলেও আজকাল এই পারিবারিক মূল্যবোধ ও সম্মানের জায়গাও বিনষ্ট হয়ে গেছে। লাজ-লজ্জার মাথা খেয়ে ছেলে-মেয়েরা তাদের অশ্লীলতা-নগ্নতা প্রকাশ করছে। সমকামিতা, ইচ্ছাকৃত ভাবে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে যৌনতার নিলর্জ্জ প্রদর্শনী চলছে দেশব্যাপী।

এইধরনের ধর্মীয়মূল্যবোধ ও সমাজ বিধ্বসী কর্মকান্ড থেকে ছেলে মেয়েদের রক্ষার জন্য অবশ্যই পিতা মাতা এবং অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। স্বাধীনতার নামে অবাদ মেলামেশার সুযোগ না দিয়ে ধর্মীয় মানদন্ডের জীবনযাপন শেখাতে হবে, পালনের তাগিদ দিতে হবে। সন্তান কার সাথে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, এদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান বাধ্যতামূলক করতে হবে। মনে রাখতে হবে যৌনতা ও নগ্নতার পরদর্শনীর পরিনাম ভয়াবহ। ধর্মীয়ভাবে যেমন এসব নিষিদ্ধ ও নরকীয় কাজ, তেমনি ভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রীয়ভাবেও এসব অগ্রহণযোগ্য কাজ। যেহেতু ধর্ম চিরসত্য ও সুন্দর, ধর্মীয় বিধানের লঙ্ঘনের ফলে যেহেতু সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, সেহেতু ধর্মীয় বিধান মেনে চলার চর্চা বাড়াতে হবে। যে সন্তান বিবাহের আগেই অবৈধ যৌনতার দিকে দাবিত হচ্ছে, তাদেরকে বিবাহের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল জীবনের পথ দেখাতে হবে। নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিষয়টি যেহেতু পারিবারিক শিক্ষা ও ধর্মৗয় শিক্ষার সাথে জড়িত, সেহেতু সবার আগে পরিবারকেই সচেতন হতে হবে। সেই সাথে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের সার্বিক চেষ্টা করতে হবে। সকলে মিলে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের চেষ্টা করলে অবাদ যৌনতা এবং নগ্ন প্রচার রোধ করা কঠিন হবে না।

শিক্ষার্থী
বিএসএস, ২য় বর্ষ

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial