ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৩০ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

বুক রিভিউ-বরফ গলা নদী

মৃধা প্রকাশনী
নভেম্বর ৩০, ২০২৩ ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

১৯৬৯ সালে প্রকাশিত জহির রায়হানের ”বরফ গলা নদী” উপন্যাসটি একটি নিন্ম-মধ্যবিত্ত পরিবারের করুণ দুর্গতি নিয়ে রচিত।

উপন্যাসের শুরুতেই দেখা যায় ‘উপসংহারের আগে’ টপিকটি। যেখানে গল্পের নায়ক মাহমুদ ব্যাকুল হয়ে লিলিকে কিছু প্রশ্ন করে ‘আমি মরলাম না কেন? ‘, ‘মরলে মানুষ কোথায় যায় লিলি’?, এই টপিকটি পড়ালেই বুঝা যায় মাহমুদের জীবনে ভয়ঙ্কর কিছু একটা ঘটেছে।

পাঁচ সন্তানকে নিয়ে কেরানী হাসমত আলীর অসচ্ছল পরিবারে অভাব-অনটন, পাওয়ার আনন্দ, না পাওয়ার হাহাকার নিয়ে সংসারটি চলছিল,তাদের বাড়িটি মেরামত না করার ফলে প্রায়ই ফুটো ছাদ দিয়ে বৃষ্টি পড়ে বিছানাপত্র, বই ভিজে যেত। তারমধ্যে ছোট ছেলেমেয়েদের যেন আবদারের শেষ নেই, বিশেষ করে কিশোরী হাসিনা।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মাহমুদ ঢাকার কোনো একটি প্রেসে সাব-এডিটরের কাজ করতো।তার স্বপ্ন ছিল একদিন সে একজন বড় সাংবাদিক হবে,রোজরাতে ভাবনার জাল বুনত কিন্তু সে চাইলেও নিজের মত করে সত্য সংবাদ ছাপাতে পারতো না, মালিকের হাতের যন্ত্র বিশেষের মতো তিলকে তাল করে /হাতিকে খরগোশ করে বিকৃত খবর ছাপাতে হতো। স্পষ্টবাদী মাহমুদ এই অসুস্থ সাংবাদিকতা নিয়ে হতাশ ছিল।তাছাড়া উপন্যাসের বিভিন্ন যায়গায় দেখা যায় তার সৃষ্টিকর্তার প্রতি ক্ষোভ, ধনিক শ্রেণির প্রতি ক্ষোভ যারা শোষণ করে টাকার পাহাড় গড়েছে।

উপন্যাসের আরেকটি প্রধান চরিত্র মাহমুদের বোন মরিয়ম, মরিয়মের বিয়ে হয় মনসুর নামে একজন ধণি ব্যক্তির সাথে যদিও এই বিয়েতে মাহমুদের মত ছিল না। মনসুরকে মাহমুদের পরিবারের সদস্যরা দেবদূত ভাবতে শুরু করে, টাকা-পয়সা দিয়ে তাদের পরিবারকে নানাভাবে সাহায্য করে কিন্তু ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মাহমুদ তা পছন্দ করত না। মনসুর আর মরিয়মের মাঝে প্রেম- ভালোবাসার একচ্ছত্র আধিপত্য লক্ষ করা যায়। কিন্তু মনসুর মরিয়মের কাছ থেকে তার অতীত জানতে চাইলে মরিয়ম সব সত্যি সত্যি বলে দেয় যার দরুণ কিছু দিনের মধ্যেই তাদের প্রণয়ের জোয়ারে ভাটা দেখা দেয়।মনসুরের মনে হতে থাকে মরিয়ম তাকে তার টাকার জন্য বিয়ে করছে।মরিয়ম এসব কিছু সহ্য না করতে পেরে তার বাপের বাড়ি চলে আসে।

সেদিন রাতেই সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।প্রচন্ড বৃষ্টিপাত তবুও মাহমুদ প্রেসে গিয়েছিল, ভোরে বাড়ির সামনে এসে দেখে এম্বুলেন্স, পুলিশ। আর দেখে প্রিয়জনদের লাশ যাদের স্থান হয় আজিমপুর কবরস্থানে। আসলে সেদিন রাতে তাদের বাড়িটি ধসে পরেছিল।

উপসংহারে ৫ বছরের পরের ঘটনা দেখানো হয় যেখানে দেখা যায় মাহমুদ আর মরিয়মের বান্ধবী লিলির বিয়ে হয়েছে আজ তাদের মেয়ে মিতার জন্মদিন। সেদিন পুরোনো কাগজপত্র ঘাটতে নিয়ে লিলি মাহমুদের পরিবারের সব-সদস্যের একটি পুরনো ছবি পায়,যা দেখে লিলি কান্নায় ভেঙে পড়ে। মাহমুদ তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে ‘কেন কাঁদছ লিলি,জীবনটা কি কারো অপেক্ষায় বসে থাকে?আমাদেরও একদিন মরতে হবে।তখনও পৃথিবী এমনি চলবে।’

কারো জন্য জীবন থেমে থাকে না।বরফ গলা নদীর মতই সামনের দিকে বয়ে চলে।

নাহিদা আক্তার,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা বিভাগ (১ম বর্ষ)।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial