ঢাকাসোমবার , ২৭ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ইলেকট্রনিক ডিভাইসের উপকার সর্বক্ষেত্রে পরিলক্ষিত: মানবজীবন বিপন্নের জন্যও কম দায়ী নয়

মৃধা প্রকাশনী
নভেম্বর ২৭, ২০২৩ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আমরা মনুষ্য প্রজাতি ১০০ বছর আগেও প্রযুক্তিগতভাবে তেমন একটা উন্নত প্রজাতি ছিলাম না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো গত এক শতাব্দীর কম বা কয়েক দশকের মধ্যে মানবজাতির মননে এমন কিছু আইডিয়া উৎপন্ন হতে চলল যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিবর্তনের পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান এমন অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে যা আমাদের পূর্ব পুরুষেরা কখনই কল্পনায়ও আনতে পারে নি। অর্থাৎ তথ্য প্রযুক্তি এমন কিছু মাত্রা যোগ করেছে আমাদের জীবনে যে সেসব জিনিসের সংস্পর্শ ছাড়া আমরা দৈনন্দিন জীবন পারই করতে পারি না। যেমন- কম্পিউটার, টেলিফোন, টেলিভিশন এবং মোবাইল ফোন বিশেষত স্মার্টফোনের উদ্ভাবনে আমরা জীবনকে অনেক কাছে থেকে দেখতে পাই৷ আমরা সারা পৃথিবীকে একটি ছোট অঞ্চলে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। এখন আমরা চাইলে যা ইচ্ছা তাই করতে পারি, শুধুমাত্র একটা স্মার্টফোন সাথে থাকলেই হবে। এসব ডিভাইস আবিষ্কারের শুরু লগ্নে একটা কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ফোন বহনযোগ্য বা স্থানান্তরযোগ্য ছিল না, একটা রুমে বা বড়ো কোন জায়গায় এগুলোকে রাখা হতো এবং ব্যবহার করা হতো— চাইলেও সহজে সেগুলো ভ্রাম্যমাণ করা সম্ভবপর ছিল না। কিন্তু প্রযুক্তির যতই উন্নতি হচ্ছে ততোই আমরা অধিকতর শর্টকার্টের দিকে যাচ্ছি। যেমন- ফোন বা ল্যাপটপ আমরা সাথে করে নিয়ে ঘুরতে পারছি৷ মোবাইল ফোন আমাদের যেন পিছু ছাড়েই না৷ 3G, 4G এবং 5G প্রযুক্তি বা ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলোশনের থ্রুতে আমরা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সংস্পর্শে বেশি আশার কারণে যেমন উপকৃত হচ্ছি জীবনের ক্ষণে ক্ষণে, তদ্রুপ আমরা অনেকক্ষেত্রে আমাদের অজান্তেই মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বিপদ ডেকে আনছি এবং ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। তাহলে আমরা এবার দেখে নিবো, অতিরিক্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে আমরা কী কী বিপদে আপতিত হতে পারি—

১। স্থুলতা বা অবেসিটি: আমরা দীর্ঘক্ষণ ধরে এসবের ব্যবহারে নিমজ্জিত থাকলে স্থুলতা বা অতিরিক্ত ওজন নিজেদের মধ্যে ডেভেলপ করতে পারি যা আমাদের পরবর্তীতে আমাদের সুস্থ থাকার অন্তরায় হতে পারে।
২। চোখ-টানটানি বা আই-স্ট্রেইন: দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিন টাইম করলে সেখান থেকে আসা ব্লু-লাইট নির্গমনের কারণে আমরা চোখের মারাত্মক ক্ষতি করছি।
৩। পিঠব্যাথ্যা: এটা এখন খুবই নরমাল হয়ে গেছে যে অনেকে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটার-ল্যাপটপ ব্যবহার করে।
৪। মাথাব্যাথ্যা: ইলেকট্রনিক এসব ডিভাইস থেকে উৎপন্ন ইলেকট্র-ম্যাগনেটিক-রেডিয়েশন আমাদের স্নায়ুকে উত্তেজিত করার মাধ্যমে মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে থাকে। ফলে মাথাব্যাথা করে।
৫। বিষন্নতা বা ডিপ্রেশন: অনেক বিখ্যাত গবেষণা বা জার্নাল থেকে যতটুকু দেখেছি যে বিষন্নতা ঘটাতে এই ডিভাইসগুলো অনেকাংশে দায়ী।
৬। উদ্বিগ্নতা বা অ্যাংজাইটি: এসব যন্ত্রের অস্বাভাবিক ব্যবহার আমাদেরকে সহজেই উদ্বিগ্ন করে তুলতে পারে।
৭। সামাজিক সম্পর্কে বাধাদান: আমরা যখন বিভোর হয়ে এগুলো ব্যবহার করি তখন আমরা ‘সামাজিকতা’ ব্যাপারটাই ভুলতে বসি যেটা আমাদের সোশ্যাল রিলেশনকে বাধাগ্রস্ত করে দেয়।
৮। পড়াশোনায় বিঘ্নতা: শিক্ষার্থীদের মাঝে একটা সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে তা হলো তাদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার ব্যাপারটা আগের মতো হচ্ছে না, অর্থাৎ পড়াশোনার যে প্রবাহটা পূর্বে ছিল, এসব ডিভাইস অ্যাডিকশনের ফলে পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি বয়ে আনছে শিক্ষার্থীদের জন্য।
৮। গোপনীয়তার ঝুঁকি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে আমাদের সমস্ত তথ্যি নির্দিষ্ট কোন সাইট ডেটাবেজ আকারে সংরক্ষণ করে থাকে, এবং গোপনীয়তার বিষয় বলতে কোনকিছু অবশিষ্ট থাকে না। এখানে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ প্রবণতার সম্ভাবনা থাকে। সাইবারজনিত বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত বা সাইবার ব্যুলিংয়ের শিকার হয়ে থাকে।
৯। দুশ্চিন্তা: আমাদের দুশ্চিন্তার উদ্রেগ ঘটাতেও কাজ করে এসব ডিভাইসের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।
১০। কমিউনিকেশন ও সম্পর্কের সমস্যা: আমাদের যোগাযোগে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক বা মেলবন্ধন ঘটানোতে বাধা হিসেবে কাজ করে এগুলা। আমাদের জীবন তখন হয়ে উঠে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেন্দ্রিক বা সহজভাবে বললে ফেসবুক-কেন্দ্রিক। আমরা সবকিছুই ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে আনন্দ পাই। আমাদের যে বাস্তব একটা জগৎ আছে, সেটাও আমরা ভুলতে বসি। ভার্চুয়্যাল জগতের বাহিরে বিশাল একটা জগৎ পড়ে আছে, সেটাতে ভালো যোগাযোগ রক্ষা কিংবা পারস্পরিক সম্পর্ক-সদ্ভাব বজায় রাখতে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার শোভনীয় পর্যায়ে আনা উচিত।
১১। বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা: গবেষকদের মতে, অলস জীবনযাপন বিভিন্ন ক্রোনিক অসুখের সাথে জড়িত। যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্ট্রোক এবং হৃদরোগকে ডেকে আনতে পারে অকালেই। তথ্য ও প্রযুক্তির এসব উপাদানের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার আমাদেরকে আবদ্ধ বা কোনঠাসা করে রাখছে, বাহিরের মুক্ত অক্সিজেনসম্বলিত বাতাস নিতে দিচ্ছে না। আমাদেরকে পরিশ্রম বিমুখ রাখছে।

পরিশেষে বলা যায়, ডিজিটাল ডিভাইস আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে তেমনি কিছু কিছু ভুলের কারণে খেসারত দিতে হবে। এবং অপূরণীয় এবং অকল্পনীয় ক্ষতি যাতে আমরা ডেকে না আনি। কথায় আছে, পানির অপর নাম জীবন আবার মরণও। একটি মূদ্রার এপিট-ওপিট আছেই। তাই এসব ডিভাইস ব্যবহারে সংযত এবং পরিশীলিত হতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কুফলগুলাও মাথায় রাখতে হবে।

মো. মুশফিকুর রহমান
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সেশন- ২০২১-২২
ঠিকানা: হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, ঢাবি
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial