ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৩ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

শীতকালীন শব্দদূষণ পরিহার জরুরী

জুবায়ের আহমেদ
নভেম্বর ২৩, ২০২৩ ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমের দেশ। মানুষকে ইসলামের পথে আহŸান, ইসলামের বানী প্রচার, সাধারণ মুসলমানদের ইসলাম সম্পর্কে জানার ও দৈনন্দিন জীবন ইসলামের বিধান প্রয়োগের জন্য জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অধিকাংশ মাহফিলই রাতের বেলায় আয়োজন করা হয়, যেখানে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামারা ও উদীয়মান ইসলামিক ব্যক্তিত্বরা ধর্মীয় বক্তব্য রাখেন, সাধারণ মুসলমান মাহফিলে আসা সকলকে কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী আলোচনার মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করেন, দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের প্রয়োগের আহŸান করেন। শীতের মৌসুমে অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব, আনন্দ ভ্রমন এবং কনসার্টও আয়োজন করা হয়। এইসব আয়োজনে মাইক ব্যবহার করতে গিয়ে ব্যাপক শব্দদূষণ হয়। অথচ শুধুমাত্র মাহফিলে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় উৎসবে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ, আনন্দ ভ্রমন অথবা কনসার্টে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গদের জন্য খুব বেশি সাউন্ড বক্স-মাইকের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু যারা এই আয়োজনগুলোতে উপস্থিত হয় না, তাদেরকেও শুনানোর জন্য যে দূরদূরান্তে যে পরিমাণ মাইক ব্যবহার করা হয়, তাতে শব্দদূষণ ভয়ংকররূপ ধারণ করে।

বহু আলেম ওলামা শব্দদূষণের কথা মাথায় রেখে রাত ১২ টার মধ্যে মাহফিল শেষ করলেও অনেক জায়গায় রাতভর আলোচনা করা হয়। এতে করে মূলত ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলোও দিনভর কাজকর্ম করে নিদ্রারত মানুষদের কাছে বিরক্তের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি মাইক, সাউন্ড বক্সের সাউন্ড ক্লিয়ার না হওয়ায় এবং পাশাপাশি একাধিক মাইকের ফলে মাহফিলের বক্তব্য পরিস্কার বোঝা যায় না, উল্টো শব্দদূষণ হয়। মাহফিলে এই সমস্যা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত মাইক-স্পিকার ব্যবহারের ফলে মানুষকে ওয়াজ শোনানোর পরিবর্তে শব্দদূষণের কষ্টে ফেলা হচ্ছে। সেই সাথে শহরের অলি গলিতে একই দিনে একাধিক মাহফিল আয়োজন করা হলে শব্দদূষণ চরম আকার ধারণ করে।

চিকিৎসকদের মতে, যেকোন প্রকার শব্দদূষণের কারনে উচ্চ রক্তচাপ, দুশ্চিন্তা, উগ্রতা, টিন্নিটাস, শ্রবণশক্তি হ্রাস, মানসিক অবসাদ সহ অন্যান্য ক্ষতিকর ও বিরূপ প্রক্রিয়া ঘটতে পারে। ধর্মীয়ভাবেও শব্দদূষণের মাধ্যমে মানুষকে কষ্ট না দিতে আহŸান করা হয়েছে। এমনকি উচ্চস্বরে (ক্ষতিকর পর্যায়) কোরআন তেলাওয়াত-নামাজ আদায় করতেও রাসুল (সঃ) সাহাবাদের নিষেধ করেছেন(আবু দাউদ-১১৩৫)। এছাড়াও রাষ্ট্রীয় আইনেও শব্দদূষণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

মানুষকে ইসলামের বিধিবিধান শেখানো এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মাহফিলের গুরুত্ব অপরিসীম। মাহফিলে আলোচনা কেমন হবে, তা নিয়ে সরকারী বিধি নিষেধ থাকলেও মাহফিল আয়োজনের ক্ষেত্রে কোন বাধা থাকে না। তবে মাহফিল আয়োজন করে মানুষের কল্যাণের বিপরীতে শব্দদূষণের মাধ্যমে ক্ষতিকর যেনো না হয়। সেই সাথে যেকোন ধর্মীয় উৎসব, আনন্দ ভ্রমন কিংবা কনসার্টের মাধ্যমে যাতে শব্দদূষণ প্রকট আকার ধারণ না করে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে ধর্মগ্রন্থগুলো যেহেতু মানুষের জন্য কষ্টদায়ক কাজ হতে বিরত থাকার কথা বলেছে এবং ন্যায় নীতির শিক্ষা দেয়, সেহেতু ধর্মীয় যেকোন আয়োজন-উৎসবে অতিরিক্ত মাইক ও সাউন্ডের সমস্যার কারনে শব্দদূষণ কাম্য নয়। এই অবস্থায় ধর্মপ্রাণ মানুষদের প্রতি একটাই আহŸান যে, রাত ১২ টার মধ্যে ধর্মীয় আয়োজনগুলো শেষ করুন। অতিরিক্ত মাইক-সাউন্ড বক্সের ব্যবহারের ফলে শব্দদূষণের মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি না হয়, সেটি নিশ্চিত করুন। যারা উৎসব-আয়োজনের স্থানে স্বেচ্ছায় আসে না, তাদেরকে জোরপূর্বক উৎসবে যুক্ত করার জন্য দূরদূরান্তে মাইক ব্যবহার করা বন্ধ করুন। সকলে মিলে চেষ্টা করলে শব্দদূষণ বন্ধ করা কঠিন কাজ হবে না।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial