ঢাকারবিবার , ১৯ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

মাসুমের নামায ভাবনা

মৃধা প্রকাশনী
নভেম্বর ১৯, ২০২৩ ৫:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

মুয়াজ্জিন ফজরের ফজরের আযান দিচ্ছে , মাসুম শুনতে পেল আসসলাতু খইরুম মিনান্নাউম, এই আওয়াজ শুনে কি আর ঘুমে থাকা যায়। মাসুম পাঠ করল ” আলহামদুলিল্লাহিল লাজি আহইয়ানা বা’দামা আমাতানা ওয়াইলাইহিন নুশুর”,

রহিমগঞ্জের ব্যস্ত সড়ক দিয়ে কৃষকরা ক্ষেতে যাচ্ছে, দেখতে কত সুন্দর, মাথায় একটি টুপির মতো চাকতি, কাঁধে লাঙল।  এদিকে কাক ডাকছে কা কা করে। ফজরের পর সুর তুলে সূরা ইয়াসিন পাঠ মনের আনন্দকে বাড়িয়ে দেয়। মাসুম সুন্দর তেলাওয়াত করতে পারে।

মালিক সূরা আনফালে কত সুন্দর বয়ান করেছেন ” কুরআন তেলাওয়াত মানুষের ইমানকে বাড়িয়ে দেয় ” মাসুম এই স্বাদটা অনুভব করে। প্রতিদিন ফজর সালাতের পর কুরআন তেলওয়াত মাসুমের রুটিন কাজ। আসলে যারা খোদার রহমত বুঝতে পারে তাদের আর ঠেকায় কে, তারা ইবাদতে মজা নেয়।

 

মাসুম আজকে খুবই ব্যস্ত। সে ভাবতেছে নফল সালাত নিয়ে।  ফরজের পাশাপাশি সে নফল সালাত পড়তে চায়। প্রিয় বন্ধুরা আপনাদের অন্তরে  এখন সাওয়াল  জাগতে পারে নফল সালাত নিয়ে ব্যস্ত থাকার কি আছে। নফল সালাতের প্রয়োজন কেন অনুভব করে মাসুম?  যেখানে তার স্কুল সহপাঠীরা ওয়াক্তের সালাত  পর্যন্ত আদায় করেনা।

 হ্যাঁ বন্ধুরা! আমাদের প্রিয় নবী সঃ বলেছেন” কেয়ামতের দিন সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহর আরশের নিচে স্থান দিবেন তার মধ্যে অন্যতম হলো ঐ সকল যুবক যাদের যৌবন কেটেছে আল্লাহর মহিমা ঘোষণা দিতে দিতে”। এই হাদিস পড়ার পর থেকে মাসুম ধ্যানে মগ্ন, কিভাবে নবিজীর বাণী বাস্তব জীবনে আরোপ করা যায়। তার ধ্যান মগ্নতার কারণ জানতে পারলেন তো।  হ্যাঁ, বলতে বলতে আমাদের গল্প শুরু হয়ে গেল।

প্রিয় বন্ধুরা, গল্প যেখানে শুরু,  মাসুম শব্দের একটু তরজমা করি। কেন মাসুমের দাদা ফরিদ আহমেদ মাসুম নাম রেখেছেন। মাসুম শব্দটি  আরবি। যার বাংলা করলে হয় নিষ্পাপ!  কি প্রিয় বন্ধুরা, মানুষ কি কখনো নিষ্পাপ হতে পারে?   হ্যাঁ, হতে পারে। তবে তাঁরা হলেন আমাদের নবি রাসূলগন। যাদের জীবনে কোন গুনাহ নেই, তাঁরা  মাসুম ছিলেন।

 

মাসুমের দাদা ফরিদ আহমেদ নবিজীর জীবনি পড়তে গিয়ে এই শব্দটি আবিষ্কার করেন। সে এক লম্বা কিস্সা। মাসুমের পিতা যখন বিবাহের বয়সে উপনীত হন তখনই তার দাদার মাথায় নামটি খেলা করে। যে ভাবা সে কাজ। তার নাতির নাম রাখলেন মাসুম কতইনা সুন্দর নাম।

মাসুমের সালাতের প্রতি ঝোঁক দেখে তার দাদা বারবার ভাবে ” আসলে নামেরও একটি আছর পড়ে মানুষের উপর”। মাসুমের ছোট্ট বেলার একটা কিসসা বলি সে সবে মাত্র সাত বছরে পা রেখে। একদিন সে কুরানের আলো নামে একটি গল্প পড়তে গিয়ে হদিস পান যে সাত বছর হলেই ছেলে মেয়েদের নামাযের তাগিদ দিতে হবে তার অভিভাবককে। সেই থেকে সে নামায ধরেছে

একদিন ঝড় তুফান হচ্ছে মাসুমের মা নিষেধ করছেন মসজিদে না যেতে, তবে সে যাবেই, অন্তরে খোদার প্রেম জমে গেলে তার আর ঘরে ভালো লাগেনা,  সে জামায়াতে সালাতে প্রশান্তি পায়। নবিজী সঃ একটি শব্দ দিয়ে তা বুঝিয়েছেন ” হালাওয়াতুল ইমান” সে ইমানের স্বাদ পায়।

 

মাসুম যখন দেখে তার বন্ধুরা বিভিন্ন গর্হিত কাজে ব্যস্ত তখন সে ভাবে কিভাবে তাদের সিরাতাল মুনতাকিমের পথে ফেরানো যায়, তখন তার মাথায় আসে কালামে পাকের একটি আয়াত। আল্লাহ তায়ালা তাঁর কলামে বলেছেন – “নিশ্চয় সালাত মানুষকে গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে”। ফজরের সালাতের পর সূরা আনকাবুত তেলাওয়াত করতে গিয়ে এই আয়াত আবিষ্কার করেন মাসুম নিজে। সে তার বন্ধুদের সালাতের দিকে দাওয়াত দেয় সে বলে” প্রিয় বন্ধুরা তোমরা সালাতের দিকে এসো, কল্যাণের দিকে এসো, এভাবে চলে যায় তার কয়েকটি সপ্তাহ। কিন্তু কার কথা কে শুনে। তার বন্ধুরা এখনও খারাপ আমলে ব্যস্ত তবে মাসুম দোয়া করে যায়…  আল্লাহুম্মাজআল কলবিনা নূর, ওয়াজআল ফি লিসানিনা নূর, ওয়াজআল ফি সামইনা নূর…  আহ! কত সুন্দর দোয়া, আহ! কি জল প্রবাহ বন্ধুর প্রতি।

 

রহিমগঞ্জ এলাকার মানুষজন বলাবলি করে জসিম উদ্দিনের ছেলের মতো যদি আমার ছেলেটা হতো,  আহ! কতইনা ভাগ্যবান সে। গ্রামে চায়ের দোকানে মাসুমকে নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে করিম মিয়া বলে উঠলেন সালাতের প্রতি একজন কিশোরের কত আবেগ, কত ভালোবাসা।

মাসুমের একটা চিন্তা সে কেন তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতে পারে না।  সারাদিন সে এটা নিয়ে চিন্তা করে। একদিন সে সূরা কাহাফ পড়তে যেয়ে সন্ধান পান একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, সূরার শেষের দিকের ১০৮-১১০  আয়াতে। এই আয়াতগুলো পড়ে ঘুমালে নাকি যেভাবেই হোক আপনি জেগে উঠতে পারবেন।

 

আজকে মাসুমের প্রথম দিন,  অর্থাৎ সে আজকে প্রাকটিস করবে আসলেই কি জেগে ওঠতে পারবে..  সে সূরা কাহাফের আয়াত পড়ে ঘুমালো। আশ্চর্যের বিষয় হলো সে ঠিক তাহাজ্জুদ সালাতের সময়ে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আহ! একজন কিশোর আজকে তার মনের আবেগের কথা প্রভুকে শুনাবেন, তাও আবার শেষ রাতে।  প্রভু তো তাহাজ্জুদ আদায়কারীর জন্য মাকামে মাহমুদে সাক্ষাৎ করবেন। কত ভাগ্যবান তারা।

 

আমাদের প্রিয় নবি সঃ রাতের প্রথম প্রহরে ঘুমাতেন, শেষ রাতে আল্লাহর সান্নিধ্যে থাকতেন। সূরা মুদাস্সিরের শুরুর আয়াতগুলো পড়ে মাসুম তো অবাক। যেখানে আল্লাহ তায়ালা প্রিয় নবিকে সঃ বলেন “হে বস্ত্রাবৃত, উঠুন, মানব জাতিকে সতর্ক করুন এবং আপনার রবের মহিমা ঘোষণা করুন”।

হাদীস শরীফে তো উল্লেখ আছে আল্লাহ তায়ালা শেষ রাতে আরশ থেকে শেষ আসমানে নেমে আসেন। আজকে মাসুম খুবই খুশি কারণ তার দোয়া কবুল হয়েছে, সে এখন নিয়মিত ফরজের সাথে সাথে  নফল সালাত পড়তে পারে। সে এখন হাজার যুবকের আইডল। কারণ যার নামাজ সুন্দর তার সমস্ত কিছু সুন্দর।  সে আল্লাহর যিম্মায় থাকে।

 

 মাসুম তার বন্ধুদের বয়ান দিচ্ছিলের “ইতিহাসে হাজারো যুবকের কাহিনি আমি পড়েছি তারা তাদের যৌবনে খোদার তরে সময় কাটিয়েছেন। বড় পীর সাহেব আব্দুল কাদের জিলানী রহ এর  গল্প তো অসাধারণ। বাগদানে পড়তে যাচ্ছিলেন পথিমধ্যে ডাকাতদের আক্রমণ, তার সাথে থাকা সবাই মিথ্যা বললেও সে সত্য কথায় বলে দিয়েছে যে আমার কাছে চল্লিশটি স্বর্ণ মুদ্রা আছে ডাকাতরা তার সততায় মুগ্ধ হন। ফলে তাওবা  করে আল্লাহর রাহে ফিরে আসলেন। আহ! কত সুন্দর ছিল তাদের জীবন”।

 

মাসুম একটু থামতেই তায়েফ প্রশ্ন করে বসলো তাওবা কি জিনিস বিষয়টা বুঝিয়ে বল…  তায়েফের কথা শুনে মাসুম বেজায় খুশি..  মাসুম শুরু করল তাওবা হলো ফিরে আসা। অর্থাৎ ধর, তুই গুনাহ করছিস এই গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। তোরা কি শুনেছিস যে নিজামুদ্দিন আউলিয়ার কথা সে কিন্তু যুবক বয়সে খারাপ কাজে লিপ্ত ছিল পরবর্তীতে সে সিরাতার মুসতাকিমের পথে ফিরে আসে….

” তোমরা আল্লাহর কাছে গুনাহ থেকে বাঁচতে পাথেয়ের ব্যবস্থা কর, আর শ্রেষ্ঠ পাথেয় হলো তাকওয়া”। সূরা বাকারার আয়াত। তার কথা শুনে তায়েফ, দায়েফ, ইমরান এবং ওয়াহিদের মুখে স্বস্তির হাসি আহ! এতদিন না জেনে কত গুনাহ করেছি এখন থেকে আমাদের জীবন হবে আল্লাহর জন্য।

 

যাক বাবা অন্তত পক্ষে কিছু মানুষকে যুবক বয়সের ইবাদত করলে আখেরাতে দাম  কত তা উপলব্ধি করাতে পেরে ভালো লাগছে এই বলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল মাসুম। সেই সাথে মুয়াজ্জিনের আযান শুনে তার ঘুম ভাঙ্গে,  অযু করে সে মসজিদে গিয়ে  তো হতবাক তার বন্ধুরা নামাযে প্রথম কাতারে!  তখন সে গত রাতের স্বপ্নে তার বন্ধুদের যে বয়ান দিচ্ছিল তা স্মরণ করল। এবং সাথে সাথে বলল আলহামদুলিল্লাহ। সমস্ত প্রসংশা আল্লাহর জন্য। আজকে তার দোয়ার ফসল সে পেল।

 

প্রিয় বন্ধুরা আশা করি আপনাদেরও ঘুম ভেঙ্গেছে, যৌবনের দাবি বুঝতে পেরেছেন। আমাদের কেমন জীবন গড়া উচিত এবং যুবক বয়সে খোদার পথে চলতে পারা নেয়ামত যে কত বড়। ধন্যবাদ মাসুম তুমি আমাদের ঘুম ভেঙ্গে দিয়েছ।

 

মো. রুকন উদ্দিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial