ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

শৈশবের খেলনা “মেড্ডা”

জুবায়ের আহমেদ
নভেম্বর ১৬, ২০২৩ ৭:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আমাদের কুমিল্লার আঞ্চলিক ভাষায় ছবিতে থাকা অখাদ্য ফলটিকে মেড্ডা বলি। মেড্ডা গাছের (কেতাবী নাম পিটুনি গাছ/ফল) পাতাগুলো পান পাতার মতো, আমের মতো ডালে ডালে মেড্ডা ধরে। মেড্ডা খাওয়ার ফল না হওয়ায় এবং যথেষ্ট শক্ত হওয়ায় মেড্ডা দিয়ে আমরা শৈশবে ঢিলছুড়াছুড়ি খেলতাম, ঝগড়াও প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্যে করে ছুড়ে মারতাম মেড্ডা। মেড্ডা ও আমপাতা দিয়ে চার চাকার গাড়ী বানিয়েও খেলা হতো অনেক।

 

পাখি শিকারের কাজেও কেউ কেউ মেড্ডা ব্যবহার করতো। মেড্ডার মুকুলও দেখতে বেশ সুন্দর। আমাদের শৈশবের মেড্ডার মুকুল ও মেড্ডা নিয়ে অনেক সময় কেটেছে। গাছ জুড়ে মেড্ডার ফুল দেখতে খুবই দৃষ্টিনন্দন।

 

মেড্ডা খেতে না পারায় ছেলেরা গাছ থেকে পারা ব্যতীত আরসব গাছেই পাকতো, পেকে পেকে মাটিতে পরে গাছের নিচে জমে থাকতো। আমরা আফসোস করতাম, ইশ, যদি মেড্ডা খাওয়ার ফল হতো, তাহলে কতই না ভালো হতো।

 

শুরুতে মেড্ডাকে অখাদ্য বলেছি। মেড্ডা আসলেই অখাদ্য, তবে মেড্ডা গাছ অকাজের নয়। অবাক করা বিষয়, এখন এই লেখাটা লিখতে গিয়ে গুগল করে জানতে পেরেছি মেড্ডা গাছের ঔষধী গুণ সম্পর্কে।

 

গাছ এমনিতেই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। মেড্ডা গাছ বাড়ীর শেষ সীমানায় কিংবা পুকুর পারে রোপিত কিংবা এমনিতেই (পাকনা মেড্ডা থেকে) হয়। এছাড়া ঔষধী গুণের মধ্যে মেড্ডা গাছের পাতা, ছাল ও শিকড় পিত্তরোগ, ক্ষত, থাইরয়েড গ্রন্থির বৃদ্ধি, বাত সহ আরো অনেক রোগের জন্য ব্যবহার করা হয়।

 

চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নত আবিস্কারে আমরা মুগ্ধ হই, বিস্মিত হই। কিন্তু মহান আল্লাহ প্রকৃতির অপরূপ সব সৃষ্টির মাঝেই দিয়েছেন সকল রোগের ঔষধ। প্রয়োজন তা খুঁজে বের করে কাজে লাগানো। আমরা ভেষজ চিকিৎসাকে পাত্তা দেই না, অনেকেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন, হাসাহাসি করেন। আমরা রোগাক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসকের সরনাপন্ন হই, অথচ আমরা যদি খাদ্য তালিকায় রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্যদ্রব্যে অভ্যস্থ হতাম, তাহলে রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতো বহুলাংশে। স্বাভাবিক নিয়ম তো এটাই প্রকৃততে দেয়া সৃষ্টিকর্তার দান গ্রহণ করবো, সুস্থ থাকবো। আগেরকার দিনের মানুষের দীর্ঘ হায়াত পাওয়ার মূলেও এই সুখাদ্য ও সুস্বাস্থ্য। বর্তমানে আমাদের অনিয়ন্ত্রিত ও বিষযুক্ত খাদ্যের ফলে আমরা শারীরিক ভাবে শক্তিশালী নই ততটা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম আমাদের, অল্পতেই হাপিয়ে উঠি। দিন দিন আমাদের গড়ায়ুও কমছে।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial