ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

আবেগের খেলা শেষে পেশাদার ক্রিকেটের যুগে প্রবেশের অপেক্ষা

মৃধা প্রকাশনী
নভেম্বর ১৬, ২০২৩ ৭:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফিজয়ের পর অর্থাৎ টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর দীর্ঘ ২৩ বছরে আজকের অবস্থানে আসার পেছনে পঞ্চপান্ডব এবং তাদের সাথে মোহাম্মদ আশরাফুলের নামটা নিতে হবে শ্রদ্ধাচিত্তে।

আশরাফুল ও মাশরাফি জমানা শেষ। বাকি চার ক্রিকেটার জাতীয় দলে আছেন এখনো। এই চার ক্রিকেটারের জমানাও শেষ হবে দ্রæত এবং এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে অবদানের ঋণ শোধ হবে কিছুটা হলেও।

আশরাফুল ও পঞ্চপান্ডবের ভক্তরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে তাদের প্রিয় ক্রিকেটারদের অবদান উল্লেখ করে, তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ, তাদেরকে মূল্যায়ণ করার কথা জোর দিয়ে বলে। এই ৬ ছয় ক্রিকেটার ব্যতীত অন্য আর কোন ক্রিকেটারের জন্যই অবদানের প্রতিদানজনিত দাবী তেমনটা নেই।

তাদের অবদানের প্রতিদান পাক বা না পাক, তারা যখন ক্রিকেট থেকে বিদায় নেবে, তখন তাদেরকে ঘীরে জাতীয় দলে খেলা না খেলানোর যে আলোচনা ও দাবী, তা আপনা আপনিই বন্ধ হয়ে যাবে এবং তখন থেকেই মূলত শুরু হবে পেশাদার বাংলাদেশ দলের আসল লড়াই।

এটা কিভাবে, তা উল্লেখ করছি। বাংলাদেশ দল একটি পেশাদার ক্রিকেট দল এবং ক্রিকেটাররাও পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সকল সুযোগসুবিধা ভোগ করলেও পারফরম্যান্স কিংবা তাদের দলে নেয়া বা বাদ দেয়ার বিষয়ে পেশাদারিত্বের ছিটেফোটাও দেখা যায় না। তারা অবদান রেখেছে বলে আবেগে ভাসে ভক্তরা, তারা নিজেরাও এবং সংশ্লিষ্ট সকলেই।

এই অবদানের প্রতিদানের জন্যই রিয়াদকে ২০২৩ বিশ্বকাপের দলে চাওয়া হচ্ছে, ফিনটেস ভালো না হওয়া স্বত্বেও, তামিমের বেলাতেও তাই। তামিমের বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত এবং নেতৃত্ব দেয়াও নিশ্চিত হয়ে গেছে ঘটনা প্রবাহে। কিন্তু দেখুন তামিম যদি এই ১ মাসে ফিট হতে না পারে, তাহলে কতটা বাজে ও জটিল অবস্থায় থেকে বিশ্বকাপ খেলতে হবে বাংলাদেশ দলকে। বাদ দিতে গেলেও পূর্বের অবদানের কথা তুলা হয়।

শুধু দলে নেয়া বা না নেয়াই নয়, এই ক্রিকেটারদের সম্পর্কে গঠনমূলক সমালোচনা করলেও একদল সহ্য করতে পারে না, ঘুরে ফিরে সেই অবদানের কথা চলে আসে। অথচ পেশাদারিত্ব হলো, আপনি প্রতিদিন কাজ করবেন এবং বিপরীতে সুবিধা পাবেন। খেলাধূলায় এটা ফর্ম-অফফর্ম মিলিয়ে কাজ হিসেবে গণ্য হলেও অফফর্মের একটা পর্যায়ে পেশাদারিত্বের জায়গা থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কিন্তু বাংলাদেশে উল্লেখিত ৬ ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে অবস্থা জটিল আকার ধারণ করে।

আমার দৃষ্টিতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য বিবেচনায় থাকা ৪ পান্ডবের অধ্যায় শেষ হলেই সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ৪ ক্রিকেটার পরবর্তী লিটন, মুস্তাফিজরা সিনিয়র হলেও প্রয়োজনে তাদের বাদ দেয়া কিংবা নেয়ার ক্ষেত্রে তামিম-মুশফিকদের মতো দেশের ক্রিকেটে বিশেষ অবদানের বিষয়টি আসবে না। আনার সুযোগও নেই। কারন দলটি গড়ে দিয়ে গেছে আশরাফুল ও পঞ্চপান্ডবরা, লিটন-ফিজরা নয়। ফলে তখন লিটন ফিজ সহ অন্যান্য সিনিয়র কাউকে বাদ দিতে আবেগতাড়িত হবে না কেউ, ফ্যানরা আবেগ তাড়িত হলেও বিশেষ অবদানের কথা বলার সুযোগ থাকবে না তাদের।

আশরাফুল এবং পঞ্চপান্ডবের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই অবস্থান, এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, সবসময় আমরা স্বীকারও করবো। তবে তাদের ক্যারিয়ারের শেষ সময়েও এই অবদানজনিত দায় এতোটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, এই দলটা যে পেশাদার দল এবং পেশাদারিত্বে আবেগের জায়গা নেই, সেটা ভুলেই যায় অনেকে। তাই আমার শেষ বক্তব্য হলো, আবেগ হোক বা স্বাভাবিক হোক, এখনো জাতীয় দলে থাকা ৪ পান্ডবের শেষটা সকলের চাওয়া কিংবা দাবীমতে স্বাভাবিক ভাবেই হোক এবং আর মাধ্যমেই শেষ হোক বাংলাদেশ ক্রিকেটে অবদানের ঋণ পরিশোধ।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial