ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৯ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

মধ্যবিত্তের জীবন

মৃধা প্রকাশনী
নভেম্বর ৯, ২০২৩ ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিশ্ব যখন দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। তারই একপ্রান্তে ইউক্রেন -রাশিয়া যুদ্ধের দাবানল জ্বলছে।আফ্রিকার একাধিক  দেশ, সিরিয়া ও সুদানের অভিবাসীরা খাদ্য দ্রব্যের অভাবে উনুনে আগুন জ্বালাতে পারছে না। অনেক নারী ও শিশু  খাদ্যের অভাবে মারা যাচ্ছে। অপরদিকে আমার প্রিয় মাতৃভূমি  তখন রকেট গতিতে উন্নত হয়ে সিঙ্গাপুর সিটির রুপ ধারণ করছে। তবে যার অন্তরালে  আবার কেউ কেউ জীবন বাঁচানোর জন্য  যুদ্ধ করছে। আপনি কী শুনে অবাক হয়েছেন?
– হাহা  তা আবার কেমন উক্তি।
অবাক হওয়ার কিছু নেই সত্যিই বলছি,এটা কোনো মহাযুদ্ধ নয়, তবে  নিরস্ত্র  মধ্যবৃত্তশ্রেণি বনাম দ্রবোমূল্য উদ্ধগতির যুদ্ধ। তারাই প্রকৃত বীরযোদ্ধা, যারা জীবন বাঁচানোর জন্য স্বীয় জঠরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়।আবার অনেকের নিকট সেই যুদ্ধ অজানা কিংবা কল্পনায় ও বটে।হঠাৎ একদিন নীড়ে ফেরার পথে প্রকৃত যুদ্ধার হৃদয়কাতর ভাষা অনুভব করার সৌভাগ্য হয়েছিল। প্রথমে নিঃস্তব্ধ হলেও শেষটা শুনার তীব্র আগ্রহ নিয়ে চুপ ছিলাম।চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী ট্রেনটি নরসিংদী স্টেশনে পৌঁছায়।তখন জানালার পাশে বসে অপলক দৃষ্টিতে দূরের সবুজ শ্যামল বৃক্ষের দিকে তাকিয়ে ক্লান্ত মনে ভাবছিলাম আরো ১ ঘন্টা পথ বসে কাটাতে হবে। হঠাৎ আমার পাশের খালি সিটে মধ্যম বয়সী  ভদ্রলোকটি
বসলেন। শ্যম বর্ণের, মধ্যম বয়সী,কুঁকড়ানো কালো ক্লেশ,বেশ লম্বা,সাদা- মাটা ভদ্রলোক।
 রবীন্দ্রনাথের ভাষায় –
                        মন্দ নহে খাটি সোনা বটে।
অথাৎ সার্বিক বিবেচনায় নিতান্তেই
ভদ্রলোক।
খানিকক্ষণ পর জানতে পারি ভদ্রলোকটির বাসা নেএকোণা জেলায়।কর্মের সুবাদে নরসিংদীতে থাকেন।
আমি কোমল মনে জিজ্ঞাসা করি যে, পরিবারের কারা আছেন?
ভদ্রলোকটি বললেন, আদরের এক ছেলে,  এক কন্যা ও প্রিয় স্তী সহ সুখী পরিবার।
আমি বললাম – তারা কী  করে?
ভদ্রলোক মুচকি হেঁসে বললেন, আমার আদরের ছেলে (ফুয়াদ)এবার ক্লাস সেভেনে পড়ছে। তার ক্লাস রোল এক।
আমি মুচকি হেঁসে বললাম- মাশাআল্লাহ।
 আমি জিজ্ঞাসা করি,- আপনি কী করেন?
মুহুর্তে চোখে বন্যার রুপ ধারণ করে বলতে  শুরু করলেন যে,আমি একজন দিনমজুর। সারাদিন কাজ করে রাতে  রেলস্টেশনে ঘুমাই।
অপলক দৃষ্টিতে আমি তাকিয়ে বললাম-টাকার চেয়ে তো  জীবনের মূল্য অনেক বেশি? ইচ্ছে করলে একটা মেস / বাসা ভাড়া নিতে পারেন।
 ভদ্রলোক বললেন – জীবন মূল্যবান বটে, তবে না খেয়ে মরার চেয়ে  তো রেলস্টেশনে রাত কাটানো শ্রেয়।
অব্যক্ত কন্ঠে বলতে শুরু করলেন – দৈনন্দিন ৪০০/৫০০ টাকার কাজ করি। কখনো মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া, আবার নানাবিধ সমস্যার জন্য  কাজ পায় নি।  বসে থাকতে হয়। মেস নিয়ে
থাকলে তো আর পরিবার চলবে না। আর মেস ভাড়ার টাকা দিয়ে  খেয়ে দিন কাটায় আর রাতে স্টেশনে থাকি। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে পরিবারের খরচ মেটায়।
আমি বললাম, এত কম টাকায় জীবন চলে?
ভদ্রমানুষটি মৃদু স্বরে বললেন- বাবা, না চললেই কী? আমাদের তো কেউ দেখবে না কিংবা ২ পয়সা দিবো না । আজকে টাকার জন্য ছেলেটি স্কুলে যায় নি।বলেছিলাম,  বাবা আজ কাজ করে টাকা পাঠাবো। কিন্তু কাজ পায় নি।তাই এখন কাজের সন্ধানে বের হয়েছি।বেলা তখন পৌনে বারোটা বাজে।
আমি বললাম,  এখন কেউ কী আপনাকে কাজে নিবে?
ভদ্রলোক বললেন, আজ তো নিবে না। তবে যদি কেউ আধা-বেলার জন্য নেয় তাহলে খাবারের বিনিময়ে হলে ও যাবো। না হয় আগামীকাল যাবো।
অধীর আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার ছেলেকে কী বানাতে চান?
সুরেলা কন্ঠে বললেন,  ইচ্ছে ছিল অনেক কিন্তু  সাধ্যে কী দেয়। শিক্ষকরা বলে ফুয়াদ অনেক ভালো ছাএ।  যেখানে খাবার জুটানো হিমশিম সেখানে পড়াশোনা করানোটা তো অসম্ভব।
মনে হলো নিত্য দিনের আহার জোগাড় করাটাও তাঁর নিকট এভারেস্ট বিজয়ের চেয়ে কম নয়।
পরবর্তী স্টেশনে আসতেই ভদ্রলোকটি নেমে গেল। অপলক চাহনি দিয়ে তাকিয়ে ভাবলাম -কেউ খাবার হজমে ব্যস্ত আর কেউ খাবার জোগাড়ে ব্যস্ত। বৈচিত্র্যময় নান্দনিক পৃথিবীতে  হরেরকম মানুষের সমাহার কিন্তু দেখা কেউ নেই। তিক্ত হলে সত্য যে এই মধ্যবৃত্ত মানুষগুলো অসাধ্য সাধন করার চেষ্টা করে  তবুও পরাজয়ের গ্লানিকে বরণ করে না।
গল্পের শিক্ষা :
১/ কঠোর পরিশ্রম করতে শিখুন।
২/ ধৈর্য্য ধারণ এবং রবের নিকট দোয়া করুন ।
৩/ পরস্পরকে ভালোবাসুন।
৪/ সাধ্য অনুযায়ী মানবিক কাজে এগিয়ে আসুন।
ইয়ামিন গালিব বিন রাশিদ
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ(১ম বর্ষ) ঢাকা কলেজ।
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial