ঢাকাসোমবার , ৬ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

সময়ের জাদু

মৃধা প্রকাশনী
নভেম্বর ৬, ২০২৩ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বেশিরভাগ বড় হয়ে যাওয়া মানুষদের জীবনের সুন্দর দিন কোনগুলো জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় “ফেলে আসা পুরনো দিন, তারিখ,মাস, বছর। মানুষ যত বড় হতে থাকে তত দূরত্ব বাড়তে থাকে,চাপ বাড়তে থাকে, দায়িত্ব এসে জুড়ে বসে এবং তথাকথিত নিয়মে জীবন জটিলতর হতে থাকে। যে ছেলে কিংবা মেয়ে মায়ের আঁচল ধরে সারাদিন বসে থাকতো জীবনের নিয়মেই তাকে সেই মায়ের কাছ থেকেই হাজার হাজার মাইল দূরে থাকতে হয়।যে বাবার সাথে বায়না না করলে দিন কাটতো না এখন সেই বাবার সাথে বায়না করার মতো সুযোগ কিংবা “বড় হয়ে গেছি” এই ভাবনায় আর কিছু বলা হয়ে উঠে না। সেই দূর মফস্বল থেকে মায়ের কণ্ঠ শুনলে খুব কান্না পায় এবং কান্না চেপে রেখে “খুব বাড়ি যেতে ইচ্ছে করে” এই কথা না বলে বলতে হয় ” খুব ভালো আছি এখানে”। বাবার কথা মনে হলে বুক ভারী হয়ে উঠে! গলাটা ধরে যায়! যে বন্ধুদের সাথে একদিন কথা না হলে মনটা রাগে ,অভিমানে ,কান্নায় পরিপূর্ণ হয়ে যেতো তাদের সাথেও এখন ছয় মাসে একদিন কথা হয় না। যে চারজন বন্ধু এক বেঞ্চে বসে গোটা দশটা বছর কাটিয়েছে তারা এখন বিচ্ছিন্ন। কেউ চট্টগ্রাম, কেউ ময়মনসিংহ ,কেউ ঢাকা আবার কেউ বা সেই দূর ইংল্যান্ডে। রীতিমতো সিডিউল ঠিক করেও তাদের এক সাথে বসে এক কাপ চা খাওয়া হয়ে ওঠে না।

 

যে বান্ধবীর সাথে প্রতিটা কথা না বললে পেটের ভাত হজম হতে না আজ সে ও মহা ব্যস্ত স্বামী, সন্তান, সংসার নিয়ে। স্কুল জীবনে যাদের রীতিমতো টপার ধরা হতো প্রতিটি পরীক্ষায় যাদের নাম্বার ১০০ তে ৯৫ থাকতো তাদের কেউ কেউ আজ কোথাও চান্স না পেয়ে হতাশায় ভুগছে, কেউ ঝরে গেছে আবার কেউ বা জীবন নিয়ে মহা ব্যস্ত। যে মেয়েটির একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ছিল! যাকে নিয়ে মা বাবার আকাশসম স্বপ্ন ছিল একটা ভুল সিদ্ধান্তে সে আজ লক্ষ্যভ্রষ্ট। আজকাল এতো সুবিধা থাকার পরও আমাদের পড়তে ইচ্ছে করে না। একটা সময় যখন ৪-৫ এ ছিলাম তখন হারিকেনের আলোয় পড়তাম তবুও আগ্রহের কোনো কমতি ছিল না।এখন সময় সুযোগ ঠিক করেও দুই ঘণ্টা পড়তে বসা হয় না। মায়ের বকুনি অগ্রাহ্য করে এখন আর ভোর সকালে উঠে বকুল ফুল, শিউলি ফুল কুড়াতে যাওয়ার সময় আমাদের হয়ে উঠে না।দেরি তে ঘুম থেকে উঠলে ও কেউ কিছু বলে না,পড়তে না বসলে ” পড়তে বস, পড়তে বস ” বলে মা আর বকা দেয় না শুধু মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করে ” পড়াশুনার কি অবস্থা? কিছু লাগলে জানিও!” যে বোনদের সাথে ঝগড়া না হলে দিন কাটত না তাদের সাথে প্রায় সময়ই দিনে একবারও কথা হয় ন।!যাদের ছাড়া জীবন চলবে না ভাবা হয়েছিল তাদের ছাড়াই দিব্যি ভালো থাকা হয়। সকালবেলার যে প্রাইভেটটা বিরক্ত লাগতো সেটাই এখন সব থেকে বেশি মিস করা হয়। যেই স্কুলে যেতে বিরক্ত লাগতো এখন সেই স্কুলের কথা মনে পড়লেই বুকটা হাহাকার করে উঠে। মায়ের কড়া নির্দেশ ছিল যেখানেই যাও সন্ধার আগে বাড়ি ফিরে আসবে।তখন খুব বিরক্ত লাগতো। আমার আম্মু না আমাকে একটুও বুঝে না!এখন বিষয়টা উপলব্ধি করি আমার আম্মুর সেই সান্ধ্য আইনের জন্যই হয়তো সর্বনাশী বন্যা হয়ে ভেঙে পড়িনি, বিপথে যায়নি।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল এক সময়ের সব থেকে বড় স্বপ্ন। এখন পেয়ে গিয়ে না সেই আনন্দটা আর খুঁজে পাই না! এখনকার মানুষগুলো কেমন স্বার্থপর।সুযোগ পেলেই আপনাকে কোপ দিবে। কি অদ্ভুত! এখন আর কারো নেতিবাচক কথাতে রিয়েক্ট করা হয় না যেমনটা ছোটবেলায় করা হতো! এখন সময়ের কাছে সব ছেড়ে দেওয়া হয়।এখন আর নিজেকে কারো কাছে এক্সপ্লেইন করতে ইচ্ছে করে না। যে বাড়িটা ছিল একান্ত আপন সেখানে এখন বছরে কয়েকবার অতিথি হয়ে যাওয়া হয়!সত্যিই আমরা অনেক বড় হয়ে গেছি।সময়ের ধাঁধায় আমরা আমরা আটকে গেছি।কিন্তু এতো বড় কি আমরা কখনো হতে চেয়েছিলাম যেখান থেকে চাইলেও আর কখনো সেই ফেলা আসা দিনগুলোতে, রেখে আসা সময়গুলোতে ফিরে যাওয়া যাবে না?

 

 

জারিন নাফিসা স্মিতা

ইতিহাস বিভাগ,

প্রথম বর্ষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial