ঢাকাসোমবার , ৬ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

মৃত্যুভয়

মৃধা প্রকাশনী
নভেম্বর ৬, ২০২৩ ১২:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আহমাদ হাসান তালহা

সারাদিনের যানজট, ভার্সিটির ক্লাস আরো নানাবিধ কর্মব্যস্ততার শেষে ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরলাম। বিকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। যার দরুন পথঘাট পানিতে ভিজে একদম একাকার। চারিদিকে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ বিরাজমান।  বৃষ্টিস্নাত ঠান্ডা পরিবেশে ঘুরতে আমার বেশ ভালো লাগে। সময়টি ছিলো আশ্বিন মাসের শেষের দিকে। স্বভাবতই দিন আগের মাসের তুলনায় ছোট হচ্ছিলো। তাই বাসায় ঢুকে আসরের নামাজ পড়ে খুব তড়িঘড়ি করেই বের হয়ে পড়লাম সুন্দর এই বৃষ্টিভেজা আবহাওয়াটাকে উপভোগ করবো বলে। আমাদের বাসা থেকে মাত্র দশ মিনিটের দূরত্বেই একটি ছোট পার্ক আছে। যদিও আমরা শহরে থাকি তবে সেই পার্ক পর্যন্ত যেতে যেই রাস্তাটা অতিক্রম করতে হয় সেটা দেখতে গ্রামাঞ্চলের আঁকাবাঁকা মেঠো পথের মতই।

যেই ভাবা সেই কাজ। সাইকেল নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়লাম। আকাশখানিও মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে। আবারো যেকোনো সময় বৃষ্টি শুরু হতে পারে। তাই আমিও খুব দ্রুত সাইকেলিং করছিলাম। সামনেই দেখা যাচ্ছে খুব সংকীর্ণ কর্দমাক্ত পিচ্ছিল একটি রাস্তা যেটি ছিলো ছোট ছোট উঁচু-নিচু মাটির টিলা বিশিষ্ট। শুকনো রাস্তায় এখানে সাইকেল চালানো গেলেও আজ এখানে সাইকেল চালানো কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণই বটে। কিছুটা সামনে এগিয়ে যেতেই দেখলাম এই রাস্তার বা পাশেই ভিন্ন একটি পথ। বহুবারই এই পার্কে এসেছি তবে এই পথে দিয়ে কখনো যাওয়া হয়নি। তাই ভাবলাম আজ একটু ভিন্ন পথ দিয়েই যাওয়ার চেষ্টা করি। এই রাস্তাটি অবশ্য আগেরটির চেয়ে সংকীর্ণ তবে এখানে ঘাস থাকায় সেখানে সাইকেল নিয়ে পিছলে পড়ার ভয়টা অপেক্ষাকৃত কম ছিলো। তবে বিপত্তি ঘটলো আরেক জায়গায়। পথের দু’ধারই গাছপালায় ভরপুর, জঙ্গল বললেও হয়তো ভুল হবে না।

ভয়ে ভয়ে সাইকেলে প্যাডেল দিচ্ছি। হাদিসে বলা হয়েছে “দোয়া মুমিনের অস্ত্র”। এই কথাকে আমি তীব্রভাবে বিশ্বাস করি এবং বাস্তব জীবনেও খুব আশ্চর্যজনকভাবেই এই অস্ত্র আমার কাজে লেগেছে। তাই এই বিষয়গুলোকে আমি কখনোই ভুলে থাকতে পারি না। প্রতিবারের মতো এবারো আমি আমার আত্মরক্ষার‌ জন্য সেই অস্ত্রের শক্তি প্রয়োগ করলাম। যার দরুন মুখ দিয়ে শুধু ‘দোয়ায় ইউনুস’ আওড়াচ্ছিলাম। তো ভয়ের কারণ হলো, রাস্তাটি ছিলো খুবই নিরিবিলি এবং দেখেই মনে হচ্ছিলো এই রাস্তায় সাপ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দূর থেকেই কাঙ্ক্ষিত সেই পার্কটি দেখা যাচ্ছিলো।  প্রচণ্ড বৃষ্টি হওয়ায় এবং জায়গাটাও খানিকটা নিচু হওয়ায় বিলের দুই পাশের পানিতে রাস্তাটি ডুবে গিয়েছিলো। বড় বড় ঘাসের উপর দিয়ে সাইকেলিং করছি। সামনে এগোতে এগোতে হঠাৎ দেখলাম রাস্তাটি মাঝপথেই শেষ। আগে তো এখানে কখনো আসা হয়নি তার ওপরে আবার এই রাস্তার কোথায় শুরু আর শেষ তাও ঠিক আন্দাজ করতে পারছিলাম না। মনের মধ্যে শুধু এই ভয়ই কাজ করছে যে কখন যেন সাপে ছোবল দেয়। এ কথা ভাবতে ভাবতেই দূর থেকে কেউ একজন জোরে আওয়াজ করে ডাকতে লাগলো ও… ভাই…, ও…. ভাই… আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না কোন পাশ থেকে আওয়াজ আসছিলো। ধীরে সুস্থ তাকিয়ে দেখলাম , রাস্তা যেখানে শেষ হয়ে গিয়েছে ঠিক তার বিপরীত পার্শ্ব থেকেই এক লোক ডাকছে । তার দিকে তাকাতেই সে বলে উঠলো, “ভাই, ওইটা পানক সাপের আস্তানা।”

সাপের ভয়তেই এতক্ষণ কাঁপছিলাম। এখন সে ভয়  বেড়ে আরো কয়েকগুণ হয়ে গেলো । এ যেন “কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা”। ‘ভয়’  শব্দটির যথার্থ সংজ্ঞায়ন সেদিন খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করেছিলাম। এমনিতেই রাস্তার বেহাল দশা, তার ওপরে আবার ভুলক্রমে সাপের আস্তানায় প্রবেশ করে ফেলেছি। দ্রুত উল্টো পথে চলতে শুরু করলাম। কারণ যে পথে এতক্ষণ চলেছি সেটি মাঝপথেই শেষ হয়ে গেছে মূল সড়কের সাথে তার কোন সংযোগ নেই। বুকের ধড়ফড়ানি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। শুধুই মনে হচ্ছিলো এই বুঝি সাপ বাবাজীর সাথে সাক্ষাৎ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পথচলার পর অবশেষে পিচ ঢালা পাকা রাস্তায় উঠলাম। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কিছুটা শান্ত হলাম। মৃত্যু ভয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ পড়তে পড়তে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছলাম। মৃত্যুভয় কী জিনিস সেদিনই কিছুটা হয়তো আন্দাজ করতে পেরেছিলাম।

লেখক:- শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial