ঢাকারবিবার , ৫ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

বই পড়া -অন্ধকার কুটিরে আলোর ফোয়ারা

মৃধা প্রকাশনী
নভেম্বর ৫, ২০২৩ ১০:০৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

ভোরের ঝলমলে পবিত্র আলোকরেখা যেমন নিগূঢ় কালো অমানিশা দূর করে দেয়, বই এমন এক আলোকরশ্মি যা অজ্ঞতার তমসা দূর করে মন অন্দরে প্রস্ফুটিত করে মনুষ্যত্বের দুয়ার। বই পড়া হলো শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়া। শিক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্ব অর্জন হয় আর এর ফলে ব্যক্তি বুঝতে সক্ষম হয় ‘অহংকার পতনের মূল। কখনো কারো মনে কষ্ট দিও না। সর্ব হিতের কল্যাণ কামনা করো। আরো অনেক কিছু…
একজন বই পড়ুয়া ব্যক্তি জ্ঞানী হয় এবং বিনয়ী হয়। তার কথা বার্তা ও আচরণে থাকে রুচিশীলতার অপার সৌন্দর্য। কিন্তু যিনি বই পড়ে না সে সাধারণত এমন হয় না। বই পড়া হলো স্বশিক্ষায় শিক্ষা লাভ করে আলোকিত হওয়া।স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার অর্থ হলো মনের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন আত্মিক রোগ থেকে সুস্থ হওয়া। এ ধরা পৃষ্ঠে বৃষ্টি পরার ফলে যেমন আশে পাশের প্রকৃতি ফুল ফলের সমারোহে ভরে ওঠে, রঙিন হয় ধরণি। তেমনি বই পড়ার ফলে আমাদের জ্ঞান রাজ্যে নতুন নতুন তথ্যের জন্ম হয় । পাওয়া যায় নতুন নতুন জ্ঞানের সন্ধান।
শিক্ষার প্রধান মাধ্যম হলো বই পড়া। বই উত্তর গোলার্ধ থেকে দক্ষিণ গোলার্ধ সম্পর্কে জানিয়ে দেয় পাতার ভাজে ভাজে। বই কেবল মনুষ্যত্ব শিখিয়ে আলোর নদীতে সাঁতার কাটতেই শেখায় না, নব নব তথ্যে সমৃদ্ধ করে অসম্ভবকে সম্ভব করার বাতায়ন খুলে দেয় । যার ফলে দেশ ও জাতিকে নতুন নতুন জ্ঞান শেখানো যায়, প্রদর্শিত করা যায় সঠিক পথে। বই মানুষকে কৌতুহলী করে তোলে যার ফলে বীর ডুবুরিরা ‘মারিয়ানা ট্রেঞ্চে’ যাওয়ার জন্য দুঃসাহসী হয়ে ওঠে । আগ্রহী হয়ে ওঠে ২৯ হাজার ফুট উঁচু এভারেস্টে উঠতে। বই জ্ঞানের আধার। এখানে হাজার হাজার বছর পূর্বের মনীষীদের চিন্তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। বই পড়ার মাধ্যমে সফল ব্যক্তিদের সফলতার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছার কৌশল সম্পর্কে জানা যায়। একটা বই মলাটবদ্ধ করার জন্য একজন লেখক নানা গ্রন্থ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিচিত্র তত্ত্বে তার বইকে সমৃদ্ধ করে তোলে পাঠকের জন্য ।এ প্রসঙ্গে জেমস রাসেল স্যার বলেন,” বই হল এমন এক মৌমাছি, যা অন্যদের সুন্দর মন থেকে মধু সংগ্রহ করে পাঠকের জন্য নিয়ে আসে।”

একটা ভালো বই মানুষকে আলোর পথ দেখায় । এমনকি বড় হতেও শেখায়। সাফল্যের শিখরে পৌঁছতে সাহায্য করে। ছোটবেলা থেকে বাবা-মায়ের দায়িত্ব থাকা উচিত সন্তানকে খেলনা পিস্তল হাতে না দিয়ে একটি সুন্দর মনন তৈরির বই উপহার দেওয়া। মার্কিন ধনকুবের বিল গেটস্ যখন ছোট ছিলেন তখন থেকেই তার বাবা-মা বই পড়ার জন্য তাকে অনুপ্রাণিত করতেন। তিনি বলেন, খুব কম বয়স থেকেই বই পড়ার প্রতি আমার ঝোঁক তৈরি হয়। শিশু বয়সে আমার বাবা-মা বই কিনতে আমাকে ইচ্ছেমতো টাকা দিতেন, তাই আমি প্রচুর বই পড়তাম। বিল গেটস্ বলেন, প্রত্যেকটি বই আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। নতুন কিছু জানতে সাহায্য করেছে। তিনি শত ব্যস্ততার মাঝেও দৈনিক এক ঘন্টা করে বইয়ের পেছনে সময় দিতেন, কোথাও বেড়াতে গেলে সেখানে লম্বা একটা ব্যাগ নিতেন বই নেওয়ার জন্য। তিনি সপ্তাহে একটা বই পড়তেন এবং বছরে তিনি ৫০টি বই পড়তেন। তিনি বলেন, তার সফল হওয়ার অন্যতম কারন বই পড়া। যার ফলে তিনি মার্কিন শ্রেষ্ঠ ধনকুবের হতে পেরেছেন।
বই মানুষকে সচেতন হতে শেখায়,শেখায় কৌশলী হতে। যারা গোয়েন্দা কল্পকাহিনী পড়ে তারা মানুষের চাহনিকে পড়তে পারে। ব্যক্তির দুই লাইন কথা শুনলে তারা অনেক রহস্য উদঘাটন করতে পারে নিমিষেই। কিশোর মজুমদার বলেন,’যারা বইয়ের পাতা ভালোভাবে পড়তে পারে তারা মানুষের চোখের পাতাও পড়তে পারে।’একটা কলসির মধ্যে যা কিছু প্রবেশ করে তাই বের হয়। মস্তিষ্ক একটা কলসি সদৃশ। এখানে যা রাখা হবে তা আমাদের কলমের মাধ্যমে প্রকাশিত হবে। অর্থাৎ লেখা লেখির যোগ্যতা অর্জিত হবে, যার মাধ্যমে জাতি আলোকিত হবে।
সকালের ব্যায়াম যেমন আমাদের শরীর ভালো রাখে বই পড়া হলো মস্তিষ্কের ব্যায়াম যা আমাদের মস্তিষ্ক ভালো রাখে। বই পড়া হলো মস্তিষ্কে নতুন নতুন তথ্য দ্বারা সজ্জিত করা যার ফলে শব্দ ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়। সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটে। একটা সময় সৃজনশীলতা শিক্ষা করতে করতে গোটা বিশ্বটাকে বই পড়ুয়া ব্যক্তি পাঠশালা মনে করে। তখন তার দৃষ্টিভঙ্গি পালটে যায়, চারপাশে ঘটে যাওয়া বিচিত্র ঘটনা থেকে সে শিখতে থাকে। কবি মোতাহের হোসেন চৌধুরী বলেন,’ পুস্তক অধ্যয়ন ব্যতিত বুদ্ধির জাগরণ সম্ভব নয়।’ বুদ্ধির জাগরণ যখন ঘটবে তখন দেশের মানুষের বৃহত্তর কল্যাণ সাধিত হবে।

আসুন বই পড়ি এবং অন্যকে বই পড়তে অনুপ্রাণিত করি। এর ফলে বদলে যাবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। বদলে যাবে আমাদের পুরোনো চিন্তাধারা৷ যার ফলে শিক্ষার ঝলমলে দ্যুতিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণায় উদ্ভাসিত হবে প্রতিটি বই পড়ুয়া ব্যক্তি।

নাম: মাহফুজুর রহমান সা’দ
প্রতিষ্ঠান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial