ঢাকারবিবার , ৫ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

পত্রিকা-পোর্টালে প্রকাশের জন্য লেখা সাজানোর নিয়ম প্রসঙ্গে

জুবায়ের আহমেদ
নভেম্বর ৫, ২০২৩ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মৃধা প্রকাশনীতে নিয়মিত লেখা পাঠানো সকল লেখকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা খেয়াল করছি তরুণ লেখকদের অনেকেই লেখা পাঠানোর সময় কিছু সহজ ভুল করেন, তার মধ্যে শিরোনাম না দেয়া, লেখক পরিচয় না দেয়া, শিরোনাম ভিন্ন ম্যাসেজে দেয়া, লেখক পরিচয় ভিন্ন ম্যাসেজে দেয়া এবং কলাম ও ফিচারের ক্ষেত্রে প্যারাভিত্তিক লেখা সাজানোর পরিবর্তে একই প্যারায় পুরো লেখা শেষ করছেন। এছাড়াও আরেকটি বড় ভুল হলো দাড়ি, কমা (।,) দেয়ার আগে স্পেস ব্যবহার করা। দাড়ি, কমা (।,) র আগে কোন স্পেস হয় না। বাক্য শেষ হলে সরাসরি (।) দিতে হয়।

এইক্ষেত্রে অবশ্যই লেখকদের আরো সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দায়িত্বশীল হতে হবে। লেখকদের এমন ভুলগুলোর কারনে একটি লেখা পত্রিকা/অনলাইন পোর্টালে প্রকাশের ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এছাড়াও লেখকদের অবহেলা প্রকাশ পায় এতে। কবিতা, গল্প, ফিচার, প্রবন্ধ যাই হোক একটি আদর্শ লেখার ফরম্যাটের নমুনা দিচ্ছি। এভাবে লেখা পাঠানোর জন্য সকল লেখকদের অনুরোধ জানাচ্ছি।

নাগরিক পরিচিতি শুদ্ধিকরণের চ্যালেঞ্জ

একসময় দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র ছিলো না। জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার তালিকা, পাসপোর্ট এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদই ছিলো পরিচয় নির্ধারণের মাধ্যম। একটা সময় পর্যন্ত জন্মনিবন্ধন সনদ ছিলো হাতে লিখিত। ২০০৭ সালে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত¡াবধানে ছবি সহ ভোটার তালিকা (জাতীয় পরিচয়পত্র) প্রণয়নের প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের নাগরিকেরা ছবিযুক্ত জাতীয় পরিচয়পত্র পায়। তৎপর জন্ম নিবন্ধনও ডিজিটাল তথা অনলাইনের আওতায় আনা হয়। একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত পরিচিতির ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও পাসপোর্ট যুক্ত হয়। একই ব্যক্তির একাধিক পরিচিতি এবং পিতা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের নামের সাথে সন্তানদের পরিচয়পত্র ও শিক্ষাগত কাগজপত্রে পিতা মাতার নামের মিল বাধ্যতামূলক করার ফলে নাম ঠিকানায় ভুলের হারও বেড়ে যায়। স্বীকৃত সকল কাগজপত্রে নাম ঠিকানা এক হওয়া আবশ্যক বিধায় নাগরিক পরিচিতি শুদ্ধিকরণের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে দায়িত্ববান কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকেরা।

২০০৭ সালে শুরু হওয়া ছবি সহ ভোটার তালিকা কার্যক্রম একসাথে দেশব্যাপী শুরু হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের কাছে নাম ঠিকানার শুদ্ধতার কোন মানদন্ড না থাকায় একই পরিবারের সদস্যদের নাম, জন্মতারিখ ও পিতা-মাতার নামের গড়মিল রেখেই প্রস্তুত হয় ছবি সহ জাতীয় পরিচয়পত্র। নাগরিক অসাবধানতা এবং কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন অন্যতম সমস্যার নাম সনদপত্র সংশোধন। ভুল হওয়া স্বাভাবিক হলেও সরকার যেখানে বিনামূল্যে জাতীয়পরিচয়পত্র প্রদান করে থাকে এবং নামমাত্র ফি নিয়ে জন্মনিবন্ধন করে থাকে সেখানে সংশোধনের ক্ষেত্রে অধিক ফি নির্ধারণ, আইনগত কার্যক্রম সম্পাদনের ক্ষেত্রে ৩০০/- টাকার নন জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্প ব্যবহার, হলফনামা প্রস্তুত এবং আইনজীবী ফি মিলিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন এবং শিক্ষাগত সনদপত্র সংশোধনের খরচ দরিদ্র মানুষের নাগালের বাহিরে।

এ কথা ঠিক যে, একজন মানুষের একাধিক সনদপত্র এবং স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতার নামের সাথে মিলিয়ে উক্ত সনদপত্র প্রস্তুত করতে হয় বিধায় ভুল হওয়া এবং সংশোধন করা জরুরী। তবে সংশোধনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ যে ফি ধার্য্য করেছে এবং আইনগত যে কার্যপ্রক্রিয়া রেখেছে তা নাগরিকবান্ধব নয়, স্পষ্টত দ্বিচারিতার সামিল। কেননা একজন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ, বিদ্যুৎ বিল, বাড়ীর দলিল কিংবা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ থাকা মানেই তিনি বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক। সেখানে সংশোধনের সময় ফি ধার্য্য করাকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিলেও হলফনামা করে ঘোষণা দেয়া এবং তা ম্যাজিস্ট্রেট সত্যায়িত করার যে নিয়ম তা নাগরিকবান্ধব নয়। এ প্রক্রিয়া স্পষ্টত দ্বিচারিতা ও নাগরিকদের আর্থিক ও মানসিক হয়রানীর মুখে ফেলে দেয়া মাত্র। সংশোধনের ক্ষেত্রে ফি জমা দেয়া এবং অঙ্গীকারনামা ফরম প্রস্তুত করে সেখানে বিস্তারিত উল্লেখে অঙ্গীকারনামা নিয়ে কাগজপত্র সংশোধন করে দেয়াই হতো নাগরিক বান্ধব সিদ্ধান্ত। নাগরিক পরিচিতি সংশোধনের ক্ষেত্রে অসৎ উদ্দেশ্য থাকে অনেকের, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে হলফনামা সম্পাদন ও ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সত্যায়ণ করলেই যে শুদ্ধতার প্রমাণ হয়, তাও ঠিক নয়। একই কার্যক্রম উপরোল্লিখিত অঙ্গীকারনামা ফরমের মাধ্যমেও সম্পাদন করা যায়। এতে নাগরিক হয়রানী ও খরচ কমতো। স্বল্প সময়ে, কমখরচে সহজেই সংশোধন করা সম্ভব হলে ইতিমধ্যে দেশব্যাপী ভুল হওয়া নাগরিক পরিচিতি শুদ্ধিকরণ হয়ে যেত দ্রæততম সময়ের মধ্যে।

এক ব্যক্তির একাধিক ডিজিটাল সনদপত্র অর্থাৎ জন্মসনদ এবং জাতীয়পরিচয়পত্র থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়। যেখানে জন্মনিবন্ধনে নাগরিকের সব পরিচয় থাকে, সেখানে আলাদা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত করা অপ্রয়োজনীয়। কেননা নাগরিক জন্মগ্রহণের পরই তাকে জন্মসনদপত্র দেয়া এবং প্রাপ্ত বয়স্ক হলে সেই জন্মসনদপত্রে ছবি সংযুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্রে রূপান্তর করে দেয়াই হতো স্মার্ট পদপেক্ষ। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নাগরিকের দুটি ডিজিটাল সনদ/পরিচয়পত্র দিয়ে মূলত রাষ্ট্রের খরচ বৃদ্ধি ও নাগরিকদের হয়রানির মুখে ঠেলে দিয়েছেন। পাশাপাশি যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র থাকে এবং পাসপোর্টধারী, তাদের সমস্যা অনেক বেশি। এইরূপ অবস্থায় নাগরিক পরিচিতি শুদ্ধিকরণের জন্য হলফনামা সম্পাদন ও ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সত্যায়ণ তুলে দেয়া কিংবা জন্মনিবন্ধন ও জাতীয়পরিচয়পত্রকে একত্রীভূতকরনের মাধ্যমে নাগরিক সেবা সহজ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবী।

জুবায়ের আহমেদ
শিক্ষার্থী-ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)।
কাটাবন, ঢাকা।

অথবা শিক্ষার্থী পরিচয় দিতে না চাইলে সেক্ষেত্রে লেখার শুরুতে শিরোনামের নিচে লেখকের নাম দিলেই হবে। তখন নিচে আর আলাদা করে শিক্ষার্থী পরিচয় দিতে হবে না।

শুভেচ্ছান্তে
পরিচালনা পরিষদ
মৃধা প্রকাশনী
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial