ঢাকাশুক্রবার , ৩ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

বস্তুবাদী শিক্ষায় আত্মপরিচয়ের অন্তরায়

মৃধা প্রকাশনী
নভেম্বর ৩, ২০২৩ ১:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

“Know Thyself”

উক্তিটি করেছিলেন গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিস। অল্প শব্দই মাঝে মধ্যে প্রায়োগিক দিক দিয়ে গভীর অর্থ বহন করে। ঠিক সক্রেটিসের এই উক্তিটাও সেইম।

Know অর্থ জানা। আবার, Thyself অর্থ নিজেকে।
অর্থাৎ নিজেকে জানো।

আমরা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে মোবাইল ব্যবহার করে থাকি। একটু খেয়াল করে দেখুন,সব মোবাইল কিন্তু একরকম না। গঠনে একরকম মনে হলেও এর ফাংশন কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন। কেন এমন হয়?___ কোম্পানির তারতম্যের কারণে মূলত এই সমস্যা। অর্থাৎ আপনাকে মোবাইল ব্যবহার করার আগে মোবাইল সম্পর্কে জানতে হবে। এটি কোন কোম্পানির? কিভাবে ব্যবহার করতে হবে? এরকম নানান-রকম প্রশ্নের উত্তর আমাদের কে জানতে হয়।
মোবাইলের নির্দেশিকা স্বরুপ ছোট্ট একটি বুক থাকে___ ব্যবহার্য নিয়ম-কানুন সমৃদ্ধ বুক। এখান থেকেই আমরা বিস্তর জেনেশুনে মোবাইলটা সঠিক নিয়মে ব্যবহার করতে শিখি।

এই যে এতক্ষণ মোবাইলের কাহিনি শুনালাম। খুবই বিরক্তিকর না! আসুন আর দেরি না করে এর কারণটার দিকে থাকায় এইবার।

ছোট্ট একটা মোবাইল ব্যবহার করতে গেলে যদি তার সম্পর্কে জানতে হয় তাহলে আমাদের নিজেদের সম্পর্কে না জানলে কি চলবে? __ নিশ্চয়ই না।

আমি কে? আমাকে কে সৃষ্টি করলো? কোথা থেকে আসলাম? কেনইবা এখানে পাঠানো হলো? কোথায় যাবো আবার? নিজেকে জানতে গেলে অবশ্যই এ প্রশ্নগুলোর সম্মুখীন হতে হয়। এর উত্তর গুলো আমরা পাবো কই? __ অবশ্য নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থায়। নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থা যদি এইসব উত্তর দিতে না পারে তাহলে আমরা এটাকে শিক্ষা বলতে পারব না বড়জোর কারিগরি প্রশিক্ষণ বলতে পারি। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় এর দৈন্যতা লক্ষ্য করছি। নিজেকে জানার যে একটা খোরাক সেটা অবর্তমান বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায়। যা আছে তাও ধীরে ধীরে মুছে ফেলার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে।

এভাবে চলতে থাকলে আমরাও একদিন অস্তিত্ব সংকটে ভোগব। গড়ে ওঠবে বস্তুবাদী সভ্যতা পুরোপুরি। যেখানে নীতি-নৈতিকতার কোন বালাই থাকবে না। যা আমরা পাশ্চাত্যে দেখতে পাচ্ছি।

মোবাইল কোম্পানি যেমন মোবাইল সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য একটা নির্দেশিকা বই সাথে দিয়ে দেই ঠিক তেমনি আমাদের সৃষ্টিকর্তাও আমাদেরকে তার নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই, আদিলগ্ন থেকে যুগে যুগে বার্তাবাহক পাঠিয়েছেন আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালা। তারই প্রেক্ষিতে আমরা পেলাম সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ সা. কে। আল্লাহ তায়ালা তার ওপর মানবজাতির গাইডলাইন হিসেবে কুরআন নাজিল করেছেন। এখানে সব বিবৃত আছে। আমাদের সৃষ্টিকর্তা কে? আমরা কে? আমরা কোথা থেকে আসলাম? কোথায় যাবো আবার? মৃত্যুর পর কি হবে? জীবনটা কিভাবে পরিচালনা করব সব কুরআনে দেওয়া আছে।

কিন্তু আজ আমরা নিজ পরিচয়ের দৈন্যতায় ভুগছি। বস্তুবাদী শিক্ষায় আমরা একেকজন পশুজাত হয়ে ওঠছি দিন দিন। বরং পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট কাজ করতে আমাদের দ্বিধা লাগে না। সাম্প্রতিককালের একটা ঘটনা তো আপনারা ইতিমধ্যেই অবগত হয়েছেন যে, একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষকের ওপর কিভাবে তার পশুত্বের পরিচয় দিলো। এই যে ঘটনাটা গঠল এখান থেকে আমাদের বার্তা কি?____ আসলে আমরা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছি না। আমাদের শিক্ষাটা হচ্ছে প্রতিযোগিতার। কিসের প্রতিযোগিতা? ____ এইতো অর্থের প্রতিযোগিতা। যা মূল্যবোধকে উজ্জীবিত করবে দূরের কথা বরং নিম্নমুখী করছে আরো।

চরিত্রের কালো কালিতে আজ পুরো মানবগোষ্ঠীই দংশিত হচ্ছি। চৈতন্য লোপ পাওয়ার পথে। এখনো যদি আমরা সচেতনতার তীর বুকে ধারণ না করি, হয়তো সেইদিন আর বেশি দূরে নই যেদিন আমরা অমাবস্যার অন্ধকারে নিমজ্জিত হবো। যেদিকে তাকাবেন শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার দেখবেন। অন্যের সাহায্যে নিজেকে তুলে ধরবেন দূরের কথা নিজেই নিজের পথ পাবেন না বাঁচার জন্য। তারপরও কি আমাদের চৈতন্য ফিরবে না? আমরা কি আলো থেকে অন্ধকারে নিমজ্জিত হবো? এভাবেই কি আমাদের জীবনবৃত্তান্ত সাজাবো? ___ জানি আজ এই প্রশ্নেরও উত্তর আমরা দিতে পারবো না। কেননা আমরা সাপের রাজ্যে বসবাস করে সাপকে ভয় দেখাই কেমনে? অর্থাৎ আমদের শিক্ষায় যেখানে বস্তুবাদী সেখানে আমরা কেমনে আত্মপরিচয় দেখাই?

একটা সামান্য মোবাইলও যদি গাইডলাইন ছাড়া চলতে না পারে, তাহলে মানব হয়ে আমরা কেমনে চিন্তা করি আমার যেমন ইচ্ছে তেমন করে চলতে পারি? ফলাফল একটাই ভুলের সাগরে ভাসতে ভাসতে একদিন নিজেও আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মতো হারিয়ে যাবো। বস্তুত আমার দেহ সত্তা টা হারিয়ে যাবে কিন্তু আমার কর্ম তো রয়ে যাবে। সেটার ফিডব্যাক পাবো সঠিক সময়ে। আপনার বোধের জায়গা থেকে বিশ্বাস না করলেও কিছু করার নেই। ঘুমের অভিনয় করা ব্যক্তি কেমনে অন্যের ডাকে নিজেকে জাগিয়ে তুলবে? ঠিক তাই হচ্ছে আজ।

সদ্য ছড়িয়ে পড়া কিরণে নিজেকে জাগিয়ে তুলুন। ভাবুন আত্মপরিচয়। খুঁজুন মহাবিশ্বে নিজের অস্তিত্ব কেন?

ঐশীবাণী থেকে আমরা যতই দূরে সরে যাবো ততই বস্তুবাদী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ওঠবো। যেখানে অশান্তির প্রতিযোগিতা ছাড়া আর কিছুই পাবেন না।

সক্রেটিসের মতো বলি, নিজেকে জানোন। যে শিক্ষা নিজেকে চিনাতে পারে না সে শিক্ষা থেকে দূরে সরে আসুন।

আকিল
বাংলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial