ঢাকামঙ্গলবার , ৩১ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

মানবিকতা কি শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতেই!

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ৩১, ২০২৩ ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সালটা ২০২৩। সময় যত গড়িয়েছে, সময়ের সাথে সাথে মানুষের ভিতরের পরিবর্তন টাও এসেছে। তবে সময়ের পরিবর্তনের মত মানুষের পরিবর্তন মোটেও সুখকর নয়। কেন? এরিস্টটল বলেছেন, মানুষ সামাজিক জীব। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় সামাজিকতা কি আদৌও আর পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ রয়েছে? দৈনন্দিন জীবনে রাস্তা ঘাট থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে স্তরে প্রতিনিয়ত একজনের সাথে অন্যজনের খুবই সামান্য কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আগের সাথে এখনকার ঝামেলার পার্থক্য কী? আগে ঝামেলা হলে দেখা যেত তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ। যার ফলে ঝামেলা দীর্ঘক্ষণ থাকা সম্ভবপর ছিল না। এবং সামাজিক শান্তি বিরাজ করত। কিন্তু বর্তমানে আমরা প্রত্যেকেই প্রতিনিয়ত এই তৃতীয় পক্ষের অভাব লক্ষ্য করছি। কেন?

 

সামাজিক জীব হিসেবে নিজেকে দাবি করলেও প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ সংঘাতের স্থানে উপস্থিত থাকলেও সকলকে সমস্যা সম্পর্কে অবহিত করতে মোবাইলের ভিডিও অপশন বার করে পরে দেখে আফসোস করার জন্য। তার স্বজনকে শিক্ষা দেয়ার জন্য যে কী অবস্থা এই দেশের। আবার কেউ কেউ তো এতই সচেতন যে নিজের মেগাবাইটের পরোয়া না করে সরাসরি ফেসবুক কিংবা ইউটিউব লাইভে চলে যায়। খবরের শিরোনামে থাকবে “দেখুন একি হল”। কিন্তু একটু কষ্ট করে সেখানে গিয়ে বিদ্যমান ঝামেলা দূর করার মত ছোট কাজ তাদের মধ্যে সৃষ্টিই হয় না। এখানেই শেষ না। বাসে ভাড়া নিয়ে বাসের স্টাফ দের সাথে ঝামেলা। যেখানে আমার মত ছাত্ররাই বেশি ভুক্তভোগী হয়৷ কিন্তু সিনিয়র সিটিজেন কিংবা অন্য কোন ছাত্রের হস্তক্ষেপ না থাকায় বাসের স্টাফদেরই সেখানে বিজয়ীবেসেই দেখতে পাওয়া যায়।

দেশে কোনো বিষয়ে আন্দোলন হলে পথে মানুষ না থেকে সকলে থাকে ফেসবুক লাইভে। সেখানে কমেন্টে দেখা যায় – “সাথে আছি”, “এগিয়ে যাও”, “সফল হোক” ইত্যাদি । যাদের অনেকেই ‘সোশ্যাল মিডিয়া সৈনিক’ বলে আক্ষ্যায়িত করে থাকেন। ফিলিস্তিনে সাম্প্রতিক সৃষ্ট যুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোর থেকে তারা কীভাবে সাহায্য কামনা করছে এ সকলেরই জানা। কিন্তু আমরা কী করছি?তাদের জন্য সৈন্য পাঠিয়েছি? চিকিৎসার সরঞ্জাম দিয়েছি? অর্থসহযোগিতা? বেশিরভাগ মুসলিম দেশই তা করেনি। তার বদলে করেছি কি? সামাজিক মাধ্যমগুলোতে তাদের পক্ষে হাজারো পোস্টার, তাদের পক্ষে হ্যাস্টাগ, ইসরাইল কে অনলাইনে হেনস্তা, ইসরাইলের পক্ষের গোষ্ঠীকে যাচ্ছে তাই বলা, বিপক্ষের সাথে কমেন্ট সেকশনে ঝগড়া আরও কত কী!

ইরান, সিরিয়া, কাস্মীম পেক্ষাপটকেও কেন্দ্র করে একই কথা বলা চলে। এগুলো করে আমরা নিজেদেরকে যদি ই-মানবতার অধিকারী বলি তাহলে খুব বেশি ভুল হবে বলে মনে হয়না
সামাজিকতা, মানবিকতা, বিবেক জাগ্রত যত দ্রুত সম্ভব করার মধ্যেই মঙ্গল রয়েছে৷ না হলে মানুষের আর সামাজিক জীব হিসেবে বেশিদিন থাকা সম্ভব হবেনা। একজনের উপর থেকে বিশ্বাস অপরজনের একেবারে উঠে যাবে৷ হোক সে বন্ধু হোক সে পরিচিত আত্মীয়। ছোট বেলায় পড়া গল্পের মত যেন না হয় যেখানে বাঘ এসে সব মহিশকে আলাদা করে দিয়ে একে একে খেয়ে নৈশ্যভোজ করে। এখনই সময় নিজেদের সচেতন করা কেননা আসছে প্রযুক্তির জোয়ার আরো প্রবল।

আহনাফ আসেফ মাহিয়ান
শিক্ষার্থী, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
01842573863
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম এর সদস্য
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial