ঢাকামঙ্গলবার , ৩১ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

একটি পাখির মহাকালযাত্রা

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ৩১, ২০২৩ ১:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

একদিন হুট করে একটা পাখি প্রচন্ড জোরে ডানা ঝাপটিয়ে উড়ে যাবে ওই মহাকালের আকাশে। যেন একটা তরতাজা চিরযৌবনা নব যৌবনের উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত ধবধবে সাদা রঙের পাখি বহুকাল যাবৎ গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে তৃষ্ণার্ত হয়ে নীরস পাথরে জন্ম নেয়া এক বিরাট অশ্বত্থ গাছের ডালে বসে হিমচাঁপা ফুলের সুভাষ মাখা এক চিমটি দক্ষিণা বাতাসের অপেক্ষা করতে করতে শিকারীর হাতে পরে পূর্বসূরীর রক্ত না শুকানো এক লোহার খাঁচায় কাঁটানো বন্দী জীবন থেকে হঠাৎ ছাড়া পেয়েছে।
ডানা ঝাপটানোর শব্দে ছুটে এসেছে বহু লোকজন পাখির আলয়ে। তারা এসে দেখছে, রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়রা হাউমাউ করে কাঁদছে তন্মধ্যে একজনের কান্না একদমই ভিন্ন রকম, তার চোখের পানি যেন একটু বেশিই টলটলে পরিষ্কার আর খরস্রোতা বহমান। খোঁজ নিয়ে জানতে পারল ইনিই সেই মহিলা যিনি বেশি জোরে শব্দ করে কথা বলার ভয়ে সবসময়ই জমায়েত এড়িয়ে চলত, কিন্তু তার কান্নার চিৎকার আজ বড়ই বেশি কানে বাজছে, যেন কানের ভিতরে বসে কেউ বিরতিহীনভাবে সাউন্ড গ্রেনেড মারছে। সেই কান্নার আসরে আগত দর্শকদের একজন একেবারেই অন্যান্য অতিথিদের থেকে সম্পূর্ণই আলাদা, সে যেন বুঝতে পারছে সেই আর্তচিৎকারের ভাষা, যেন তাদের উদ্দেশ্য করেই আহাজারি করছে সেই মহিলাসহ সবাই, এমনকি সেখানকার বাতাসও ফুঁপিয়ে কাঁদছে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে।
কেউ তার দিকে কিঞ্চিৎ ভ্রুক্ষেপ করছে না অথচ সে ভাবছে সবাই যেন তার দিকে তাকিয়ে আছে কৌতূহলী চোখে যেন তারা প্রথমবার কোনো ‘মানুষ’কে দেখছে। সব পাশ কাটিয়ে আস্তে আস্তে এগিয়ে গেল আরেকটু সামনে যেখানে কিছু মানুষ গোল হয়ে দাঁড়িয়ে মুখে কি যেন বিড়বিড় করছে, কোনোমতে ভীড় ঠেলে সামনে যেতেই চোখে পড়ল, দুধের ন্যায় ধবধবে সাদা একটা কাপড়ের নিচে কে যেন হাত পা সোজাকরে লম্বা হয়ে শুয়ে আছে। হৃৎপিণ্ডটা অস্বাভাবিক হারে বিট দিতে থাকলো, ভয়ে বুকটা যেন শুকিয়ে আসল পথিকের, ভয়ের কারণ অবশ্য কোনোক্রমেই উদঘাটন করা গেল না। আস্তে আস্তে আরেকটু সামনে গিয়ে শুয়ে থাকা মানুষটার মাথার কাছে গিয়ে বসল, কাঁপা কাঁপা পেশিবহুল ইস্পাত-দৃঢ় হাতটা দিয়ে মুখের ওপরের কাপড়টা সড়াতে লাগলো অতি সাবধানে, এত সাবধানে যেমন সাবধানতায় ভাদ্র মাসের ভ্যাপসা গরমে রোদে শুকোতে দেয়া পাটকাঠিতে বসা ফঁড়িং ধরার উদ্দেশ্য হাত এগিয়ে দিত ফঁড়িং এর লেজ এর কাছে। কোনোমতে কাপড় সরানোর সাথে সাথেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে উঠলো, নিষ্পলক, নির্বাক। আগন্তুক দেখতে পেল, চুপ করে শুয়ে আছে দুচোখ আলতো বন্ধ করে একটা লাশ, চেহারাটা বড়ই পরিচিত, চিনতে এতটুকুও স্মৃতি হাতরাতে হয়নি কষ্ট করে, বহুকাল আগে দেখা ঘুমের দৃশ্য আর আজকের ঘুমের দৃশ্যের মধ্যে শুধু একটাই মৌলিক তফাৎ আজ নিঃশ্বাস চলছে না শুধু। বুকের ছাতি যেন ফেটে যাচ্ছে পথিকের নিজের ভেতরে আবিষ্কার করল কারবালার পিপাসায় কাতরাতে থাকা ইমাম হোসেন কে। কোনোমতে ঢোক গিলে বসা অবস্থায় মাথা তুলে আসমানের দিকে তাকাল আগন্তুক, মনের সুখে ডানা মেলেছে পাখি, সহস্র চেষ্টাতেও আর ফেরানো যাবেনা তাকে। কিন্তু পূর্বেকার ন্যায় চিৎকার দিয়ে “পাখি” বলে ডাকতে চাইলো ব্যর্থভাবে, ভূতকালে পাখিকে ফেরাতে অসংখ্যবার যে ডাক অব্যর্থ তীরের ন্যায় লক্ষ্যে বিধে সফল হয়েছে।
কিন্তু আজ প্রাণপণ চেষ্টা করেও বাগযন্ত্র কম্পিত করার মত বাতাস ফুসফুস থেকে বের করতে পারল না। কর্ণ ইন্দ্রিয় যেন শুনতে পাচ্ছে পাখি হাসতে হাসতে উড়ে যাচ্ছে মহাকালে, আর বলছে, ” স্মরণ সভায় অনেক প্রশংসা করে অশ্রুলিপি পাঠ করিও কাতর কন্ঠে, সেটা খোদাই করে এপিটাফ করেও দিতে পারো আমার সমাধিতে। আমি সম্রাজ্ঞী মেহেরুন্নিসা ওরফে নূরজাহানের মত বলব না,

‘এই নগণ্য আগন্তুকের কবরের ওপর,
না কোনো প্রদীপ থাক,
না কোনো গোলাপ,
না কোনো প্রজাপতির পাখা পড়ুক,
না কোনো বুলবুলি গান গাক।’
কারণ মৃত্যুর পর আমার কাছে কিছুই পৌঁছাবে না সবই মূল্যহীন”।

জিএমকে শেখ
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial