ঢাকারবিবার , ২৯ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

সুখী হতে কে না চায়!

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৯, ২০২৩ ৫:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সুখ এই জীবনের যেন পরম চাওয়া। কিন্তু অনেক কিছু যেমন মন থেকে চাইলেই পাওয়া যায়, সুখ কিন্তু তেমন কোনো অতিসাধারণ অবজেক্ট নয় যেটা আপনি চাইলেন আর পেয়েও যাবেন। এই সসীম দুনিয়ার অসম একটি বিষয় সুখ।আর সে কারনে বোধ হয় মানুষ মাত্রই যেমন মরণশীল তেমনি আজ এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যাকে কিনা সুখের পেছনে দৌড়াতে দেখা যায় না। আপনিও নিশ্চয়ই এর বাইরে যাবেন না। কিন্তু সুখ তো অধরা। যদি এই অধরা বিষয়টিকেই একটি নির্দিষ্ট সাচেঁ ঢেলে সাজানো যায়, তখন?! অদ্ভুত তো! এটা আবার হয় নাকি!? হ্যা,হয়। অনেক দার্শনিকই সুখকে একটি পাল্লায় ঢেলে নানান ভাবে সাজানোর চেষ্টা করেছেন এবং করছেন। কেউ বলছেন, সুখ এটা অদৃশ্য অনুভূতি। যা হৃদয় কে অনুভব করা যায় আবার কেউ বলছেন, সুখ তো কয়েকটি দৃশ্যমান অনুভূতিরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র।হাসি,ঠাট্টা, মজা,আনন্দ, বেদনা ইত্যাদিরই সমন্বিত সন্নিবেশন। তাঁদের কথায় যেমন ভিন্নতা রয়েছে, ঠিক তেমনি ভাবে সুখ আবার শতাব্দী টু শতাব্দী ভ্যারি করে।সহজ কথায় এই শতাব্দীতে সুখের যে সংজ্ঞা রয়েছে, আগামী শতাব্দীতে ঠিক সেই সংজ্ঞা বা ধারণা এজ নট সেইম।যেমন ধরুন, অষ্টাদশ শতকে সুখ বলতে বুঝাতো “সমৃদ্ধি, উন্নতি এবং সুস্থতা”।
আবার বর্তমান শতাব্দী বলছে,, “সুখ একটা আপেক্ষিক বিষয়”। ঠিক দুই শতাব্দী আগেই যেটা সমৃদ্ধি, উন্নতি আর সুস্থতার উপর দাড়িয়েছিল, এই শতাব্দীতে এসে তা আপেক্ষিকতার আকার ধারণ করেছে।

যাই হোক,শতাব্দি আর যুগ সমস্বরে না চললেও দার্শনিকদের ভিড়ের মধ্যে থেকে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও সর্বজনস্বীকৃত যেই ধারণাটি এখনও টিকে আছে তা হলো, সুখ মানেই আত্মিক সুকুন বা প্রশান্তি। মানে আত্মা বা হৃদয়ের প্রশান্তিই আসল প্রশান্তি। আত্মা বা হৃদয়কে মানুষ জীবনের একটা প্রাইম অবজেক্ট বা মূল বিষয় বলা হয়। আত্মাকে ঘিরেই একটা মানুষের সুখ বা অসুখ ওঠানামা করে।
তাহলে আত্মার প্রশান্তির বিষয়টা যখন আসে,তখন আত্মা তার স্রষ্টার কাছে বলে, হে স্রষ্টা বলে দাও, আমি কিভাবে প্রশান্ত হবো? কখন আমি তুষ্ট হবো!? স্রষ্টা তখন বলে দেয়, ❝আমার স্মরনেই কেবল তুমি তুষ্ট হতে পারো!❞
মহান রব ইরশাদ করেন,। ❝আল্লাহর স্মরণই হচ্ছে এমন জিনিস যার সাহায্যে চিত্ত বা হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে❞।
(সূরা রাদ, ২৮)

প্রসঙ্গত এক দার্শনিক বলেছিলেন, মানুষের আত্মার প্রশান্তি হয় সাধারণত দুটি মাধ্যমে। এক,এক্সাইটমেন্টের মাধ্যমে এবং দুই, নিরবে নিভৃতে স্রষ্টার স্মরনে। হাসি-তামাশা,নাচ,গান-বাজনা পার্টি,হৈ-হুল্লোড়ের মাধ্যমে যে শান্তি টা পাওয়া যায় তা আসলে হৃদয়কে প্রশান্ত করতে পারে না। শুধু সাময়িক একটা শান্তি দেয়। কিন্তু ঠিক পরক্ষণেই হৃদয় এক শূন্যতা অনুভব করে। মনে হয়, কিছু একটা তাকে সাময়িক শান্তি দিয়েই দিলো না। লা পাত্তা।তার আর দেখা মেলে না।তখন শূন্যতার তান্ডবে হৃদয়টা ধীরে ধীরে খান খান হয়ে যায়। আর এই সাময়িক শান্তিটা ধারাবাহিক আসা আর যাওয়ার ফলে শান্তি আসছে আবার শূন্যতা। দিন শেষে হৃদয়টা একদিন পাথর হয়ে যায়। তখন আর এসবে অন্তর শান্ত হয় না। হয়ে যায় অশান্ত। বিশ্ব আজ এই অশান্ত হৃদয়ের হুংকার-তান্ডবে ও আধিক্যে মর মর হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়তই।কোথাও দু-দন্ড শান্তি পাওয়া যায়। শান্তির খোঁজে মানুষ আজ পাগলপাড়া।।

অন্যদিকে, কেউ যখন নিরবে নিভৃতে স্রষ্টার স্মরনে অর্থাৎ কুরআনে কারিম তেলওয়াতে মশগুল থাকে,নদীর পাড়ে বসে শান্ত হাওয়ায় স্রষ্টার স্মরনে নিজের অন্তরকে সজীব রাখে, স্রষ্টার নেয়ামতের প্রতি শুকরগুজার হয় তখন সে আত্মিক ভাবে এমন এক প্রশান্তি অনুভব করে যা হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়।এই হৃদয় নাড়িয়ে দেয়া দোলা কোনো সাময়িকী দোলা নয় যেটা এক্সসাইটমেন্টের মাধ্যমে অনুভূত হয়,এটা এমন এক কাহন যা অন্তরকে সজীব রাখে সর্বময়। এতে হৃদয় তুষ্ট হয়,পরিতৃপ্ত হয়। আর সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো,এটার ফলাফল খুবই দৃশ্যমান ও অন্যকে প্রভাবিত করে। ফলে একজন প্রশান্তি আত্মা অন্য আরেক আত্মাকেও প্রশান্ত করতে পারে,সজীব রাখতে পারে। এ যেন পরশ পাথর যার ছোঁয়ায় অন্যেরাও আলো খুঁজে পায়।

আবিদ হাসান রাফি
আরবি বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
abidhasanrafi17@gmail.com

Please follow and like us:

তারুণ্যের কথা সর্বশেষ
এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial