ঢাকারবিবার , ২৯ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

ব্যর্থতার দায়ভার কার!

জুবায়ের আহমেদ
অক্টোবর ২৯, ২০২৩ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ২০২৩ এ ৬টি ম্যাচ খেলে প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় ব্যতীত গতকাল নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজয় সহ টানা ৫ ম্যাচ পরাজয়বরণ করেছে বাংলাদেশ। ২০১৯ বিশ্বকাপে শক্তিশালী উইন্ডিজ ও সাউথ আফ্রিকাকে হারানো সহ ৩টি জয় পাওয়া বাংলাদেশ দল ২০২৩ বিশ্বকাপে আরো বড় স্বপ্ন দেখা ও পূরণ করার বিপরীতে ব্যর্থতায় নিমজ্জিত থাকার দায়ভার নিয়েই আলোচনা করতে চাই।

যারা মাঠে পারফর্ম করে, সেই ক্রিকেটারদের দায় অবশ্যই আছে। তবে আমাদের যেতে হতে পারফর্ম করার সামর্থ্য অর্থাৎ গোড়ার দিকে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নাম বিসিবি। যাদের কাজ কোচ নিয়োগ দেয়া, নির্বাচক নিয়োগ দেয়া, উইকেট (পিচ) কেমন হবে তা ঠিক করা। কেমন ক্রিকেটারকে দলে আনা হবে, তা ঠিক করা। এই কাজগুলোতে যদি গলদ থাকে, তাহলে ক্রিকেটারদের থেকে ভালো খেলা আদায় করা কঠিন কাজ অবশ্যই।

ক্রিকেট ফুটবলের মতো খেলা নয়। ক্রিকেটে উইকেট বড় ফ্যাক্টর। সেখানে আবার ব্যাটিং উইকেট, বোলিং উইকেট, স্পোর্টিং উইকেট, বোলিংয়ের মধ্যে আবার স্পিন উইকেট, পেস উইকেট। এইসব ডিপার্টমেন্টগুলো নিয়েই একটি দলের শক্তিমত্তা কিংবা ব্যর্থতা নির্ধারণ করা হয়। হোম সিরিজ ব্যতিত কোন দলই এইসবগুলো ডিপার্টমেন্টে শক্তিশালী নয়। ফলে আপনি কোথায় খেলতে যাচ্ছেন এবং কি উইকেটে খেলতে যাচ্ছেন কিংবা আপনার সামর্থ্য কেমন এগুলো অবশ্যই বিচার্য্য বিষয়।

২০১৯ বিশ্বকাপ স্পোর্টিং (ব্যাটিং/বোলিং বান্ধব অর্থাৎ সমতা) উইকেটে হয়েছে, যেখানে মোটামুটি ভালো খেলেছে বাংলাদেশ। দল। তারপর দীর্ঘ ৪ বছর অতিক্রান্ত হইলেও ঘরের মাঠে বোলিং নির্ভর উইকেট তৈরী করে কিছু সফলতা পাওয়া গেলেও বিশ্বকাপের স্পোর্টিং উইকেট এবং চলতি বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর পূর্বে আইসিসি ব্যাটিং উইকেট তৈরীর নির্দেশনা দিলেও সেমতে কোন প্রস্তুতি না নেয়ার পুরো দায়ভার বিসিবির কাঁধে বর্তায়।

এছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিব-তামিম দ্বন্ধ এবং ক্রিকেটারদের সাথে বোর্ডের দ্বন্ধ মিলিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ছিলো না বিশ্বকাপ দল গঠনের পূর্বে। তামিমের হঠাৎ সিরিজের মাঝপথে অবসর নেয়া, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ফেরানো। তারপর নিউজিল্যান্ড সিরিজে খেলে বিশ্বকাপ যাত্রায় অপেক্ষায় থাকার মুহুর্তে বোর্ডের এক কর্তাব্যক্তি কর্তৃক তামিমকে প্রথম ম্যাচে ওপেনিং বাদ দিয়ে মিডল অর্ডারে খেলার প্রস্তাব দেয়া, তামিম সেটায় রাজী না হয়ে বোর্ডের কর্মকান্ডকে নোংরামি বলা, তামিমকে বিশ্বকাপ দলে না নেয়া, সাকিব কর্তৃক টি স্পোর্টসের সাক্ষাতকারে তামিমের বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা, বিশ্বকাপে গিয়ে আফগানিস্তানকে হারিয়ে শুরু করলেও পেসার খেলানো না খেলানো নিয়ে কোচের সাথে অধিনায়কের মনোমালিন্য হওয়া, এগুলো প্রকাশ্যে আসা। সবমিলিয়ে অন্যান্য ৯টি দলের বাহিরে একমাত্র বাংলাদেশ দলেই কোন্দল এবং যথাযথ প্রস্তুতিবিহীন বিশ্বকাপ খেলতে আসা দলে পরিণত হয় এবং ফলাফল নেদারল্যান্ডের বিপক্ষেও পরাজয়।

বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচগুলো পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলংকার বিপক্ষে। সেইসব ম্যাচে কেমন ফলাফল হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। বাংলাদেশ যদি জিতেও যায় কোন ম্যাচে, তাতেও ব্যর্থতার পরিবর্তে সফলতা বলা যাবে না। কারণ, উল্লেখিত বিষয়গুলো মিলিয়ে যে পরিস্থিতিতে আছে বাংলাদেশ দল, এটি কোন আন্তর্জাতিক দলের সার্বিক চিত্র হতে পারে না।

সাকিব আল হাসান আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন যে, বিশ্বকাপ শেষে তিনি আর অধিনায়কত্ব করবেন না। ফলে সাকিবের অধিনায়কত্বের সমালোচনা হলেও তার থেকে অধিনায়কত্ব কেড়ে নেয়ার সুযোগ নেই। অপরদিকে হেড কোচের ব্যর্থতার ফলে তাকে অবশ্যই বিদায় জানাতে হবে। সেই সাথে বোর্ডের কর্তাব্যক্তি এবং নির্বাচকদের বিদায় জানানোর মাধ্যমে বিশ্ব ক্রিকেটের বর্তমান যে চিত্র, সেই চিত্রের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার কাজ অবশ্যই করতে হবে।

Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial