ঢাকাশনিবার , ২৮ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
  1. আইন
  2. ইতিহাস
  3. ইসলামী সঙ্গীতের লিরিক্স
  4. কবিতা
  5. কিংবদন্তী কবিদের কবিতা
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গল্প
  9. চিঠিপত্র
  10. জনপ্রিয় বাংলা গানের লিরিক্স
  11. তারুণ্যের কথা
  12. ধর্ম
  13. প্রবন্ধ
  14. প্রযুক্তি
  15. ফিচার

প্রিয়ন্তির আত্মচিৎকার

মৃধা প্রকাশনী
অক্টোবর ২৮, ২০২৩ ১:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রিয়ন্তির মৃত দেহটা পড়ে আছে বারান্দার ঠিক ডান দিকের রুমটার ফ্লোরে। কোনো আর্তনাদ নেই,নেই চিৎকার, কিংবা কারো আফসোস বা স্বজন হারানোর বেদনা। এমন মনে হচ্ছিল আসলে কেউ মারাই যায়নি। প্রিয়ন্তির নিথর দেহটা যেন অস্ফুট,নিগূঢ় ব্যথায় একান্ত মনে হাউমাউ করে কাঁদছে।
প্রিয়ন্তি খুব চুপচাপ আর  শান্তস্বভাবের মেয়ে ছিল।তার  বয়স যখন ষোলো, তখনই তার বাবা তাদের ছেড়ে চলে যায়, বছর কয়েক পর তার মা ও আরেকজনের হাত ধরে চলে যায়। প্রিয়ন্তি খুবই অসহায়, সহায়সম্বলহীন হয়ে পড়েছিল। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি প্রিয়ন্তির বেশ আগ্রহ ছিল, প্রতিবার ভালো ফলাফলও করত সে। তাই কষ্ট করে হলেও সে চেয়েছিল তার পড়াশোনাটা চালিয়ে যাবে। তাই সে তার এক অনাত্মীয় আন্টির কাছে চলে যায়। প্রিয়ন্তিকে তিনি আশ্রয় দেন তার ঘরে। প্রিয়ন্তির সেই আন্টি ছিলেন ধনাঢ্য, প্রভাবশালী মহিলা। প্রিয়ন্তির সাথে তার আন্টি প্রথম দিকে খুব ভালো আচরণ  করলেও আস্তে আস্তে তার রূপ বদলাতে থাকে,বদলাতে থাকে চোখের চাহনি।
প্রিয়ন্তি  একটি কলেজের ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়েছিল৷ তো প্রিয়ন্তির আন্টি চাইছিল না সে আর পড়াশোনাটা করুক। তিনি প্রিয়ন্তিকে দিয়ে ঘরের সমস্ত কাজ করাতেন,মাঝে মাঝে কাজে একটু গড়মিল হলেই প্রিয়ন্তিকে তিনি মারধর করতেন। এভাবেই হুমড়ি দুমড়ি খেয়ে প্রিয়ন্তির দিন অতিবাহিত হচ্ছিল। তো কলেজে পড়ার সুবাদে একদিন  প্রিয়ন্তির সাথে একটা ছেলের পরিচয় হয়, প্রিয়ন্তির প্রতি তার ভালোলাগা কাজ করতে শুরু করে এবং  একটা সময় ভালোবেসে ফেলে দুজন দুজনকে। দিন এভাবেই যাচ্ছিল। প্রিয়ন্তির সেই আন্টিও প্রিয়ন্তির প্রতি নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছিল। আসলে সে বাড়িতে প্রিয়ন্তিকে কেবলই একটি ‘কাজের মেয়ের’ হিসেবে দেখা হতো। তাকে প্রতিদিনই নির্যাতন করা হত,বাজে ভাষায় গালিগালাজ করা হত। একটা সময়  ঠিক মতো পড়াশোনা তো দূরের কথা খাওদাও করতে দিতো না৷ প্রিয়ন্তি আর এসব সহ্য করতে পারছিল না।এই সহজ সরল একটা মেয়ের জীবনে নেমে এলো নিষ্ঠুরতা।  একটা মানুষ আর কত  পারে; এতসব ঝামেলায় টিকে থাকতে? তাই প্রিয়ন্তি তার প্রেমিককে সব জানায়, তখন প্রিয়ন্তি তার প্রেমিককে  বলে তাকে বিয়ে করতে। তখন ছেলেটা জানায় সে তার ফ্যামিলির মতের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবে না। তাদের কথামতোই সে সব করে। সে প্রিয়ন্তিকে সোজাসাপ্টা বিয়ের কথায় ‘না ‘ বলে দেয়৷ সেদিনের মতো প্রিয়ন্তি একবুক হতাশা আর গ্লানি নিয়ে সেখান থেকে ফিরে আসে৷ তার আপন বলতে কেউ নেই, কেউ তাকে দু-দন্ড ভালোও বাসেনি। এত এত আঘাত আর গ্লানি সহ্য করতে না পেরে প্রিয়ন্তি সুইসাইডের সিদ্ধান্ত নেয়। সেদিন দুপুর দুটো নাগাদ প্রিয়ন্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে৷ তাতে কারো কিছুই যায় আসেনা, তার লাশের পাশে কেউ নেই, না কেউ ছিল আগে। এভাবেই পড়ে আছে, একটি কাজের মেয়ের নিথর দেহ!
একটি হেরে যাওয়া মেয়ের গল্প পড়ে আছে অমলিন চোখে।
হৃদয়,
ইতিহাস ডিপার্টমেন্ট
ঢাবি
Please follow and like us:

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial